kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৪ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১১ সফর ১৪৪২

আইভারমেকটিন চীনা ভ্যাকসিন ও টেনোফোভিরে অগ্রগতি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৫ আগস্ট, ২০২০ ০২:৩৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আইভারমেকটিন চীনা ভ্যাকসিন ও টেনোফোভিরে অগ্রগতি

দেশে করোনাভাইরাস ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের আরেক ধাপ অগ্রগতি হয়েছে। সেই সঙ্গে বহুল আলোচিত আইভারমেকটিনের সঙ্গে ডক্সিসাইক্লিনের যৌথ ডোজে করোনামুক্ত হওয়ার উপায় উদ্ভাবনকারী অধ্যাপক ডা. তারেক আলম এই ওষুধের আনুষ্ঠানিক ট্রায়ালের অনুমোদন পেয়েছেন। দেশের আরেক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক করোনা নিয়ন্ত্রণে এইডস ও হেপাটাইটিস আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহার করা আরেকটি ওষুধের সাফল্যের কথাও জানিয়েছেন।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আব্দুল মান্নান গতকাল মঙ্গলবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে দেশে চীনা একটি কম্পানির ভ্যাকসিনের ট্রায়াল বিষয়ে আইসিডিডিআর,বির প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘চীনের একটি বেসরকারি কম্পানি উদ্ভাবিত করোনার একটি ভ্যাকসিনের তিন ধাপের ট্রায়ালের জন্য আইসিডিডিআর,বির সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আবেদন জানায়। আইসিডিডিআর,বি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে এসংক্রান্ত কাগজপত্র স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে। এগুলো পর্যালোচনা করে আইসিডিডিআর,বিকে ট্রায়াল শুরুর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। দেশে ট্রায়াল শুরু হয়ে ফলাফল পেতে যে সময় লাগবে তার আগে অন্য কোনো দেশের সফল ভ্যাকসিন মিলে গেলে সেগুলো পেতেও আমরা যোগাযোগ রাখছি।’

এর আগে চীনের সিনোভেক রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কম্পানি লিমিটেডের উদ্ভাবনপ্রক্রিয়ায় থাকা কভিড-১৯-এর ভ্যাকসিন সিনোভেক বাংলাদেশের মানুষের শরীরে পরীক্ষামূলক প্রয়োগ বা ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের বিষয়ে আইসিডিডিআর,বিকে নীতিগত ছাড়পত্র দেয় বাংলাদেশ মেডিক্যাল রিসার্চ সেন্টার (বিএমআরসি)। পরের ধাপে আইসিডিডিআর,বি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কাছে আবেদন জমা দেওয়ার আগেই স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব একটি গণমাধ্যমকে জানান, এই ভ্যাকসিনের ট্রায়াল বাংলাদেশে হবে না, বিএমআরসি এমন অনুমতি দেওয়ার এখতিয়ারও রাখে না। এ নিয়ে পরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। পরে গতকাল আইসিডিডিআর,বির প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক হয় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবের।

বাংলাদেশে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. তারেক আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আইভারমেকটিন ও ডক্সিসাইক্লিনের যে কম্বিনেশন ডোজ আমি উদ্ভাবন করেছি, তা এখন ভারতসহ বেশ কিছু দেশ অনুসরণ করছে। এ ছাড়া বিএমআরসি থেকে আমাকে আনুষ্ঠানিক ট্রায়ালের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আমি ট্রায়ালের প্রস্তুতি নিচ্ছি। ১০০ জনের ওপর এই ওষুধের ডোজ প্রয়োগ করে এরই মধ্যে যে সাফল্য পাওয়া গেছে তা নিয়ে বাংলাদেশের বিসিপিএস জার্নালে একটি আর্টিকলও প্রকাশিত হয়েছে।’

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে আইভারমেকটিন ব্যবহারে করোনায় আক্রান্ত হয়ে আইসিইউয়ে থাকা রোগীর ৪০ শতাংশের মৃত্যু কমানো গেছে, এমন তথ্য নিয়েও দেশে নতুন করে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।

ডা. তারেক আলম বলেন, ‘আমি আইভারমেকটিন ও ডক্সিসাইক্লিনের ডোজ থেকে সাফল্য পেয়েছি করোনা থেকে মুক্তি পাওয়ার, আর যুক্তরাষ্ট্রে আইভারমেকটিন ব্যবহারে জটিল করোনা রোগীদের মৃত্যু ৪০ শতাংশ ঠেকানোর বিষয়টি নিয়েও কাজ করার চিন্তাভাবনা রয়েছে।’

আবার করোনা রোগীদের চিকিৎসায় টেনোফোভির ও ফ্যাভিপিরাভির এবং টেনোফোভির ও রিভাভিরিন—এই যুগল ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণা শুরু করেছেন দেশের আরেক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. এম এ হাসান। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, ওই ওষুধের ব্যবহারে চার-পাঁচ দিনের মধ্যে ২৫ থেকে ৫০ বছর বয়স্ক রোগীরা সুস্থ হয়ে উঠছেন। আর ৫০ থেকে ৭০ বছর বয়সের রোগীদের এই ওষুধে করোনা থেকে সেরে উঠতে সময় লাগছে ৯ থেকে ১০ দিন। এই গবেষণা আরো পরীক্ষার জন্য নরওয়ে, নিউজিল্যান্ড ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে পাঠানো হয়েছে। নিউজিল্যান্ডের স্বাস্থ্যমন্ত্রী তাঁকে এ নিয়ে ইতিবাচক একটি চিঠি পাঠিয়েছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা