kalerkantho

শনিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৮ নভেম্বর ২০২০। ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

কারওয়ান বাজার থেকে কিনে নিয়ে ‘বিলের মাছ’ বলে বিক্রি!

শেখ হাসান   

১১ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০৯:৩০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কারওয়ান বাজার থেকে কিনে নিয়ে ‘বিলের মাছ’ বলে বিক্রি!

রাজধানীর কারওয়ান বাজার মাছের আড়ত থেকে বিভিন্ন ধরনের মাছ কিনে ডালি সাজিয়ে পরে সেগুলো বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে হাওড় বা বিলের মাছ বলে বিক্রি করা হয়। ছবিটি গতকাল তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

ঢাকা শহরে বেশির ভাগ কর্মব্যস্ত মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনে থাকে এলাকার হকারদের কাছ থেকে। অনেকে মাছ কেনে ফেরি করে যারা বিক্রি করেন তাদের কাছ থেকে। ফেরি করে মাছ বিক্রি করে দুই শ্রেণির লোক। এদের বেশির ভাগই বিক্রি করে অ্যালুমিনিয়ামের পাতিলে করে। আবার দু-একজন আছে, যারা ভ্যানে করে মাছ বিক্রি করে। এই ভ্যানের ওপর থাকে বেশ বড় একটা বাঁশের তৈরি ডালা। এই ডালায় পাঁচ-ছয় পদের মাছ মেশানো থাকে। এগুলোকে তাঁরা বলে পাঁচমিশালি মাছ। এসব মাছ তারা তুলনামূলকভাবে বেশি দামে বিক্রি করে। কারণ তাদের দাবি, এসব মাছ ঢাকা শহরের আশপাশের বিল থেকে ধরা। এই যেমন কেউ বলে আড়িয়ল বিলের মাছ, কেউ বলে ভৈরবের নদীর মাছ, কেউ বলে কুমিল্লার মাছ, এভাবেই চলে তাঁদের প্রতারণা।

সকাল ৬টা ৩০ মিনিট :  রাজধানীর কারওয়ান বাজার মাছের আড়ত। চারদিকে কর্মব্যস্ত মানুষ। কারণ মাছের বাজারটি খুব অল্প সময়ের জন্য থাকে, সকাল ৮টার মধ্যে মোটামুটি বেচাবিক্রি শেষ। ৯টার সময় এখানে এলে দেখা যাবে একেবারেই সুনসান, মনে হবে না যে এক ঘণ্টা আগে এখানে হাজার হাজার মানুষের কর্মচঞ্চল একটি মাছের আড়ত ছিল।

কেউ মাছ কিনছে, কেউ বিক্রি করছে, কেউ মাছ কিনে গাড়িতে বা রিকশায় তুলছে। যারা বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট বা বাসাবাড়ির জন্য মাছ কিনছে, তারা এখান থেকে কেটে নিয়ে যায়। এখানে যাঁরা মাছ কাটেন তাঁরাও ব্যস্ত সময় পার করছেন। এই ব্যস্ততার মধ্যে মাছের আড়তের উল্টো দিকে বিজিএমইএ ভবনের সামনের ফুটপাতের পাশে কয়েকজন লোক ভ্যানের ওপর মাছের ডালা নিয়ে কী যেন করছেন। কাছে যেতেই দেখা যায়, তাঁরা ডালায় মাছ সাজাচ্ছেন। আড়ত থেকে কেনা টাকি, পাবদা, কালিবাউস, বোয়ালসহ বিভিন্ন মাছ বাঁশের তৈরি ডালা বা টুকরিতে সাজানো হচ্ছে। প্রথমে তাঁরা টুকরির ভেতর বড় একটি পলিথিন দেন, এরপর পলিথিনের ওপর কিছু বরফ দিয়ে কয়েক কেজি পাবদা মাছ তার ওপর সাজিয়ে দেন। তারপর এক এক করে কয়েকটা কালিবাউস, কিছু টাকি ও দু-তিনটা বোয়াল আর কিছু টাটকিনি মাছ রাখা হয়। এভাবে তারা আস্তে আস্তে ২০ থেকে ৩০ কেজি মাছ ডালায় সাজিয়ে ফেলে। সব শেষে তাঁরা জীবিত কয়েকটি কই ও শিং মাছ ওপরে দিয়ে রাখেন। তাঁরা যখন মাছ সাজাতে ব্যস্ত তখন রেজাউল করিম নামের এক মাছ ব্যবসায়ীকে এসব মাছ কোথায় বিক্রি করবেন জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, ‘আমরা একেক দিন একেক এলাকায় যাই।’ একদিন মগবাজার তো অন্য দিন রামপুরা, এভাবেই তাঁরা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মাছ বিক্রি করেন। তাঁরা যখন বিভিন্ন এলাকায় এই মাছ বিক্রি করেন তখন এগুলো আর কারওয়ান বাজারের মাছ থাকে না। হয়ে যায় ঢাকার আশপাশের বিল বা নদীর মাছ!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা