kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৪ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১১ সফর ১৪৪২

টিআইবির গবেষণা প্রতিবেদন

এমপিদের থোক বরাদ্দ রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ আগস্ট, ২০২০ ০২:৩৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এমপিদের থোক বরাদ্দ রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয়

নিজ নিজ এলাকায় উন্নয়নের জন্য সংসদ সদস্যদের প্রতিবছর পাঁচ কোটি টাকা থোক বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে এই বরাদ্দ স্থানীয়ভাবে রাজনৈতিক ক্ষমতার চর্চা, নির্বাচনে ভোট নিশ্চিত করার চেষ্টা এবং অনৈতিকভাবে অর্থনৈতিক সুবিধা অর্জনে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) দাবি করেছে। সংস্থাটির এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে।

গতকাল বুধবার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনটির শিরোনাম ‘অনৈতিকভাবে অর্থনৈতিক সুবিধা অর্জনের পথ হিসেবে সংসদীয় আসনভিত্তিক থোক বরাদ্দ : অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সুশাসনের চ্যালেঞ্জ’।

এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, থোক বরাদ্দে নেওয়া প্রকল্পের কার্যকর তদারকি, সার্বিক মূল্যায়ন এবং সংসদ সদস্যের সততা ও স্বার্থের দ্বন্দ্ব সম্পর্কিত সুনির্দিষ্ট আচরণবিধি না থাকায় অনিয়ম-দুর্নীতির প্রাতিষ্ঠানিকীকরণকে উৎসাহিত করছে। এতে রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় হচ্ছে। এসংক্রান্ত প্রকল্পে প্রভাবশালী সিন্ডিকেট, জবাবদিহির অভাব, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা, অন্যের লাইসেন্স ব্যবহার, ট্যাক্স ফাঁকি, আঞ্চলিক গোষ্ঠীর প্রভাব ইত্যাদির কথা বলছে টিআইবি। প্রকল্পের নিম্নমানের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশের ৩৫০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে সিটি করপোরেশন এলাকার ১৬টি ও ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন ছাড়া বাকি ২৮৪টি সংসদীয় আসনের সদস্যদের প্রতিবছর এলাকার উন্নয়নকাজের জন্য পাঁচ কোটি টাকা থোক বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই থোক বরাদ্দ পাওয়া ৫০টি আসনে এ গবেষণা চালানো হয়। ২০১৯ সালের মে থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত গবেষণার তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

টিআইবি বলছে, এরই মধ্যে পল্লী এলাকার উন্নয়নের জন্য এ ধরনের প্রকল্পে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের প্রতিবেদন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এ ছাড়া সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভায় এবং মাঠ পর্যায়ে দুটি প্রকল্পের কিছু স্কিম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করে বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রতিবেদনে স্কিম বাস্তবায়নের কাজে চ্যালেঞ্জ ও অনিয়ম তুলে ধরা হয়েছে। তবে আইএমইডি ২০১০ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বাস্তবায়িত এসংক্রান্ত কোনো প্রকল্পেরই পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন করেনি।

প্রতিবেদনে প্রকল্পে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা দূর করতে টিআইবি ৯ দফা সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে স্কিম তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে এলাকার জনগণের অংশগ্রহণ ও মতামত নিশ্চিত করাসহ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট সমন্বয় কমিটিতে জনগণের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় দলীয় রাজনৈতিক প্রভাব হ্রাস এবং কার্যকর জবাবদিহি ব্যবস্থার প্রবর্তন উল্লেখযোগ্য। স্থানীয় উপকারভোগীদের সমন্বয়ে ধারাবাহিকভাবে কার্যকর তদারকি ব্যবস্থা প্রবর্তন করা যেতে পারে বলেও সুপারিশ করেছে টিআইবি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা