kalerkantho

শনিবার । ৮ কার্তিক ১৪২৭। ২৪ অক্টোবর ২০২০। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

জাতিসংঘ মিশন ও বাংলাদেশ কনস্যুলেটে জাতীয় শোক দিবস পালন

বিশেষ প্রতিনিধি, নিউ ইয়র্ক   

১৬ আগস্ট, ২০২০ ১১:২৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জাতিসংঘ মিশন ও বাংলাদেশ কনস্যুলেটে জাতীয় শোক দিবস পালন

বিশ্বমানবতাকে সমুন্নত রাখতে জাতির পিতার সংগ্রাম ও ত্যাগ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে পথ দেখাবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

শনিবার জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কোভিড-১৯ মহামারির কারণে নিউ ইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী সামাজিক দূরত্ব মেনে মিশনের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে স্থানীয় সময় সকাল ১১ টায় আয়োজন করা হয় জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠান।

এর আগে স্থায়ী মিশনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু করা হয়। এ সময় জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানের শুরুতেই জাতির পিতা, বঙ্গমাতা এবং শহীদ পরিবারের অন্য সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। এরপর শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়। বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে রক্ষিত জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পনের মাধ্যমে শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করেন রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা ও অন্য কর্মকর্তারা। এরপর দিবসটি উপলক্ষে দেয়া রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পড়ে শোনানো হয়। এ সময় জাতির পিতার জীবন ও কর্মের ওপর নির্মিত একটি বিশেষ প্রামাণ্য চিত্র দেখানো হয়।

রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা এ সময় বলেন, “আজ পৃথিবীর সকল দেশ এজেন্ডা-২০৩০ এর ১৭টি অভীষ্ট লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছে। ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘে দেয়া বঙ্গবন্ধুর ভাষণে আমরা এর অধিকাংশের কথাই খুঁজে পাই”।

তিনি আরও বলেন, "আন্তর্জাতিক প্লাটফর্মে দেয়া জাতির পিতার সেই ভাষণে শিক্ষা, সাম্যতা এবং সম্মানজনক জীবন ও জীবিকার কথা রয়েছে। তিনি জাতীয়তার সীমা পেরিয়ে আন্তর্জাতিকতাকে স্পর্শ করেছেন। তাঁর এই ভাষণে ফুটে উঠেছে বিশ্ব মানবতার আশা আকাঙ্খা। তিনি শান্তির কথা বলেছেন, মানুষের মুক্তির কথা বলেছেন, বহুপাক্ষিকতার কথা বলেছেন, উন্নত বিশ্ব ব্যবস্থার কথা বলেছেন, মানুষের ন্যায়সঙ্গত অধিকারের কথা বলেছেন। এমন ভাষণ কেবল তাঁর মতো একজন বিশ্বনেতার পক্ষেই দেয়া সম্ভব।”

পঁচাত্তরের পনেরই আগস্টের প্রেক্ষাপটসহ জাতির পিতার জীবন ও কর্ম তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত ফাতিমা। প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “জাতির পিতার এ আদর্শ ও দেশপ্রেমের নিরন্তর অনুশীলন প্রয়োজন।”

এদিকে নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটে শনিবার সকালে জাতীয় শোক দিবস পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে ‘মুজিব বর্ষ’ উপলক্ষ্যে কনস্যুলেটের হলরুমে স্থাপিত ‘মুজিব গ্যালারী’র উদ্বোধন করেন কনসাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুননেসা। বাংলাদেশি-আমেরিকান নতুন প্রজন্মের মাঝে জাতির পিতার চেতনা ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্য নিয়েই কনস্যুলেটে মুজিব গ্যালারি স্থাপন করা হয়েছে বলে জানান কনসাল জেনারেল। কনস্যুলেটে আসা সবার জন্যেই উম্মুক্ত থাকবে ‘মুজিব গ্যালারি’। এছাড়াও, কনস্যুলেটের ওয়েবসাইটে ’বঙ্গবন্ধু ফটো গ্যালারি’ নামে একটি ভার্চুয়াল ‘মুজিব গ্যালারি’র উদ্বোধন করেন কনসাল জেনারেল। তিনি কনস্যুলেটের ওয়েবসাইটে ভার্চুয়াল ‘মুজিব গ্যালারি’ পরিদর্শনের জন্য কমিউনিটির সবাইকে আহবান জানিয়েছেন।   

১৫ই আগস্টের শোককে শক্তিতে রূপান্তরের মাধ্যমে জাতির পিতা সোনার বাংলা বিনির্মাণের যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা বাস্তবায়নের জন্যে যার যার অবস্থান থেকে সবাইকে কাজ করে যাওয়ার আহবান জানান বক্তারা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা