kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৪ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১১ সফর ১৪৪২

হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন

পুলিশকে ২০ লাখ টাকা ঘুষের প্রস্তাব দেন বেঞ্চ অফিসার সোহেল

ওমর ফারুক   

১১ আগস্ট, ২০২০ ১৩:১৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পুলিশকে ২০ লাখ টাকা ঘুষের প্রস্তাব দেন বেঞ্চ অফিসার সোহেল

নারীসহ গ্রেপ্তার হাইকোর্টের বেঞ্চ অফিসার মোরশেদুল হাসান সোহেল

বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হাইকোর্টের বেঞ্চ অফিসার মোরশেদুল হাসান সোহেলের নানা অপকর্মের কথা বেরিয়ে আসছে। গত ৬ আগস্ট তাকে গ্রেপ্তারের সময় ২০ লাখ টাকা ঘুষ দিতে চান পুলিশকে। ঘুষের প্রস্তাব পেয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা আরো নিশ্চিত হন যে তিনি একজন অপরাধী। অন্যদিকে মোরশেদুল হাসানের বিষয়ে তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ জানতে পেরেছে হোয়াটসঅ্যাপ, ভাইবারের মাধ্যমে মাদক বিক্রির নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন। 

যাত্রাবাড়ী থানার (ওসি) মাজহারুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে জানান, গত ৬ আগস্ট যাত্রাবাড়ি থানার সাব-ইন্সপেক্টর আতোয়ার রহমান অভিযান চালিয়ে রানা মন্ডল নামের এক মাদক কারবারীকে গ্রেপ্তার করা হয় যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে। এ সময় তার কাছ থেকে ১০০ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। 

জিজ্ঞাসাবাদে রানা জানায়, এই ইয়াবা সে মিরপুর এলাকার ‘মাদক সম্রাট’ সোহেলের কাছ থেকে কিনে এনেছে। পরে তার দেয়ার তথ্যর ভিত্তিতে যাত্রাবাড়ী থানা ও মিরপুর থানা পুলিশ ওই দিনই অভিযান চালায় মিরপুরের মধ্য পীরের বাগের ৩১৫ নম্বর (তাসমিম বিজয় অ্যাপার্টমেন্ট)র চতুর্থ তলার ফ্ল্যাটে। সেখানে গিয়ে ফাতেমা ইসলাম চাদনী নামের আরেক খুচরা মাদক বিক্রেতাকে পায় পুলিশ। তার কাছ থেকে ২০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। আর সোহেলের কাছে পাওয়া যায় ৬০০ পিস ইয়াবা। পরে দু’জনকে গ্রেপ্তার থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট এক পুলিশ কর্মকর্তা আজ কলের কণ্ঠকে জানান, মাদক কারবারী হিসেবে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য বাসায় ঢোকে পুলিশ। প্রথমে পুলিশকে ধমক দেয়ার চেষ্টা করেন সোহেল। পরে প্রমাণ পেয়ে দমে যান তিনি। এর পর পুলিশকে ২০ লাখ টাকা ঘুষ দেয়ার প্রস্তাব করেন। পুলিশ প্রস্তাবে রাজি না হয়ে তাকে  গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন। গ্রেপ্তারের পর তার বিরুদ্ধে মিরপুর থানায় মাদক আইনে মামলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ফ্ল্যাটের ভেতরে গিয়ে দেখা যায় ইয়াবা সেবনের বেশ কিছু সরঞ্জাম রয়েছে। পুলিশের ধারণা একাধিক ব্যক্তি ওই ফ্ল্যাটে গিয়ে ইয়াবা সেবন করতেন। আর ভবনের ফ্ল্যাট মালিকরা জানিয়েছেন, ওই বাড়িতে সোহেলের ফ্ল্যাটে অসামাজিক কর্মকাণ্ড চলতো। যে কারণে তারা অসহায় ছিলেন। সোহেল ইয়াবা বিক্রির পাশাপাশি সেবনও করে বলেও তথ্য পায় পুলিশ।

মিরপুর মডেল থানার ওসি মোস্তাজিরুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা তার অপরাধের তদন্ত করছি।’ 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা