kalerkantho

বুধবার । ১৫ আশ্বিন ১৪২৭ । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১২ সফর ১৪৪২

মানুষ দেখলেই ভয়ে কেঁদে উঠছে শিশুটি

তিন জেলায় আরো তিন শিশু ধর্ষণের শিকার

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৪ আগস্ট, ২০২০ ০২:১৮ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



মানুষ দেখলেই ভয়ে কেঁদে উঠছে শিশুটি

কিশোরগঞ্জে ধর্ষণের শিকার চার বছরের শিশুটি মানুষ দেখলেই ভয়ে কেঁদে উঠছে। পাঁচ বছরের এক শিশু নানার দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়েছে চুয়াডাঙ্গায়। সাভারে আট বছরের শিশু ধর্ষণের অভিযোগে এক বৃদ্ধ ও এক কিশোর গ্রেপ্তার হয়েছে। ময়মনসিংহে ১১ বছরের শিশু ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাগুলো ঘটেছে গত বুধবার থেকে গতকাল বৃহস্পতিবারের মধ্যে।

ভুক্তভোগীর পরিবার, এলাকাবাসী ও থানার পুলিশের বরাতে সংশ্লিষ্ট এলাকার কালের কণ্ঠ’র প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে বিস্তারিত—

মানুষ দেখলেই ভয়ে কেঁপে উঠছে শিশুটি : কিশোরগঞ্জে চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক কিশোরের (১৪) বিরুদ্ধে। কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ভুক্তভোগী শিশুটি লোকজন দেখলেই ভয়ে কেঁপে উঠছে; কান্না জুড়ে দিচ্ছে। যন্ত্রণায় ছটফট করছে সে।

ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার বিকেলে সদর উপজেলার চৌদ্দশত ইউনিয়নের জালুয়াপাড়া এলাকায়। ঘটনার দিন রাতে শিশুটির বাবা মামলা দায়ের করেন। এর পরপরই অভিযুক্ত কিশোরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মো. আবুবকর সিদ্দিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শিশুটিকে লজেন্স দেওয়ার প্রলোভনে বাড়ির পাশের একটি ইটভাটায় নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে ওই কিশোর। শিশুটির চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে গেলে ওই কিশোর পালিয়ে যায়। গতকাল কিশোরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

শিশু ধর্ষণের মামলায় নানা গ্রেপ্তার : চকোলেট খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে পাঁচ বছরের নাতনিকে ধর্ষণের অভিযোগে গতকাল চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গার ছত্রপাড়ার আব্বাস আলীকে (৪৩) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আব্বাস আলী শিশুটির নানার চাচাতো ভাই। গত বুধবার এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী শিশুটির নানা ঘটনার দিন রাতেই থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

আলমডাঙ্গা থানার ওসি আলমগীর কবীর জানান, অভিযোগ পেয়ে দ্রুত তদন্ত শুরু করা হয়। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শিশু ধর্ষণের অভিযোগে দুজন গ্রেপ্তার : ঢাকার সাভারে আট বছরের শিশু ধর্ষণের অভিযোগে এক বৃদ্ধ ও এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত বুধবার রাতে সাভার সদর ইউনিয়নের চাপাইন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার দুজন হলো নাটোর জেলার সিংড়া থানার মৃত মাদু প্রামাণিকের ছেলে আতাহার আলী (৬০) এবং অপরজন দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ী থানার বাসিন্দা। তারা সাভারের চাপাইন এলাকায় থাকে।

অন্যদিকে সাভারের কমলাপুরের ভবানীপুর এলাকায় এক গৃহবধূকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে দেবর নোয়াব আলীকে (২৫) গত বুধবার রাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

উভয় ঘটনায় সাভার মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের হয়েছে।

পুলিশ জানায়, চাপাইন এলাকার একটি ভবনের কেয়ারটেকার আতাহার আলী। প্রতিবেশী শিশু তাকে নানা বলে ডাকে। সেই সুবাদে শিশুটিকে ফুসলিয়ে নিজের কক্ষে নিয়ে প্রায়ই ধর্ষণ করতেন। অন্যদিকে গত সোমবার শিশুটিকে কৌশলে অপর একটি ভবনে নিয়ে ধর্ষণ করে কিশোর। এই কিশোরকে মামা ডাকে শিশুটি। পরে শিশুটি তার খালাতো বোনকে ঘটনাগুলো খুলে বলে।

সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তৌহিদ জানান, শিশুটিকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠানো হয়েছে।

শিশু ধর্ষণের মামলায় গ্রেপ্তার ১ : ময়মনসিংহের ভালুকায় ১১ বছরের একটি শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত বুধবার বিকেলে উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের জামিরদিয়া মাস্টারবাড়ী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ওই দিন রাতেই শিশুটির বাবা মামলা করেন। আসামি নাহিদ হাসান ওরফে তাজমুলকে (২৫) গ্রেপ্তার করে গতকাল আদালতে পাঠানো হয়েছে। নাহিদ হাসান উপজেলার পুটিজানা ইউনিয়নের বেড়িবাড়ী গ্রামের মো. হযরত আলীর ছেলে।

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, জামিরদিয়া মাস্টারবাড়ী গ্রামের মোফাজ্জল হোসেনের বাড়িতে ভাড়ায় থাকে শিশুটির পরিবার। তার মা-বাবা স্থানীয় একটি কারখানায় চাকরি করেন। মেয়েটির ছোট দুটি ভাই আছে। স্ত্রীর চাকরির সুবাদে নাহিদ হাসান একই বাসায় ভাড়া থাকেন। ঘটনার দিন বিকেলে অন্যদের অনুপস্থিতির সুযোগে মেয়েটিকে নিজের কক্ষে নিয়ে ধর্ষণ করেন তিনি। মেয়েটির চিৎকারে বিষয়টি টের পেয়ে বাসার মালিকের পুত্রবধূ ওই কক্ষের দরজায় তালা দেন।

ভালুকা মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ মাইন উদ্দিন জানান, আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ধর্ষণের শিকার পোশাক কর্মীর আত্মহত্যার চেষ্টা : গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক নারী পোশাক কর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করলেও ঘটনার চার দিনেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি, উল্টো বাদীপক্ষের লোকজনকেই পুলিশ হয়রানি করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী নারী ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, হরতুকিতলা এলাকার মোস্তফা মিয়ার ছেলে সুজন হোসেন (৩২) বিয়ের কথা বলে এক বছর ধরে ধর্ষণ করে আসছেন ওই নারী শ্রমিককে। সম্প্রতি বিয়ের প্রস্তাব দিলে সুজন জানান, বিয়ে করা সম্ভব নয়। এ অবস্থায় গত রবিবার বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান ওই নারী। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়। এ ঘটনায় গত বুধবার ওই নারী কালিয়াকৈর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

বাড়ির মালিক আরিফ আহম্মেদ জানান, ভাড়াটিয়া নারী শ্রমিককে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করায় ছেলের পরিবার ক্ষিপ্ত হয়ে তিনিসহ এলাকার কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছে। মেয়েটি থানায় অভিযোগ দিলেও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার না করে উল্টো তাঁদের হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

কালিয়াকৈর থানার ওসি মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, বাদীর বাসার মালিকসহ কয়েকজন মীমাংসার কথা বলে ছেলেপক্ষের কাছে টাকা দাবি করেছে। তাই তাদের ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা