kalerkantho

শনিবার । ১১ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৮ সফর ১৪৪২

ভ্যাকসিন উৎপাদনে তোড়জোড় দেশেও

► অবলম্বন করা হচ্ছে কঠোর গোপনীয়তা
► পাশের দেশ থেকে কাঁচামাল এনে ভ্যাকসিন উৎপাদনে নজর
► দ্রুত সময়ের মধ্যে ভ্যাকসিন উৎপাদন শুরু করতে পারে দেশের একটি বড় ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান

তৌফিক মারুফ    

১১ আগস্ট, ২০২০ ০২:১৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ভ্যাকসিন উৎপাদনে তোড়জোড় দেশেও

শুধু ট্রায়ালই নয়, দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশে করোনার ভ্যাকসিন উৎপাদনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্যাকসিন যে প্রক্রিয়ায় ভারতের একটি কম্পানি ট্রায়াল শেষ হওয়ার আগেই উৎপাদনে নেমেছে, সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এবার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ। তবে ঠিক কোন দেশের ভ্যাকসিন উৎপাদন করবে, সে ব্যাপারে অবলম্বন করা হচ্ছে কঠোর গোপনীয়তা। উৎপাদন খরচ কমাতে পাশের একটি দেশের বিশ্বখ্যাত একটি কম্পানি থেকে কাঁচামাল এনে ভ্যাকসিন উৎপাদনে নজর দেওয়া হচ্ছে। সঙ্গে রয়েছে পূর্ণাঙ্গভাবে বাংলাদেশে উৎপাদনের চিন্তাও। আবার দেশের একটি বড় ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান দ্রুত সময়ের মধ্যে ভ্যাকসিন উৎপাদন শুরু করতে পারে বলেও আলোচনা রয়েছে। এ ছাড়া অন্য দেশের একাধিক কম্পানির সঙ্গে কথাবার্তা চলছে দেশের সংশ্লিষ্ট খাতের নীতিনির্ধারকদের। এর মধ্যে রয়েছে চীনের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে এরই মধ্যে আইসিডিডিআরবির চুক্তির প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, গতকাল সোমবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ভ্যাকসিনসংক্রান্ত এক বৈঠকে চীনের ভ্যাকসিনের ট্রায়ালপ্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে দেশে ভ্যাকসিন উৎপাদনের বিষয়ে। যত দ্রুত সম্ভব উৎপাদনপ্রক্রিয়া শুরু করার ওপর জোর দেন বৈঠকে উপস্থিত অনেকে।

বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সূত্র জানায়, বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের ওষুধশিল্পের আরো জোরালো অবস্থান তৈরির সুযোগ হিসেবে ভ্যাকসিন উৎপাদনে নজর দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে চলতি সপ্তাহে আরেকটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমএনসিঅ্যান্ডএইচের লাইন ডিরেক্টর ও পরিচালক ডা. সামছুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা যেমন গ্যাভির মাধ্যমে ফ্রি বা স্বল্প মূল্যে করোনা ভ্যাকসিন পাওয়ার প্রক্রিয়ায় আছি, একইভাবে দেশে কিভাবে ভ্যাকসিন উৎপাদন করা যায় তা নিয়েও কাজ করছি। আগামী সপ্তাহে মন্ত্রীর নেতৃত্বে এ নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের একটি বৈঠক হবে।’

ভ্যাকসিন নিয়ে কাজ করা একাধিক বিশেষজ্ঞ কালের কণ্ঠকে বলেন, ভ্যাকসিন ইস্যুতে নড়েচড়ে বসেছে সরকার। দেশের বড় কয়েকটি ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে। গ্লোব ফার্মাসিউটিক্যালস ছাড়াও আরো একটি কম্পানি ভেতরে ভেতরে ট্রায়ালের কাজ অনেকটা এগিয়ে নিয়েছে। এখন তারা সরকারের অনুমতি নিয়ে ট্রায়ালের বাকি পর্ব এবং ভ্যাকসিন উৎপাদন শুরুর কারিগরি প্রস্তুতি নিচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ভ্যাকসিন বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রটোকল অনুসারে অনুমোদন নিয়ে একাধারে ট্রায়াল ও ভ্যাকসিন উৎপাদনে কোনো বাধা নেই, যা বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ এরই মধ্যে শুরু করেছে। আমাদের দেশেও হতে যাচ্ছে। এই প্রক্রিয়া দেশের ওষুধশিল্পের জন্য নতুন মাইলফলক সৃষ্টি করবে।’

বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির মহাসচিব শফিউজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এই মুহূর্তে দেশে তিন-চারটি কম্পানি করোনার ভ্যাকসিন উৎপাদনে প্রস্তুত। এর মধ্যে দুটি কম্পানি নিজেদের ল্যাবে করোনার ভ্যাকসিন আবিষ্কারেও প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।’ গতকাল মন্ত্রণালয়ে ভ্যাকসিন বিষয়ে ভার্চুয়াল বৈঠকে অংশ নিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘বিশ্বের ২০০টিরও বেশি কম্পানি করোনা ভ্যাকসিন আবিষ্কারে কাজ করছে। এর মধ্যে ১৪১টি কম্পানি প্রাথমিক পর্যায়ে কাজ করছে, ২৫টি কম্পানি ভ্যাকসিন মানবদেহে পরীক্ষারত পর্যায়ে রয়েছে। এসব কম্পানির ভ্যাকসিনের গুণাগুণ বিচার-বিশ্লেষণ করে বাজারজাতের প্রথম পর্যায়ে এবং সবার আগে যেন বাংলাদেশ পায় সেটি নিশ্চিত করাই হচ্ছে সরকারের মূল লক্ষ্য।’

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আবদুল মান্নানের সভাপতিত্বে সভায় আরো অংশ নেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান, আইসিডিডিআরবির বিজ্ঞানী ড. ফেরদৌস কাদেরী প্রমুখ।

এদিকে আর মাত্র এক দিন পর রাশিয়ার ভ্যাকসিন আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে, যা নিয়ে অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও রয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। অবশ্য যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই টিকার কার্যকারিতা নিয়ে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আসছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা