kalerkantho

শনিবার । ১১ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৮ সফর ১৪৪২

পল্লবী থানায় বিস্ফোরণ

পরিদর্শকের রুমে বোমা নেন পুলিশের সোর্স রিয়াজুল

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা। উঠে এসেছে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য

রেজোয়ান বিশ্বাস    

১১ আগস্ট, ২০২০ ০২:২৭ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পরিদর্শকের রুমে বোমা নেন পুলিশের সোর্স রিয়াজুল

রাজধানীর পল্লবী থানায় সপ্তাহ দুয়েক আগে যে বোমাটি বিস্ফোরিত হয়, সেটি ভবনের দোতলায় পরিদর্শক ইমরানুল ইসলামের কক্ষে নিয়ে গিয়েছিলেন পুলিশের সোর্স রিয়াজুল। ২৭ জুলাই সন্ধ্যায় একটি ব্যাগে করে তিনি বোমাটি সেখানে নিয়ে যান। ঘটনার তদন্তের সঙ্গে যুক্ত একটি সূত্র গতকাল সোমবার এই তথ্য জানিয়েছে।

তবে বোমাটি কিভাবে, কোথা থেকে উদ্ধার হলো, কিংবা কিভাবে পুলিশের সোর্সের হাতে গেল, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিস্ফোরণের ঘটনায় ডিএমপির পক্ষ থেকে গঠন করা তদন্ত কমিটি গতকাল তাদের প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে হস্তান্তর করে। ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (অপারেশনস) মনিরুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। এখন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে।’

গত ২৯ জুলাই বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটে। এর আগে ২৭ জুলাই বিকেলে পল্লবীর বাউনিয়া বাঁধ এলাকা থেকে শহিদুল, মোশারফ ও রফিকুল নামের তিনজনকে আটক করে পুলিশ। এরপর তাদের একটি  মাইক্রোবাসে করে পল্লবী থানায় আনা হয়। তাদের নিয়ে ওই দিন রাতে এক যুবলীগ নেতাকে ধরতে অভিযানে যায় পুলিশ। তবে ওই নেতাকে না পেয়ে তাদের আবার থানায় নেওয়া হয়।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২৯ জুলাই ভোরের দিকে পরিদর্শক ইমরানুলের কক্ষে পুলিশ সোর্স রিয়াজুল ব্যাগ থেকে ওজন মাপার যন্ত্র থেকে একটি বোমা বের করে নাড়াচাড়া করছিলেন। একপর্যায়ে তা বিস্ফোরিত হয়। ওই যন্ত্রের ভেতরে তিনটি বোমা ছিল।

বিস্ফোরণের ঘটনাকে অনেকে জঙ্গি হামলা মনে করলেও এ নিয়ে সঠিক কোনো তথ্য জানাতে পারেননি তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। একটি ওয়েবসাইটে আইএসের হয়ে দায় স্বীকার করলেও এর কোনো সত্যতা পায়নি মামলার তদন্তকারী সংস্থা ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ও ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)।

এদিকে গ্রেপ্তার শহিদুল ইসলাম পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বলেছেন, ‘দেশের বাইরে থেকে জামিল মিয়া বলছিল একটা কাজ আছে। এক নেতাকে হত্যা করতে হবে। অগ্রিম পাঁচ হাজার টাকাও পাঠাইছিল। যাকে হত্যা করা হবে, তার একটা শটগান আছে, একটা নাইন এমএম পিস্তলও আছে। গাড়িতে চলাফেরা করে। তবে এলাকায় নয়, এলাকার বাইরে তাকে হত্যা করতে বলেছিল।’

তদন্তে উঠে এসেছে, ঢাকা মহানগর উত্তরের পল্লবী থানা যুবলীগের সভাপতি ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইযুল ইসলাম বাপ্পী ও উত্তরের সাধারণ সম্পাদক (বহিষ্কৃত) জুয়েল রানাকে খুন করতে সন্ত্রাসী জামিল মিয়া বিদেশ থেকে একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ ভাড়া করেছিল। তবে জামিলের সহযোগী তিন সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার হওয়ায় প্রাণে বেঁচে যান তাঁরা।

সন্ত্রাসীদের হুমকির মুখে মিরপুরের ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইযুল ইসলাম চৌধুরী ওরফে বাপ্পি এখন ভয়ে বাসা থেকেই বের হন না বলে কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন। তাইযুল দাবি করেন, ১২ বছর আগে পল্লবী এলাকার সন্ত্রাসী জামিল তাঁর বাবাকে হত্যা করে। এখন জামিল ভাড়া করা সন্ত্রাসী দিয়ে তাঁকেও হত্যা করতে চাইছে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, মিরপুর এলাকার আরো অনেক রাজনৈতিক নেতাকে হত্যার পরিকল্পনা চলছে। সন্ত্রাসীদের এই পরিকল্পনার কথা পুলিশের (বদলি হওয়া) সদস্যরা জানলেও তাঁরা তাঁদের রক্ষা করার পরিবর্তে উল্টো ‘গেম’ শুরু করেন। তথ্য রয়েছে, তাঁরা মিরপুরের নেতাদের রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের মাঝখানে অবস্থান নিয়ে বিপুল অঙ্কের অর্থের লেনদেনে জড়িয়ে পড়েন। এ ছাড়া তাঁদের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়। থানার ভেতরে বোমা বিস্ফোরণের পর ডিএমপি সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতনরা খোঁজ নিয়ে পুলিশের নানা বিতর্কিত ভূমিকার তথ্য পান। তদন্তকারী সংস্থা সিটিটিসির স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপের (এসএজি) উপকমিশনার আব্দুল মান্নান কালের কণ্ঠকে বলেন, এই ঘটনার তদন্ত চলছে। গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ আব্যাহত আছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা