kalerkantho

শনিবার । ৮ কার্তিক ১৪২৭। ২৪ অক্টোবর ২০২০। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

এ সপ্তাহের সাক্ষাৎকার : টিপু মুনশি বাণিজ্যমন্ত্রী

মজুদ পেঁয়াজে চোখ বুজে ৩ মাস চলবে

অনলাইন ডেস্ক   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০২:০২ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



মজুদ পেঁয়াজে চোখ বুজে ৩ মাস চলবে

কোনো ধরণের পূর্বাবাস না দিয়েই ভারত হঠাৎ করে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ায় দেশের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। আতঙ্কিত হয়ে সাধারণ মানুষ প্রয়োজনের চেয়ে বেশি পেঁয়াজ কিনতে থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিচ্ছেন। তবে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণ পেঁয়াজের মজুদ রয়েছে। এই মজুদ দিয়ে আগামী আড়াই থেকে তিন মাস চোখ বুজে চলা যাবে। বিকল্প বাজার থেকেও পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবারও ৫০ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। কালের কণ্ঠকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন এম সায়েম টিপু

কালের কণ্ঠ : পেঁয়াজের বাজারে হঠাৎ এই অস্থিরতা কেন?

বাণিজ্যমন্ত্রী : দেশে এবং ভারতে পেঁয়াজের দাম একটু বাড়তির দিকে ছিল। আমাদের প্রত্যাশা ছিল ভারত হঠাৎ রপ্তানি বন্ধ না করে গত বছরের মতো ন্যূনতম দাম বেঁধে দেবে। কিন্তু দেখা গেল হঠাৎ করে তারা পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। ফলে আমাদের ওপর চাপ পড়েছে। এ কারণে বাজারে কিছুটা অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

কালের কণ্ঠ : দেশের মোট পেঁয়াজের চাহিদা কত, অভ্যন্তরীণভাবে কতটা চাহিদা পূরণ হয়?

বাণিজ্যমন্ত্রী : দেশে বছরে প্রায় ২৫ লাখ টন পেঁয়াজের চাহিদা রয়েছে। চলতি বছর এর বেশি উৎপাদন হয়েছে। তবে সংগ্রহ এবং সংরক্ষণে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ নষ্ট হয়। ফলে প্রকৃত উৎপাদন ১৯ লাখ টনের বেশি। বাকিটা আমদানি করা হয়। এর মধ্যে ভারত থেকে আসে ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ।

কালের কণ্ঠ : বর্তমানে অভ্যন্তরীণ মজুদের কী অবস্থা?

বাণিজ্যমন্ত্রী : প্রতি মাসে প্রায় ৭৫ লাখ থেকে এক লাখ টন আমদানি হয়। বছর শেষে মৌসুমের পেঁয়াজ কমতে থাকায় চার-পাঁচ মাস একটু বেশি পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়। তবে এখনো আমাদের মজুদ আছে সাড়ে পাঁচ লাখ টন। আগামী মৌসুম পর্যন্ত ১০ লাখ টন লাগবে। এই সময়টার জন্য আমদানি করতে হবে পাঁচ লাখ টন।

এবার আমরা আগেই অনুমান করছিলাম ভারতের পেঁয়াজে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হতে পারে। তাই তুরস্ক থেকে টিসিবির মাধ্যমে আমদানির ব্যবস্থা করা হয়। এ ছাড়া আমাদের দেশের পেঁয়াজ যেটুকু আছে তা দিয়ে আগামী আড়াই থেকে তিন মাস পার করা সম্ভব।

কালের কণ্ঠ : তাহলে পেঁয়াজের বাজার এমন অস্থির হলো কেন?

বাণিজ্যমন্ত্রী : মানুষের মধ্যে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিয়েছেন। তাঁরা মনে করেছেন পেঁয়াজের দাম অনেক বেড়ে যাবে।  তাই বেশি বেশি কিনতে থাকেন। এই প্যানিকটা বাজারে প্রভাব ফেলেছে। আমরা বারবার বলেছি, প্রয়োজনের তুলনায় আমাদের যথেষ্ট মজুদ আছে। আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করছি বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে। 

কালের কণ্ঠ : গত বছরের সংকট থেকে এবার কী কী পদক্ষেপ নিয়েছেন?

বাণিজ্যমন্ত্রী : গত বছরের সংকট থেকে আমরা যে পদক্ষেপ নিয়েছি তা হলো বিকল্প বাজার খুঁজে রাখা। আগে আমরা না জানলেও তুরস্ক, মিসর, চীন, মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আনা যায়। এবার  এসব উৎস থেকে পেঁয়াজ আনা হচ্ছে। মিয়ানমার থেকে আগামী সাত থেকে ১০ দিনের মধ্যে পেঁয়াজ আসা শুরু হবে। তুরস্ক থেকেও জাহাজে ওঠা শুরু হয়েছে।

কালের কণ্ঠ : বাজার নিয়ন্ত্রণে কী কী পদক্ষেপ নিয়েছেন?

বাণিজ্যমন্ত্রী : মানুষ যদি একটু সচেতন হয় তাহলে বাজার নিয়ন্ত্রণ এমনিতেই হয়ে যাবে। আর দুই কেজির জায়গায় ১০ কেজি কিনতে শুরু করলে ব্যবসায়ীরা তো সুযোগ নেবেনই। আমরা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ করব। ভোক্তারা একটু সচেতন হলে বাজার এমনিতেই নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।

কালের কণ্ঠ : ভারতের ওপর নির্ভরতা কমাতে বিকল্প কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী : এই নির্ভরতা কমাতে আমাদের সবচেয়ে বড় কাজ হলো নিজেদের উৎপাদন বাড়ানো। আমাদের চাহিদা নিজেদেরই মেটাতে হবে। আর যে পাঁচ লাখ থেকে ছয় লাখ টন পেঁয়াজ নষ্ট হয় তা রক্ষা করতে হবে। সে জন্য আমরা চেষ্টা করছি।

কালের কণ্ঠ :  টিসিবি খোলা বাজারে ৩০ টাকা কেজিতে পেঁয়াজ সরবরাহ করছে। সেই একই পেঁয়াজ দোকানে বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি। কেন?

বাণিজ্যমন্ত্রী : কারণ সরকার ভর্তুকি দিচ্ছে।

কালের কণ্ঠ :  আপনি বলেছেন এক মাসের মধ্যে বাজারে স্বস্তি ফিরবে। এর জন্য কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী : আমরা প্রথমে আমদানি বাড়াচ্ছি। তুরস্ক থেকে দ্রুতই পেঁয়াজ চলে আসবে। মিয়ানমার থেকেও পেঁয়াজ আসতে শুরু করেছে।

কালের কণ্ঠ :  কী পরিমাণ আসছে?

বাণিজ্যমন্ত্রী : আমাদের যা প্রয়োজন সবটাই নিয়ে আসব। টিসিবির মাধ্যমে আগামী পাঁচ মাসের মধ্যে ভাগ ভাগ করে এক লাখ টন পেঁয়াজ আমদানির লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। টিসিবির ট্রাক সেল ছাড়াও ই-কমার্সের মাধ্যমে ভোক্তার কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। আশা করি আমরা সামাল দিতে পারব।

কালের কণ্ঠ : প্রতিবছর এই সময় এমন সংকট হয়। এর জন্য উৎপাদন বাড়ানোর কথা বললেন। তার জন্য কী কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী : গত বছরের চেয়ে এ বছর এক লাখ টনের বেশি উৎপাদন হয়েছে। ফলন বাড়াতে একটাই উপায়, উন্নত জাতের পেঁয়াজ আরো বেশি জায়গায় উৎপাদন করা। কৃষকরা যেন লাভবান হন সেটা লক্ষ রাখা। ভিন্ন ভিন্ন সময়ে পেঁয়াজ উৎপাদন করা গেলে এই সংকট কমে যাবে। আমি আশাবাদী আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে আমরা আমাদের পুরো চাহিদা মেটাতে সক্ষম হব।

কালের কণ্ঠ :  ভোক্তাদের উদ্দেশে কিছু বলুন।

বাণিজ্যমন্ত্রী : ভোক্তাদের উদ্দেশে আমার একটাই অনুরোধ, সংকটকালে প্যানিক বায়িং বন্ধ রাখতে হবে। যতটুকু প্রয়োজন ঠিক ততটুকুই কিনতে হবে। আমি আপনাদের আশ্বস্ত করছি, দুশ্চিন্তার প্রয়োজন নেই। আগামী এক মাসের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে পেঁয়াজ বাজারে আসবে। এই সংকট থাকবে না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা