kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৪ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১১ সফর ১৪৪২

সরজমিন ঢাকা মহানগর আদালত

মাস্ক পরা ছাড়া সুপ্রিম কোর্টের সব নির্দেশনাই উপেক্ষিত

এম বদি-উজ-জামান   

১০ আগস্ট, ২০২০ ০০:৪৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মাস্ক পরা ছাড়া সুপ্রিম কোর্টের সব নির্দেশনাই উপেক্ষিত

তখন সকাল ১০টা ৪৩ মিনিট। অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আবু হন্তদন্ত হয়ে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত কক্ষের সামনে হাজির। তিনি এই আদালতের সরকারপক্ষের আইনজীবী (পিপি)। নিরাপত্তায় থাকা পুলিশ সদস্যের আগেই আদালতে কক্ষের সামনে চলে এসেছেন তিনি। কিন্তু আদালত কক্ষে ঢুকতে যেয়েই থমকে গেলেন। পেছনে থাকা পুলিশ সামনে এসে উপস্থিত আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের সরিয়ে দিয়ে তাকে আদালত কক্ষে ঢোকার রাস্তা করে দেন। কিন্তু আদালত কক্ষে আইনজীবীতে ঠাসা। অগত্যা আইনজীবীদের ভিড় ঠেলেই এগিয়ে গেলেন এজলাসের সামনে।

এই দৃশ্য রবিবার সকালের। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ সকাল ১০টার পর এজলাসে বসেছেন। মুখে মাস্ক। মাথায় ক্যাপ। টেবিলের সামনে প্রোটেক্টর গ্লাস। এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে। কিন্তু করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া অন্যান্য নির্দেমানা মানার কোনো বালাই নেই। যেখানে আদালত কক্ষে একসঙ্গে ছয়জনের বেশি অবস্থান করার কথা নয়। 

একটি মামলার শুনানি শেষ হওয়ার পর সেই মামলা সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা আদালত কক্ষ ত্যাগ করবেন। এরপর অন্য মামলার আইনজীবীরা ঢুকবেন। কিন্তু কে মানে এই নির্দেশনা। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা উপেক্ষা করে আইনজীবীতে ভরপুর আদালত কক্ষ। এক পর্যায়ে ভেতর থেকেই একটি দরজা বন্ধ করে দেয় আদালতের নিরাপত্তায় থাকা পুলিশ। এ পরিস্থিতিতে অন্য দরজা দিয়ে ধাক্কাধাক্কি করে আইনজীবীরা ঢুকছেন আর বের হচ্ছেন।

এই দৃশ্য দেখে আদালত কক্ষে ঢুকেই বিষয়টি বিচারকের নজরে আনেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী। পরে আব্দুল্লাহ আবু বিস্ময় প্রকাশ করে কালের কণ্ঠকে বলেন, কি বলব ভাই! একমাত্র মাস্ক পরা ছাড়া কেউই স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। আমি নিজেই পুলিশ দিয়ে লোকজন সরিয়ে আদালত কক্ষে ঢুকেছি। তিনি বলেন, আদালতে প্রবেশের সময় তাপমাত্রা মাপা, জীবাণুনাশক হ্যান্ড স্যানিটাইজার কোনো দৃশ্য চোখে পড়েনি।

তিনি বলেন, আদালত কক্ষে ঢুকে দেখি সেখানে বারের (আইনজীবী সমিতি) সভাপতি উপস্থিত আছেন। বললাম, এটা যদি হয় আদালতের পরিবেশ। এরকম চললেতো আদালত আবার বন্ধ করে দেবে প্রশাসন। তিনি বলেন, এসময় বিচারক সাহেবও আইনজীবীদের স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার তাগিদ দেন।

শুধুই মহানগর দায়রা জজ আদালতেই এমনটা তা নয়, এরকম দৃশ্য দেখা গেল মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতেও। ১১ নম্বর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক বাকী বিল্লাহর আদালতে একসঙ্গে আসামির কাঠগড়ার মধ্যে বংশাল, বনানী ও কোতোয়ালী থানার মামলার চার আসামি। তাদের একসঙ্গে রেখেই একের পর এক রিমান্ড শুনানি হলো। 

আদালত চার আসামিকেই একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করলেন। বেলা পৌনে ১২টায় এই রিমান্ড শুনানির সময় দেখা গেল ওই আদালত কক্ষে বিচারক, আইনজীবী, পুলিশ, বিচারপ্রার্থী, আসামি এবং আদালত কর্মচারী মিলে মোট ৫৩ জন উপস্থিত। যদিও একইসময় ১২ ও ১৩ নম্বর ম্যাজিস্ট্রেট আদালত কক্ষে ছিল ভিন্ন চিত্র। সেখানে আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের উপস্থিতি একেবারে নগন্য।

সারা দেশে ৫ আগস্ট থেকে নিয়মিত (শারীরিক উপস্থিতিতে) নিম্ন আদালত খোলার বিষয়ে গত ৩০ জুলাই বিজ্ঞপ্তি জারি করেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর। এর আগে সকল আদালতে সকলের মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করে গত ২৩ জুলাই পৃথক এক বিজ্ঞপ্তি দেয় সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।

এরও আগে ২১ জুলাই সুপ্রিম কোর্ট থেকে গণপূর্ত অধিদপ্তরকে চিঠি দেওয়া হয় দেশের সকল নিম্ন আদালতের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং যাবতীয় লজিস্টিক সুবিধা দিতে। কিন্তু সরেজমিনে একমাত্র সকলের মাস্ক পড়া এবং বিচারকের নিরাপত্তার জন্য টেবিলে প্রোটেক্টর গ্লাস লাগানো ছাড়া আর কিছু চোখে পড়েনি। নেই তাপমাত্রা মাপার জন্য থার্মাল, জীবাণুনাশক স্প্রে মেশিন বা হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা। 

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা না মানায় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কীনা জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার মো. আলী আকবর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সারা দেশেই বিষয়টি মনিটরিং করা হচ্ছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রধান বিচারপতি মহোদয়কে জানানো হবে। এরপর তিনি যে নির্দেশ দেবেন, সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা