kalerkantho

সোমবার । ১৩ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১০ সফর ১৪৪২

'ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী-বাঙালি হাতে হাত ধরে এগিয়ে যেতে হবে'

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ আগস্ট, ২০২০ ২০:০৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



'ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী-বাঙালি হাতে হাত ধরে এগিয়ে যেতে হবে'

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম আয়োজিত আলোচনাসভায় বক্তারা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী-বাঙালি হাতে হাত ধরে সামনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে আজ রবিবার দিনব্যাপী ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে বক্তারা এ আহ্বান জানান।

এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সকাল ১০টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে এ ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের উদ্বোধন হয়। অনুষ্ঠানের ফাঁকে ফাঁকে কবিতা পাঠ, আদিবাসীদের ব্যান্ড ও কণ্ঠশিল্পীরা নিজেদের গান এবং আদিবাসী নৃত্যশিল্পীরা আদিবাসী নাচ পরিবেশন করেন। বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী জয়দেব রোয়াজা ভিজুয়াল আর্ট পারফর্ম করেন। সন্ধ্যায় আদিবাসী অধিকার আন্দোলনে যাঁরা আত্মত্যাগ করেছেন এবং করোনা মহামারিতে যারা মৃত্যুবরণ করেছে, তাদের উদ্দেশ্য প্রদীপ প্রজ্বালন করা হয়।

বিকেলে অনলাইন আলোচনাসভায় সভাপতিত্ব করেন আদিবাসী ফোরামের সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা। আলোচনায় অংশ নেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, আদিবাসী বিষয়ক সংসদীয় ককাসের আহ্বায়ক ফজলে হোসেন বাদশা, ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য, বাসদের কেন্দ্রীয় নেতা রাজেকুজ্জামান রতন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগের ডিন অধ্যাপক সাদেকা হালিম, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত, মানবাধিকারকর্মী খুশী কবির, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মেসবাহ কামাল, আদিবাসী নেতা মেইনথিন প্রমীলা ও অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী অভিলাষ ত্রিপুরা প্রমুখ।

সভায় সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন বলেন, আদিবাসী দিবসের রাষ্ট্রীয় ও জাতীয় স্বীকৃতি প্রয়োজন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতিসত্তার আত্মপ্রতিষ্ঠা ও একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্ম গেল শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ঘটনা ছিল। কিন্তু বাঙালি হিসেবে নিজ জাতিসত্তার আত্মপ্রতিষ্ঠার মাদকতা দেশের সংখ্যালঘু জাতিসত্তার উপস্থিতি সম্পর্কে আমাদের বিস্মৃত করেছিল। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী দেশের সামনে পুরনো ভুল শুধরে নেওয়ার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু সেখানে তাদের দাবি মোতাবেক আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে পারিনি। পাকিস্তান আমলে বাঙালি হিসেবে অস্বীকার যেমন আমাদের মনে ক্ষোভ ও জ্বালা সৃষ্টি করত, আদিবাসী হিসেবে স্বীকার না করা আদিবাসীদের মনে ক্ষোভ ও জ্বালা সৃষ্টি করে রেখেছে। 

সভাপতির বক্তব্যে জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা বলেন, দেশে আজও আদিবাসী জনগণের মানবাধিকার পরিস্থিতি ভালো নয়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আদিবাসীদের ভূমি বেদখল ও তাদের চিরায়ত ভূমি থেকে উচ্ছেদ করার হীন উদ্দেশ্যে আদিবাসীদের ওপর সাম্প্রদায়িক হামলা, ভূমি জবরদখল ও উচ্ছেদ, আদিবাসী নারীর উপর নির্যাতন ও সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমান সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু ২২ বছরেও মৌলিক বিষয়গুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করেনি। বিশেষত ভূমি কমিশন পুরোপুরি অকার্যকর অবস্থায় রয়ে গেছে। অস্থায়ী সেনাক্যাম্পসহ ‘অপারেশন উত্তরণ’ প্রত্যাহার করা হয়নি।

সভায় বক্তারা বলেন, অন্যান্য মানুষের মতো আদিবাসীরাও এ দেশের নাগরিক। একাত্তরে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে সকলের জন্য সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার আমরা করেছিলাম। আদিবাসী দিবসে আশা করছি, একদিন এই করোনাকাল শেষে রাষ্ট্র ও সরকার নিজে জাতিসংঘের সদস্য হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে আদিবাসী দিবস উদযাপন করবে। আদিবাসীদের মৌলিক মানবাধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা