kalerkantho

শনিবার । ১১ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৮ সফর ১৪৪২

প্রেস ব্রিফিংয়ে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

২৫০০ কিলোমিটার বেড়ি বাঁধে গাছ লাগানো হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১০ আগস্ট, ২০২০ ১৭:০২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



২৫০০ কিলোমিটার বেড়ি বাঁধে গাছ লাগানো হবে

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে দেশের ২৫০০ কিলোমিটার বেড়ি বাঁধ এলাকায় বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক এমপি।

তিনি বলেন, গাছ লাগালে দেশের পরিবেশ উন্নত হবে। নদীভাঙন থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। সম্প্রতি ভয়াবহ আম্ফানের ক্ষয়ক্ষতি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, যেসব এলাকায় বেশি গাছ ছিল সেসব এলাকায় ক্ষতি কম হয়েছে।

সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম, এমপি এবং মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার উপস্থিত ছিলেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সারা দেশে ১০ লাখ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। বিভিন্ন এলাকা বা অবস্থানভিত্তিক সবুজায়নের আলাদা মডেলও তৈরি করেছে মন্ত্রণালয়টি। ১১ থেকে ১৪ এবং ২৭ থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত দুই পর্যায়ে এসব বৃক্ষরোপণ করা হবে। এসব বিষয় তুলে ধরতে সোমবার সচিবালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।

এ সময় পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম বলেন, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আমরা সারা দেশে গাছ লাগানোর এই উদ্যোগ নিয়েছি। কর্মসূচি সফলে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, মন্ত্রণালয় কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলো বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি তদারক করার জন্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের জেলাভিত্তিক দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। কর্মকর্তারা নির্ধারিত সময়ে তাঁদের সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি তদারক করে প্রতিবেদন প্রদান করবেন।

এদিকে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) বিভিন্ন এলাকাভিত্তিক গাছ লাগানোর আলাদা মডেল তৈরি করা হয়েছে। কোন এলাকায় কোন কোন প্রজাতির কতটি গাছ লাগাতে হবে, তা নির্ধারণ করে দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

সূত্র মতে, বাপাউবোর সি-ডাইকের উভয় ঢাল ও অফশোরে সবুজায়নযোগ্য গাছের প্রজাতির মধ্যে রয়েছে-নারিকেল, কেওড়া, কাঁকড়া, গেওয়া, ঝাউ ইত্যাদি। বাপাউবোর বিভিন্ন রেগুলেটর সাইটে সবুজায়নযোগ্য গাছের প্রজাতি হচ্ছে-আম, কাঁঠাল, জাম, কদম, বকুল, পলাশ, হাসনাহেনা, গন্ধরাজ, সোনালু, কৃষ্ণচুড়া, মান্দার ইত্যাদি। বাপাউবোর সেচ ও নিষ্কাশন খালের উভয় পারে সবুজায়নযোগ্য গাছের প্রজাতির মধ্যে রয়েছে-তাল, নারিকেল, সুপারি ও খেজুর।

বাপাউবোর কলোনিতে সবুজায়নযোগ্য গাছের মধ্যে রয়েছে- আম, কাঁঠাল, দেশি পেয়ারা, দেশি বরই, আমড়া, আমলকী, নারিকেল, কদম, বকুল, পলাশ, হাসনাহেনা, গন্ধরাজ, দেবদারু, সোনালু ইত্যাদি। বাপাউবোর আওতাধীন জমিতে যেসব গাছ লাগানো হবে তা হচ্ছে- জারুল, বাবলা, হিজল, শিশু ও জাম। এ ছাড়া উপকূলীয় বাঁধের ওপর এবং ডুবন্ত বাঁধের উভয় দিকে টো লাইনের সবুজায়নযোগ্য বিভিন্ন গাছ লাগানো হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের ভূ-প্রকৃতির অবস্থা, পরিবেশ-প্রতিবেশের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী বন বিভাগ ও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে রোপণের জন্য এসব গাছ বাছাই করা হয়। এ ক্ষেত্রে পাখিদের আহার ও বাসস্থানের উপযোগিতা, ছায়াদানকারী ক্যানোপি সৃষ্টি, লবণাক্ত পানির সহিষ্ণুতা, হাওর অঞ্চলের উপযোগিতার বিষয়গুলো লক্ষ্ রাখা হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা