kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৪ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১১ সফর ১৪৪২

কালের কণ্ঠকে বিদ্যুৎ সচিব

সেপ্টেম্বরেই আলোকিত হচ্ছে মেঘনার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ নুনেরটেক

মোশতাক আহমদ   

৫ আগস্ট, ২০২০ ১৭:৫৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সেপ্টেম্বরেই আলোকিত হচ্ছে মেঘনার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ নুনেরটেক

আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যেই নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার মেঘনার নদীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ গ্রাম নুনেরটেককে বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ড. সুলতান আহমেদ।

আজ বুধবার কালের কণ্ঠকে তিনি এ তথ্য জানান। সুলতান আহমেদ বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকীতে দেশের শতভাগ এলাকা বিদ্যুতায়িত করার প্রতিশ্রুতি নিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ইতিমধ্যে আমরা ৯৭ ভাগ এলাকা বিদ্যুতায়িত করতে পেরেছি। বাকি তিনভাগ আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই সম্পন্ন করতে পারব বলে আশা করছি।

তিনি বলেন, আমাদের বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড প্রায় ২ কোটি ৯০ লাখ গ্রাহককে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে থাকে। তারমধ্যে গ্রিড এলাকাতে ৪৬১টি উপজেলার মধ্যে গত জুনের মধ্যে ৪৪০টি উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়িত করা গেছে। কিছু অফগ্রিড এলাকা আছে, এখানে ১০০৭টি গ্রামের মধ্যে তিনটি ফেইজে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হবে। প্রথম ফেইজে ৬৪৬টি গ্রামকে বিদ্যুতায়িত করব। এরই একটি গ্রাম হচ্ছে নুনেরটেক।

বিদ্যুৎ সচিব বলেন, সোনারগাঁও উপজেলার নুনেরটেক গ্রামে প্রায় এক হাজার পরিবার বসবাস করে। এ গ্রামটি দুই দিক থেকে মেঘনা নদী দ্বারা বেস্টিত। মাঝখানেও আধা কিলোমিটার চওড়া একটি নদী আছে। আমরা এখানে মূল গ্রিড থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার বিদ্যুতের লাইন আমরা বসিয়েছি। নদীর আধা কিলোমিটার পানির নিচ দিয়ে ৮টি সাবমেরিন কেবল যাবে। গ্রামের বাড়ি বাড়ি বিদ্যুৎ দিতে পোল বসানো হয়েছে। এখন বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া যাবে। তবে বর্ষায় পানি বেড়ে যাওয়ার কারণে কেবল স্থাপনে সমস্যা হচ্ছে। আমাদের কেবল রেডি আছে। পানি কমে গেলেই আগামী সেপ্টেম্বরেই গ্রামের এক হাজার পরিবারকে বিদ্যুতের আওতায় আনতে পারব।

এছাড়া এ গ্রামের বসবাসকারীদের কমার্শিয়াল ও অন্যান্য কাজের জন্য বিদ্যুতের চাহিদা আছে। আমরা ওভারহেড লাইনের মাধ্যমে তাদেরকে বিদ্যুতের সঙ্গে সংযুক্ত করব। ওভারহেড লাইনের কাজও চলছে। এটি শেষ হতে আরও এক বছর লাগবে।  

জানা গেছে, প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সোনারগাঁয়ের মূল ভূখণ্ড থেকে মেঘনা নদীর তলদেশ দিয়ে ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ লাইন টানার কাজ শুরু হয়। গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা ৫৪৭ দশমিক ৮৪ একর আয়তনের এ চরে বৈদ্যুতিক খুঁটি স্থাপনের কাজ উদ্বোধন করেন।

এ বিষয়ে এমপি খোকা কালের কণ্ঠকে বলেন, বর্তমান সরকার ঘোষিত ২০২১ সালের মধ্যে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার অংশ হিসেবে সোনারগাঁয়ে বিদ্যুৎবঞ্চিত এ চরে বিদ্যুৎসংযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

সূত্র মতে, মেঘনা নদীর মধ্যে প্রায় ২০০ বছর আগে জেগে ওঠা এ চরে বসবাসকারী বেশির ভাগ মানুষ মৎস্যজীবী ও কৃষিজীবী। নুনেরটেকবাসী স্বাধীনতার পর থেকেই স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে বিদ্যুতের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এবার বিদ্যুৎসংযোগের কাজ শুরু হওয়ায় আশার আলো দেখছে এখানকার মানুষ। 

নুনেরটেকের বাসিন্দা ওসমান আলী জানান, এ দ্বীপে দুটি প্রাইমারি স্কুল, একটি হাইস্কুল ও একটি মাদ্রাসা রয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় এখানকার শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সমস্যা হয়। বিদ্যুৎ এলে সে সমস্যার নিরসন হবে বলে আশা করি।

বারদী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান জহিরুল হক বলেন, আমার ইউনিয়নের নুনেরটেক দ্বীপটি ছিল বিদ্যুৎবিহীন একটি জনপদ। এখানকার মানুষ বিদ্যুতের জন্য দীর্ঘদিন থেকে দাবি জানিয়ে এলেও তাদের এ দাবি পূরণ করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু বর্তমান সরকার এ প্রত্যন্ত দ্বীপে বিদ্যুৎসংযোগ দেওয়ার যে উদ্যোগ নিয়েছে তা সত্যি প্রশংসনীয়।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অচিরেই এ দ্বীপে আরও উন্নয়নমূলক কাজ করা হবে। চরটিকে আধুনিক শহরের সুযোগ সুবিধাসমৃদ্ধ একটি জনপদ হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা