kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৪ আগস্ট ২০২০ । ২৩ জিলহজ ১৪৪১

বিপিও’র প্রতিবেদন

করোনা উপসর্গ নিয়ে দেশে ১৭৭৬ জনের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ জুলাই, ২০২০ ১৮:৪১ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



করোনা উপসর্গ নিয়ে দেশে ১৭৭৬ জনের মৃত্যু

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত করোনা উপসর্গ নিয়ে দেশে ১৭৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে। বিভাগটিতে করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছে মোট ৫৫২ জন। দ্বিতীয় অবস্থানে ঢাকা বিভাগে করোনার উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৩৭১ জনের।

ওই সময়ের মধ্যে করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যায় এরপর পর্যায়ক্রমে রয়েছে খুলনা বিভাগ (২২৭ জন), বরিশাল বিভাগ (২১০ জন), রাজশাহী বিভাগ (১৮৩ জন), সিলেট বিভাগ (৯৫ জন), রংপুর বিভাগ (৮১ জন) এবং সবার শেষে ময়মনসিহংহ বিভাগ (৫৭ জন)। বাংলাদেশ পিস অবজারভেটরি-বিপিও এর এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

আজ বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে এটি প্রস্তুত করা হয়েছে বলে বিপিও’র ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজের (সিজিএস) গবেষণা প্রকল্প বিপিও দেশে করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকে প্রতি সপ্তাহে হালনাগাদ তথ্য নিয়ে এই তথ্যচিত্র প্রকাশ করে আসছে।

বিপিও’র ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনার কারণে অপমান ও সামাজিকভাবে হেয় করার ২৩১টি ঘটনা ঘটেছে। করোনা আক্রান্ত না হয়েও মেডিকেল পেশজীবিদের কাছ চিকিত্সা পাননি ৬৭ জন ব্যক্তি। করোনায় মৃত্যুর কারণে মৃতদেহ দাফন বা শেষকৃত্য করতে অস্বীকারের ঘটনা ঘটে ৫৮ টি। করোনা আক্রান্ত হওয়ায় বাড়ি থেকে বিতাড়িত করা হয় ১২ জনকে, পরিবার ছাড়া হন ৪৫ জন এবং মেডিক্যাল পেশাজীবী সংক্রান্ত হয়ারানির ১৯ টি ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া হয়রানি ও অপমানের শিকার হন ১৩ জন এবং আত্মহত্যা করেন দুইজন।

এ পর্যন্ত দেশে করোনাভাইরাসের কারণে ১১ জুলাই পর্যন্ত ১৩৫টি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ৫৫৩ জন আহত এবং ১৮ জন নিহত হয়। সর্বশেষ জুন মাসে করোনাজনিত কারণে সংঘটিত ১৬ সংঘর্ষের ঘটনায় ৯২ জন আহত এবং পাঁচজন নিহত হয়েছে।

করোনাকালীন সময়ে ত্রাণ আত্মসাত ও দুর্নীতির জন্য ১১ জুলাই পর্যন্ত দেশে মোট ১০৭ জন জনপ্রতিনিধিকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এদিকে ত্রাণ আত্মসাত, মানহীন গ্লাভ, মাস্ক, পিপিই, অক্সিজেন সিলিন্ডার বিক্রি, খাদ্যে ভেজাল, দুর্নীতি এবং করোনাভাইরাস সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশনা লঙ্ঘনের মতো অপরাধ ও অনিয়মে জড়িত মোট ৫৮৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জরিমানা করা হয়েছে ১১ হাজার ৪৭৫ জনকে। করোনাভাইরাস সম্পর্কে গুজব ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর ৮৫টি ঘটনায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ৮৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। সবচেয়ে বেশি ৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ঢাকা বিভাগ থেকে আর সবচেয়ে কম ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে রাজশাহী বিভাগ থেকে। করোনাভাইরাসের কারণে মস্তিষ্ক বিকৃতি সংক্রান্ত ১৩৩ টি ঘটনা ঘটেছে বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরমধ্যে করোনার উপসর্গ নিয়ে আইসোলেশনে থাকা অবস্থায় পালিয়ে যাওয়া কিংবা করোনা আক্রান্ত হওয়ায় আত্মহত্যা করা, করোনা আক্রান্ত এলাকা থেকে অন্য এলাকায় স্থানান্তরিত হওয়া, করোনা আক্রান্ত হওয়ায় পুরো প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

করোনা মহামারির প্রতিবন্ধকতা ভেঙে স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরে আসার প্রবণতা পূর্বের চেয়ে বেড়েছে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত এধরণের ১৯৫১টি ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ এই প্রবণতা ১৬ শতাংশ বেড়েছে। এদিকে, করোনার সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় ২১২ বিক্ষোভ হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৩ শতাংশ বিক্ষোভ হয়েছে বকেয়া বেতনে ও ঈদ বোনাসের দাবিতে। এ ছাড়া ত্রাণসামগ্রী ও খাদ্য সহায়তার দাবিতে  ২৪ শতাংশ, লকডাউনের নিয়মের প্রতিবাদে ও বাড়ি ভাড়া-টিউশন ফি কমানোর দাবিতে প্রতিবাদ আন্দোলন বেড়ে ১৩ শতাংশ হয়েছে। কর্ম থেকে ছাটাই, কারখানা বন্ধ ও বেতন কমানোর বিরুদ্ধে ১২ শতাংশ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। পর্যাপ্ত ও মানসম্পন্ন চিকিত্সা সামগ্রীর দাবিতে ১০ শতাংশ বিক্ষোভ হয়েছে। অনিয়মিতভাবে ত্রাণ বিতরণের প্রতিবাদে পাঁচ শতাংশ বিক্ষোভ হয়েছে। চার শতাংশ বিক্ষোভ হয়েছে গণপরিবহণের ভাড়া কমানোর দাবিতে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা