kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৪ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১১ সফর ১৪৪২

ওসি প্রদীপের অডিও কথোপকথন ফাঁস

'আর্মির অবসরপ্রাপ্ত? তাইলে এত ডরের কী আছে?'

অনলাইন ডেস্ক   

৯ আগস্ট, ২০২০ ১২:৪৩ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



'আর্মির অবসরপ্রাপ্ত? তাইলে এত ডরের কী আছে?'

পুলিশের গুলিতে নিহত মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানের মরদেহের ময়নাতদন্তেও চারটির বেশি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। এর আগে সুরতহাল প্রতিবেদনে মরদেহে ছয়টি গুলির চিহ্ন পায় পুলিশ। তবে প্রত্যক্ষদর্শী এক ব্যক্তি বলেছেন, সেই রাতে পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলী চারটি গুলি ছোড়ার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ মৃত্যু নিশ্চিত করতে সিনহার শরীরে আরো দুটি গুলি করেন।

নিহত মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানের মৃতুর পর একজন পদস্থ ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেন। যিনি ওসি প্রদীপকে এই 'হত্যাকাণ্ড' থেকে পরিত্রাণের উপায় বাতলে দেন। ওসি প্রদীপের অডিও ক্লিপস ফাঁস হয়েছে। অডিও কথোপকথনটি হুবহু তুলে ধরা হলো-  

ওসি প্রদীপ ও  পরামর্শদাতার কথোকথন তুলে ধরা হলো :
পরামর্শদাতা : হ্যালো।
ওসি প্রদীপ : স্যার, আদাব স্যার।
পরামর্শদাতা : হ্যাঁ।
ওসি প্রদীপ : স্যার, আমি ওসি টেকনাফ প্রদীপ, স্যার।
পরামর্শদাতা : হ্যাঁ কী খবর প্রদীপ, কোরবানির দিন গরুর মধ্যে তুমি কী!
ওসি প্রদীপ : স্যার, একটা মহাবিপদে পড়ছি, আপনার সাহায্য দরকার।
পরামর্শদাতা : বলো বলো।
ওসি প্রদীপ : এখন আমরা স্যার একটা ১৫৩, ১৮৬ ও ৩০৭-এ মামলা নিছি স্যার।
পরামর্শদাতা : ওয়ান ফিফটিথ্রি?
ওসি প্রদীপ : স্যার, থ্রি ফিফটিথ্রি।
পরামর্শদাতা : থ্রি ফিফটি থ্রি সরকারি কর্মচারীর কাজে বাধা, আরেকটা হচ্ছে..
ওসি প্রদীপ : আরেকটা হচ্ছে ১৮৬- পুলিশের কাজে বাধা।
পরামর্শদাতা : আর্মিদের ইন্টিমেশন দিছ কি না?
ওসি প্রদীপ : এরপরে দিছি স্যার আমরা। আর্মিরে জানাইছি। আর্মির লোকজন আসছে, সবাই আসছে।
পরামর্শদাতা : এ কি আর্মির নাকি?
ওসি প্রদীপ : অবসরপ্রাপ্ত, স্যার ।
পরামর্শদাতা : ও, তাইলে এত ডরের কী আছে?
ওসি প্রদীপ : এখন স্যার ও মারা গেছে, ইনজিওরড অবস্থায় হাসপাতালে মারা গেছে।
পরামর্শদাতা : এর সঙ্গে যে লোকটা ছিল ওইটা কী?
ওসি প্রদীপ : ওইটা স্যার একটা ছাত্র, স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির। সে বলছে যে আমরা রাতের বেলা পাহাড়ের সিন নেয়ার জন্য.. ওরা নাকি স্যার ইউটিউবের একটা চ্যানেল করার জন্য আসছে ভ্রমণের উপরে।
পরামর্শদাতা : তোমরা তো অবস্ট্রাকশন দিছ, অবস্ট্রাকশন ভায়োলেট কইরা গেছে, গাড়ি চালাইছে।
গাড়িওয়ালারে এরেস্ট করছ কি না?
ওসি প্রদীপ : স্যার, গাড়িচালক তো ও নিজেই।
পরামর্শদাতা : ও আচ্ছা আচ্ছা, গাড়ি জব্দ করছ কি না?
ওসি প্রদীপ : জি স্যার, করছি।
পরামর্শদাতা : আচ্ছা তোমরা যে বাধা দিছ, ওভারটেক কইরা গেছে, এইটার সাক্ষী আছে কি না পাবলিক?
ওসি প্র দীপ : সাক্ষী আছে স্যার।
পরামর্শদাতা : সাক্ষী থাকলে মামলা কী নিছ বলো।
ওসি প্রদীপ : মামলা নিছি স্যার ১৮৬, ৩৫৩, ৩০৭।
পরামর্শদাতা : প্রেয়ার দিয়া দিবা যে একটা মার্ডার হইয়া গেছে।
ওসি প্রদীপ : আর আলাদা কোনো কেস দিতে হবে না স্যার?
পরামর্শদাতা : আরেকটা কেস কী নিবা?
ওসি প্রদীপ : আরেকটা কেস আমরা কী নিব? ও যে সদর হাসপাতালে মারা গেছে স্যার। সদর হাসপাতালের বিষয়ে একটা ইউডি কেস নিয়ে নিব স্যার?
পরামর্শদাতা : আমার তো মনে হয়, সদর থানারে দিয়া একটা ইউডি কেস করাইয়া রাখো।
ওসি প্রদীপ : ভালো হবে, না স্যার?
পরামর্শদাতা : আমার মনে হয় ভালো হয়। আর্মির লোক তো পরে টানাটানি করে কি না!
আর নাইলে তো... 
ওসি প্রদীপ : না হলে তো স্যার ওরা স্যার লাশ নিয়ে গেলে পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে যেকোনো সময়।  আমরা একটা মামলা করে ফেললে ওই মামলাটা ট্যাগ করা যাবে।
পরামর্শদাতা : তাহলে তোমরা একটা কাজ করো না, ৩০৪-এ-ও একটা মামলা নিয়া নিতে পারো।
ওসি প্রদীপ : ৩০৪-এ আমরা কী লিখ স্যার?
পরামর্শদাতা : লেখবা যে ইয়ার মধ্যে ইয়া হইছিল। আসামি হাউএভার মারা গেছে। এ কারণে মামলাটা রুজু করা হইলো। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
ওসি প্রদীপ : স্যার, ৩০৭-এ এখানে আসামির কলামে কী লিখব?
পরামর্শদাতা : না, আরেকটা সেপারেট মামলার জন্য বলছি। যেহেতু আসামি মারা গেছে, তাই এ মৃত্যুর জন্য মামলা করা হলো।
ওসি প্রদীপ : স্যার, মামলা নিব যে আসামির কলামে নাম লিখতে হবে না?
পরামর্শদাতা : পুলিশে গুলি করছিল, বুজছি তো। এই এজাহারটা পুরা লিখবা, যে এই এই কারণে তাকে অবস্ট্রাকশন করে আটকানো হইছিল। আটকানো হওয়ার পরে এই মামলা রজু হইছে। হাসপাতালে পাঠানোর পর সেখানে সে মারা গেছে। যেহেতু মানুষ মারা গেছে, তাই তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মামলা রজু করা হলো, ৩০৪-এ।
ওসি প্রদীপ : আসামি অজ্ঞাত।
পরামর্শদাতা : এইটা নিয়া রাখো। তাহলে এরা কোর্টে কেইস করলে এইটা ট্যাগ হইয়া যাবে।
ওসি প্রদীপ : স্যার, ৩০৪ আমি নিব নাকি সেখানে ডিউটি অফিসার দিয়ে নিয়ে রাখব সদর থানা দিয়ে?
পরামর্শদাতা : সদর থানায় লইব নাকি তোমার মামলা?
ওসি প্রদীপ : সব কিছু লেখার পর লেখবো যে সদর থানার মধ্যে মারা গেছে, স্যার।
পরামর্শদাতা : হ্যাঁ, হ্যাঁ। তোমার এজাহারটা হুবহু লেইখা যাইবা, যে এই এই মামলার আসামি, তাকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে পাঠানো হইয়াছিল। যেহেতু আসামি মারা গেছে হাসপাতালে, সেহেতু সে মারা গেছে হত্যা মামলা রুজু করা হলো। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হোক। এই বর্ণনা হুবহু লেখবা।
ওসি প্রদীপ : সব কিছু লিখে লাস্টে এটা লিখব।
পরামর্শদাতা : যেহেতু মারা গেছে, এসব ঘটনার কারণে ৩০৪-এ হত্যা মামলা রুজু করা হলো। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
ওসি প্রদীপ : ঠিক আছে স্যার, আসসালামু আলাইকুম।
পরামর্শদাতা : থ্যাংক ইউ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা