kalerkantho

সোমবার । ৬ আশ্বিন ১৪২৭ । ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৩ সফর ১৪৪২

রেস্তোরাঁয় প্রাণচাঞ্চল্য

ওয়েটার বেয়ারা মামা...

রোকন মাহমুদ    

৯ আগস্ট, ২০২০ ০২:৫২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ওয়েটার বেয়ারা মামা...

করোনা মহামারিতে কয়েক মাস বন্ধ ছিল রাজধানীর হোটেল-রেস্তোরাঁ। ঈদের পর ধীরে ধীরে খুলতে শুরু করেছে। সমাগমও প্রচুর। গতকাল পুরান ঢাকা থেকে তোলা। ছবি : লুৎফর রহমান

গতকাল শনিবার দুপুর দেড়টা। ইত্তেফাক মোড়ে বঙ্গভবন লাগোয়া দেশবন্ধু রেস্টুরেন্টে ঢুকেই চোখে পড়ল ৯ জন লোক পাশাপাশি বসে খাচ্ছেন। সবাই পার্শ্ববর্তী একটি ব্যাংকে কাজ করেন। জিজ্ঞেস করে জানা গেল, ঈদের পর কাজে যোগ দিলেও রেস্তোরাঁ বন্ধ থাকায় একসঙ্গে বসে খাওয়া হয়নি। তাই এখন সময় করে সবাই একসঙ্গে এসেছেন রেস্তোরাঁয় খেতে। একটু দূরে আরো দুজন খাচ্ছেন। একসঙ্গে ৫০ জন বসার মতো এই রেস্তোরাঁয় মিনিট দশেক পর আরো দুজন ঢুকে খাবারের অর্ডার দিলেন।

ক্যাশিয়ার রবি সরকার জানালেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর গতকালই প্রথম খোলা হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে ২০ থেকে ২৫ জন কাজ করলেও গতকাল ১৫ জন কাজে যোগ দিয়েছেন। প্রথম দিন হিসেবে বেচাকেনা খুব খারাপ নয়। সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় পাশের শেয়ারবাজার, সরকারি ব্যাংক এবং অন্য অনেক অফিস বন্ধ। কর্মদিবসে খদ্দের আরো বাড়বে বলেই আশা করছেন তিনি। তখন কর্মচারী সবাইকে আসতে হবে। করোনায় দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ঈদের আগেই পাড়া-মহল্লা ও বিভিন্ন এলাকার ছোট ছোট হোটেল-রেস্তোরাঁ খোলা শুরু হয়েছিল। এবার ঈদের পর দরজা খুলছে স্টার কাবাব, ফখরুদ্দিন, হীরাঝিল, ঘরোয়াসহ বড় ও ব্র্যান্ড রেস্তোরাঁগুলোও। একেবারে স্বাভাবিক সময়ের মতো না হলেও গত পাঁচ মাসের শূন্যতা কাটিয়ে ধীরে ধীরে মুখর হয়ে উঠছে হোটেল-রেস্তোরাঁর টেবিলগুলো।

‘ওয়েটার’, ‘বেয়ারা’, ‘মামা’ ইত্যাদি সম্বোধনে হোটেল স্টাফদের ডাকাডাকির পরিচিত দৃশ্য এখনো স্বাভাবিক হয়ে না উঠলেও টেবিলগুলো একেবারেই ফাঁকা নয়। রেস্তোরাঁ মালিকরা আশাবাদী কণ্ঠে বলছেন, কোরবানির ঈদের রেশ এখনো রয়েছে। চলতি সপ্তাহে এই রেশ কেটে গেলে ধীরে ধীরে বিক্রি আগের মতো হবে। তবে থেমে নেই পার্সেল সার্ভিস। আগের তুলনায় পার্সেলে বিক্রি কয়েক গুণ বেড়েছে বলেও জানালেন তাঁরা। যাঁরা রোজার ঈদের পরপরই রেস্তোরাঁ খুলেছিলেন তাঁদের বেচাকেনার বেশির ভাগই ছিল পার্সেলনির্ভর। এখন পরিস্থিতি অনেকটাই বদলেছে। সব রেস্তোরাঁয়ই বসে খাওয়ার ব্যবস্থাটা ফের চালু হয়েছে।

শুধু বাণিজ্যিক এলাকায় নয়। পুরান ঢাকা, পল্টন, ধানমণ্ডি, গুলশান, মোহাম্মদপুর, মিরপুরসহ সব এলাকার ছোট-বড় প্রায় সব রেস্তোরাঁই খুলে দেওয়া হয়েছে। বিক্রিও বাড়ছে বলে জানালেন গুলশানের পূর্ণিমা রেস্টুরেন্টের মালিক আনোয়ার হোসেন। রেস্টুরেন্ট মালিক সমিতির এই সহসভাপতি বলেন, ‘আমি যখন খুলেছিলাম তখন মনে হচ্ছিল বন্ধ করে দিতে হবে। কিন্তু এখন অবস্থা পরিবর্তন হয়েছে। বিক্রি স্বাভাবিক সময়ের মতো না হলেও অনেকটাই বেড়েছে।’ তিনি বলেন, ‘মালিক-কর্মচারী সবার পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। কত দিন আর বেকার থাকা যায়! তা ছাড়া এখন তো অফিস-আদালতের সবাই কাজে ফিরেছেন। সুতরাং তাঁদের খাওয়ার জন্যও হোটেল-রেস্তোরাঁ লাগে। যাঁরা এখনো খোলেননি তাঁরা ঈদের রেশ কেটে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। দু-এক দিনের মধ্যেই খুলবেন।’

দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে থাকা স্টার কাবাবের দুয়ার। লম্বা সময় স্টারের কাচ্চির স্বাদ না পেয়ে হতাশ ভোজন রসিকদের সুসংবাদ দিলেন স্বত্বাধিকারী মীর আখতার উদ্দিন দুলাল। তিনি বলেন, ‘আমাদের পুরান ঢাকা ও মোহাম্মদপুরের শাখা ঈদের আগেই খুলেছিলাম। ঈদের পর ধানমণ্ডি ও বনানীর শাখাও খুলে দেওয়া হয়েছে। কাল (আজ) এলিফ্যান্ট রোডের শাখাটিও খুলে দেওয়া হবে। আশা করছি, চলতি সপ্তাহ থেকে বিক্রি আগের চেয়ে বেশি হবে।’

স্টারের ঠাটারিবাজার শাখায় গতকাল দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, ৬০ থেকে ৮০ জন বসে খাচ্ছে। আরো জনা দশেক খদ্দের বসে আছে পার্সেলের অপেক্ষায়। কথা হয় মোহাম্মদ হোসেন নামে হোটেলটির এক কর্মকর্তার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘এখানে ৪০০ থেকে ৫০০ লোক বসে খাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে পার্সেলের অর্ডারই বেশি। এর পরিমাণ একেক দিন একেক রকম হলেও আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে।’

ইত্তেফাক মোড় থেকে মতিঝিল পর্যন্ত হীরাঝিল, রূপচাঁদাসহ মূল সড়কের পাশ ঘেঁষে বিভিন্ন নামে ৯টি রেস্তোরাঁর প্রায় সব কটিই খুলেছে। যাঁরা নিয়মিত মতিঝিল যান তাঁরা জানেন দুপুরবেলায় হীরাঝিলের ভেতরে মানুষে গমগম করে। হীরাঝিলের উল্টো দিকে সরষে ইলিশ রেস্তোরাঁটি খুলেছে গত সোমবার। রেস্তোরাঁর ব্যবস্থাপক নুরুল হক জানালেন, স্বাভাবিক সময়ের মতো না হলেও ৪০ শতাংশ খদ্দের পাওয়া যাচ্ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা