kalerkantho

শনিবার । ৮ কার্তিক ১৪২৭। ২৪ অক্টোবর ২০২০। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

করোনায় উপার্জন নেই ৬৫ শতাংশ নারী উদ্যোক্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০১:৩৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনায় উপার্জন নেই ৬৫ শতাংশ নারী উদ্যোক্তার

করোনাভাইরাস মহামারিতে দেশের নারী উদ্যোক্তাদের ৬৫ শতাংশের কোনো উপার্জন নেই। আয় কমে গেছে ৬৭ শতাংশ উদ্যোক্তার। আর অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মজীবীদের আয় কমেছে ৬৬ শতাংশ। সরকার ঘোষিত ছুটি ও বিভিন্ন সিদ্ধান্তের ফলে গত ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজের সুযোগ হারানোদের মধ্যে ৫৮ শতাংশই নারী। ফলে ৯০ শতাংশ নারী উদ্যোক্তা ও ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মজীবী নারী সামাজিক, অর্থনৈতিক ও মানসিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়ে পড়েছেন। 

‘কভিড-১৯ মহামারিতে কুটির, অতিক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটির শিল্পোদ্যোক্তা এবং অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মজীবী নারীদের অবস্থা’ শীর্ষক এক সমীক্ষায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। ব্র্যাকের জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি প্রগ্রামের উদ্যোগে সমীক্ষা পরিচালনা করে অ্যাডভোকেসি ফর সোশ্যাল চেঞ্জ প্রগ্রাম। গত ৮ থেকে ২৪ জুলাই দেশের ২৮ জেলার ১৭৪টি উপজেলায় পরিচালিত এই জরিপে মোট এক হাজার ৫৮৯ জন নারী অংশ নেন; যার মধ্যে ৫৮৯ জন উদ্যোক্তা এবং এক হাজার জন কর্মী। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৩২ শতাংশ গ্রামীণ নারী, বাকি ৬৮ শতাংশ শহরাঞ্চলের।

সমীক্ষায় দেখা যায়, এই দুর্যোগকালে ব্যবসা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হওয়া ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্যোক্তার সংখ্যা ৩৩ শতাংশ । এ ছাড়া ৪১ শতাংশ উদ্যোক্তা কর্মীদের কর্মবিরতিতে (লে অফ) পাঠিয়েছেন। ব্যাবসায়িক সংকটগুলোর সঙ্গে মানিয়ে নিতে কোনো ব্যবস্থাই নিতে পারেননি ৮৬ শতাংশ উদ্যোক্তা। আর টিকে থাকার জন্য আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে ঋণ নিতে হয়েছে বলে জানিয়েছে ৩৯ শতাংশ কর্মজীবী নারী। তবে এত সব সমস্যার পরও এই নারী উদ্যোক্তা ও  কর্মজীবীরা আবার ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। এ জন্য আর্থিক সহায়তা চায় ৮৩ শতাংশ কর্মজীবী নারী। আর সহজ শর্তে ও অল্প সুদে ঋণ চায় ৭৯ শতাংশ উদ্যোক্তা। পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়নের প্রশিক্ষণও চায় তারা। কাজ ও ব্যবসার উদ্যোগ ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছে ১ শতাংশ।

ব্যবসায়ের উদ্যোগগুলোর জন্য সরকারের প্রণোদনা প্যাকেজ এই উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে কার্যত ব্যর্থ হয়েছে বলে সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে। অংশগ্রহণকারী নারীদের মধ্যে মাত্র ২৯ শতাংশ সরকারি এই প্রণোদনার খবর জানত বলে সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়। বেশির ভাগ উদ্যোক্তাই তাঁদের ব্যবসার জন্য এনজিওগুলোর ঋণ সহায়তাকেই বেছে নিয়েছেন।

সমীক্ষার ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার আয়োজিত ‘কাজে ও ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্ত নারী’ শীর্ষক এক অনলাইন সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুস সালাম বলেন, ‘সরকারের পরিকল্পনা গ্রহণেও কৌশলগত পরিবর্তন আসছে। কৃষি, শিল্পসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশাল প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। কর্মসংস্থান ব্যাংকসহ আরো কিছু ব্যাংক ঋণদান করছে।’ এই সময় ডিসেম্বরের মধ্যেই এই অভাবের চিত্রটা পাল্টে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ব্র্যাকের পরিচালক নবনীতা চৌধুরীর সঞ্চালনায় এতে প্যানেল বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউসেপ বাংলাদেশের চেয়ারপারসন পারভিন মাহমুদ, বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্টের প্রধান নির্বাহী  কর্মকর্তা ফেরদৌস আরা বেগম, কর্মজীবী নারীর নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া রফিক, তরঙ্গের প্রধান নির্বাহী  কর্মকর্তা কোহিনূর ইয়াসমিন, অর্থনীতিবিদ নাজনীন আহমেদ, ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ ও ঊর্ধ্বতন পরিচালক শামেরান আবেদ। সমীক্ষার ফলাফল উপস্থাপন করেন ব্র্যাকের ঊর্ধ্বতন পরিচালক কে এ এম মোর্শেদ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা