kalerkantho

বুধবার । ২১ শ্রাবণ ১৪২৭। ৫ আগস্ট  ২০২০। ১৪ জিলহজ ১৪৪১

ভয়াবহ বন্যার মুখোমুখি বাংলাদেশ, ক্ষতিগ্রস্ত ৩৩ লাখেরও বেশি মানুষ

বন্যাবিধ্বস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে কেয়ার বাংলাদেশ

অনলাইন ডেস্ক   

৩০ জুলাই, ২০২০ ১৪:৫৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বন্যাবিধ্বস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে কেয়ার বাংলাদেশ

উজান অঞ্চলে গত কয়েক সপ্তাহের ভারী মৌসুমি বৃষ্টিপাত থেকে তৈরি হওয়া প্রবল পানির স্রোত ভাটিতে থাকা বাংলাদেশের উত্তর, উত্তর-পূর্ব এবং দক্ষিণ-পূর্ব এলাকার ২১টি জেলার বিভিন্ন অঞ্চল ডুবে যাওয়ায় ইতোমধ্যে ৩৩ লাখের বেশি মানুষ ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। 

বন্যার পরিস্থিতির চরম অবনতি আম্পান ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের জীবনে গোদের উপর বিষফোঁড়া হয়ে দেখা দিয়েছে। গত মে মাসে সংঘটিত আম্পান ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত ঘরবাড়ি, অবকাঠামো ও ফসল নষ্টের ধাক্কা সামলাতে হিমশিম খাওয়া পরিবারগুলো বন্যার কারণে আরো বেশি বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। এই রকম এক পরিস্থিতিতে কেয়ার বাংলাদেশ বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। সংস্থাটি বন্যাকবলিত মানুষের প্রয়োজনীয়তাকে বিবেচনায় রেখে বাস্তবায়নকারী অংশীদার সংস্থাগুলোর মাধ্যমে সহায়তা ও উদ্ধার কর্মসূচি শুরু করেছে এবং বন্যার্ত মানুষদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করছে। 

কিছু প্লাবিত এলাকায় মানুষের চলাচল নিরবচ্ছিন্ন ও দ্রুততর করতে কেয়ার-বাংলাদেশ ড্রাম দিয়ে ভেলা তৈরি করেছে। এই ধরনের ভেলা ব্যবহারে উপকারভোগীদের একজন গাইবান্ধা জেলার আবদুল করিম বলেন, 'ভেলা তৈরির আগে খালের ওপাড়ে যেতে আমাদেরকে ৪ কিলোমিটার ঘুরে যেতে  হতো। এখন ড্রাম ভেলায় চড়ে আমরা আমাদের দরকারি জিনিসপত্র, এমনকি সাইকেল পর্যন্ত সহজেই ওপাড়ে যেতে পারি। এমন ভেলা পেয়ে আমরা খুবই খুশি। এতোবড় উপকারের কথা আমরা কখনোই ভুলব না।'

বন্যাপ্লাবিত কিছু কিছু এলাকায় কেয়ার বাংলাদেশ অবকাঠামোগত সহায়তা দিচ্ছে। যেমনটা বলছিলেন কুড়িগ্রাম জেলার মুক্তা আক্তার, 'চারিদিকে শুধু পানি আর পানি। মানুষ উচুঁ জায়গা খুঁজে আশ্রয় নিয়েছে ঠিকই কিন্তু এখানে কোন লেট্রিনের (টয়লেট) ব্যবস্থা ছিল না। এই বিপদ থেকে আমাদেরকে উদ্ধার করেছে কেয়ার বাংলাদেশ। টয়লেট তৈরি করে দেয়ায়  নারীরাসহ সবাই সুবিধা পাচ্ছে।'

'বন্যা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটছে এবং কিছু এলাকায় পানিবাহিত রোগ রোগ ছড়াচ্ছে। মানুষজন এমনিতেই কোভিড-১৯ এর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত। তার উপর কিছু কিছু এলাকায় নদী ভাঙ্গন ভয়ংকর আকার ধারণ করেছে।' এভাবেই বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বলছিলেন কেয়ার বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর রমেশ সিং। বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকারের নেয়া উদ্যোগগুলো স্বাগত জানিয়ে তিনি আরো বলেন, 'সঙ্কটময় এই সময়ে কেয়ার বাংলাদেশ সাধ্যের সবটুকু নিয়ে মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে।'

দুর্যোগময় এই পরিস্থিতি প্রসঙ্গে কেয়ার বাংলাদেশের হিউম্যানিটারিয়ান অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স প্রোগ্রামের পরিচালক কাইছার রেজভী বলেন, 'এই বছর কভিড-১৯ বৈশ্বিক মহামারির মধ্যে বাংলাদেশকে বহুমুখী জটিল পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হচ্ছে। এই অবস্থায় জুলাই মাসের শুরু থেকে কেয়ার বাংলাদেশ বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনার লক্ষ্যে পূর্বাভাসভিত্তিক তথ্য ব্যবস্থাপনাকে কাজে লাগিয়ে বন্যা আসার আগে থেকেই আগাম ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছিল।' বন্যা দীর্ঘায়িত হওয়ার সম্ভাবনাকে বিবেচনায় রেখে কেয়ার বাংলাদেশ এই মানবিক সঙ্কট চলাকালীন জরুরি প্রয়োজন মেটাতে তাদের কাজ অব্যাহত রেখেছে বলে তিনি জানান।

সহায়তা কর্মসূচির অংশ হিসেবে কেয়ার বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের মাঝে নগদ অর্থ প্রদান, বিভিন্ন ধরনের ত্রাণসামগ্রী বিতরণ, নির্মাণ সহায়তা এবং জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা ও যৌন প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার সংশ্লিষ্ট সেবা দেয়ার পরিকল্পনা করেছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা