kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৬ আশ্বিন ১৪২৭ । ১ অক্টোবর ২০২০। ১৩ সফর ১৪৪২

রাজধানীর পশুর হাটে মানা হচ্ছে না করোনা নির্দেশনা

শাখাওয়াত হোসাইন ও জহিরুল ইসলাম    

২৯ জুলাই, ২০২০ ১০:৩২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রাজধানীর পশুর হাটে মানা হচ্ছে না করোনা নির্দেশনা

ফাইল ফটো

পশুর হাটের পাশেই মাস্ক ও স্যানিটাইজার বিক্রি করছেন ফেরিওয়ালা। কোনো কোনো হাটে হাত ধোয়ারও আছে ব্যবস্থা। কিন্তু এসবে ভ্রুক্ষেপ নেই পশু ব্যবসায়ীদের। পশু বিক্রি হবে কি না, সেটা নিয়েই তাঁদের যত দুশ্চিন্তা। সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ইজারাদাররাও তেমন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছেন না। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর বেশ কয়েকটি পশুর হাটে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটির রহমতগঞ্জ খেলার মাঠ সংলগ্ন পশুর হাটের মূল গেটে মাস্ক নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন ফেরিওয়ালা মিয়া হায়দার। ডান পাশে বসে আছেন চকবাজার থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্য। হাটে ঢুকতে হলে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক। তাই মাস্ক নিয়ে না এলে পাঁচ টাকায় কিনে নিতে হচ্ছে অনেককে। আবার বিভিন্ন ছুতায় না কিনেই ঢুকে যাচ্ছে কেউ কেউ। যাঁরা কিনছেন তাঁদের বেশির ভাগ আবার হাটে ঢুকে পকেটে ঢুকিয়ে রাখছেন মাস্ক। তাই হাটের ভেতরে মাস্ক পরা ক্রেতা-বিক্রেতার সংখ্যা খুবই কম। একই রকম চিত্র দেখা গেছে উত্তরার বৃন্দাবন ও কাওলা শিয়ালডাঙ্গা অস্থায়ী পশুর হাটে। প্রতিটি হাটে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গরুর মধ্যে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখার শর্ত রয়েছে; কিন্তু তা করা হয়নি। এ ছাড়া হাত ধোয়ার ব্যবস্থা ও ক্রেতা-বিক্রেতাদের তাপমাত্রা পরীক্ষার কোনো সুযোগ ছিল না অনেক হাটে। ক্রেতার খুব বেশি চাপ না থাকলেও দূরত্ব বজায় না রেখে কোথাও কোথাও দেখা গেছে মানুষের জটলা।

রহমতগঞ্জ খেলার মাঠ সংলগ্ন পশুর হাটের ইজারাদার হাজি সফি মাহমুদ বলেন, ‘গেটে লোক লাগাইছি। কেউ মাস্ক না আনলে দেওয়া অইতাছে।

 তয় ভিতরে ঢুইকা মানুষ পকেটে রাইখা দিলে কী করমু? হাত ধোয়ার জায়গা করতাছি। এহনো মানুষের চাপ বাড়ে নাই, তাই আস্তে-ধীরে অইতাছে।’

এদিকে গতকাল বৃষ্টি হওয়ার কারণে পশুর হাট কর্দমাক্ত হয়ে আরো নোংরা হয়েছে। বৃষ্টির কারণে প্রত্যাশা অনুযায়ী হাটে আসেনি ক্রেতা। গরু বিক্রেতাদের থাকার জায়গাও অপরিষ্কার। স্যাঁতসেঁতে মেঝেতে ঠাসাঠাসি করে ঘুমান বলেও জানিয়েছেন শ্রমিকরা। হাটে ক্রেতা না থাকায় এবং বিক্রি কম হওয়ায় চিন্তার ভাঁজ দেখা গেছে ব্যবসায়ীদের কপালে। কথায়ও সেই একই উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা।

কুষ্টিয়া থেকে উত্তরার বৃন্দাবন হাটে গরু নিয়ে আসা ব্যবসায়ী আনিসুর রহমান বলেন, ‘আমাদের আর সুরক্ষা। এইভাবে থাইকে চালানের ট্যাকাটা নিয়ে বাড়ি যাইত পারলেই অয়। কপালে কী আছে বইলতে পারইবো নানে। এই করোনা গরিবরে শেষ করে দিছে।’

কুষ্টিয়ার পোড়াদহ থেকে তিন দিন আগে আটটি গরু নিয়ে রহমতগঞ্জ হাটে এসেছেন সারোয়ার মিয়া। মুখে মাস্ক না দেখে জানতে চাইলে বলেন, ‘মাস্ক পকেটে আছে।’

বেশির ভাগের অবস্থা একই রকম। গেট থেকে বের হতে কমপক্ষে ১৫ জনকে মাস্ক নেই কেন জানতে চাইলে—মাস্ক পকেটে, বৃষ্টিতে ভিজে গেছে, মাস্ক নেইসহ বিভিন্ন ধরনের উত্তর পাওয়া গেছে। মাস্ক না থাকায় ক্রেতারাও কিছুটা চিন্তিত।

লালবাগ এলাকার বাসিন্দা চকবাজারের ব্যবসায়ী আরেফিন বলেন, ‘দেখতাছি। বড় সাইজের গরু কিনমু। তয় ভয় লাগতাছে। মাস্ক নাই কারো মুখে। সচেতনতা কম থাকার কারণে অনেকে মাস্ক পরতাছে না।’

এদিকে গত সোমবার ধানমণ্ডি লেকে মাছের পোনা অবমুক্ত করার সময় হাটের সুরক্ষা নিয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছেন দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস। গতকাল ভাটারার সাঈদনগর পশুর হাট পরিদর্শনে এসে একই ধরনের বার্তা দিয়েছেন উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম। গতকাল থেকেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার কথা হাটগুলোতে। তবে আজ বুধবার থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম আরো কঠোর হবে বলে জানিয়েছেন সিটি করপোরেশনের একাধিক কর্মকর্তা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা