kalerkantho

শুক্রবার । ২৩ শ্রাবণ ১৪২৭। ৭ আগস্ট  ২০২০। ১৬ জিলহজ ১৪৪১

পরনে বোরকা, গলায় গামছা; মুখখানা গোবেচারা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৫ জুলাই, ২০২০ ১১:০৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পরনে বোরকা, গলায় গামছা; মুখখানা গোবেচারা

পরনে বোরকা। কোমরে বেল্টের ফাঁকে গোঁজা পিস্তল। শরীরজুড়ে কাদামাটির দাগ। গলায় গামছা। মুখখানা গোবেচারা। যেন সিনেমার শুটিংয়ে থাকা কোনো চরিত্র।

কিন্তু সিনেমা নয়, একেবারেই বাস্তব। এই চেহারায়ই সীমান্ত অভিযানে বের হন রাজামশাই। হ্যাঁ, রাজা-ই বটে। প্রতারকদের রাজা, শঠদের রাজা। বহুমুখী শঠতার প্রতিভাধারী এই ধূর্তকে  অবশেষে ব্যর্থ মনোরথে ফিরতে হয়েছে। র‍্যাব তাকে আতিথেয়তা ছাড়া ছাড়ল না। কি আর করা!

আজ বুধবার (১৫ জুলাই) র‍্যাবের সঙ্গে হেলিকপ্টারে চেপে রাজধানীতে ফিরেছেন তিনি। সকাল ৯টায় তেজগাঁওয়ের পুরনো বিমানবন্দরে অবতরণ করে তাকে বহনকারী হেলিকপ্টার।

সাহেদের গ্রেপ্তারের ঘটনাবহুল উপাদান এরইমধ্যে পাঠককে বেশ আকর্ষণ করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, টেলিভিশনের দর্শক আর সংবাদের পাঠকের কাছে উপাদানগুলো এখন ঠাট্টা মশকরায় পরিণত হয়েছে।

জানা গেছে, পালিয়ে থাকতে চুলে কালো রং করেন তিনি। কেটে ফেলেন গোঁফও। যথাসাধ্য চেষ্টা করেন চেহারা বদলের। পরিকল্পনা করেছিলেন  ভারতে পালিয়ে গিয়ে আত্মগোপন করবেন। মাথা ন্যাড়া করার পরিকল্পনাও ছিল তার।

বহুমুখী প্রতারক সাহেদকে যে স্থান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তার অদূরেই বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত। সেখান থেকে ভারতে প্রবেশ করার চেষ্টা করছিলেন তিনি। এ জন্য বার বার পরিকল্পনা পরিবর্তন করছিলেন প্রতারক সাহেদ। কিন্তু কোনও কিছুতেই শেষ রক্ষা হয়নি। 

আজ বুধবার (১৫ জুলাই) ভোর ৫টা ১০ মিনিটে  সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার কোমরপুর গ্রামের ইছামতি খালের পাশ থেকে সাহেদকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। গ্রেপ্তারের পর আজ বুধবার (১৫ জুলাই) সকাল ৯টায় তাকে বহনকারী হেলিকপ্টার অবতরণ করে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের পুরনো বিমানবন্দরে।

অবতরণের পর সংবাদ সম্মেলনে সাহেদকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল তোফায়েল মোস্তফা সরোয়ার বলেন, আজ বুধবার (১৫ জুলাই) ভোর ৫টা ১০ মিনিটে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার কোমরপুর গ্রামের ইছামতী খালের পাশ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অতিরিক্ত মহাপরিচালক বলেন, সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার কোমরপুর গ্রামের ইছামতী খালের বিপরীত পাশেই অবস্থিত বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত। ভোররাতেই ওই সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশের কথা ছিল সাহেদের। কিন্তু আমাদের গোয়েন্দা দল সেখানে অবস্থান নিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করতে সমর্থ্য হয়।

অতিরিক্ত মহাপরিচালক আরো বলেন, সীমান্ত অতিক্রমের জন্য বার বার পরিকল্পনা পরিবর্তন করছিলেন সাহেদ। সর্বশেষ সাতক্ষীরা সীমান্ত থেকে তিনি জেলার দেবহাটা উপজেলার কোমরপুর গ্রামে লবঙ্গবতী নামে একটি খাল আছে। তার আরো একটি খালে আছে ইছামতী। এই খালেরই বিপরীত পাশে ভারত সীমান্ত। সীমান্ত ঘেষে নদী থাকলে তার বিপরীত পাশে  কাটাতারের বেড়া ও পাহারা দুর্বল থাকে। ফলে সাহেদ এই স্থানটিকে বেছে সীমান্ত পার হওয়ার জন্য। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

করোনা রোগীদের চিকিৎসার নামে প্রতারণাসহ বিভিন্ন অভিযোগে গত সোমবার (৬ জুলাই) রাতে রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর কার্যালয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে র‍্যাব। এতে করোনার সনদ দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার প্রমাণ মেলে। অন্তত ছয় হাজার ভুয়া করোনা পরীক্ষার সনদ পাওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায় অভিযানে।

পরদিন মঙ্গলবার রিজেন্ট হাসপাতালের বিরুদ্ধে মামলা করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। মামলায় প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মো. সাহেদসহ ১৭ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার আসামিরা হলেন হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ (৪৩), ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাসুদ পারভেজ (৪০), অ্যাডমিন আহসান হাবীব (৪৫), এক্সরে টেকনিশিয়ান হাসান (৪৯), মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট হাকিম আলী (২৫), রিসিপশনিস্ট কামরুল ইসলাম (৩৫), রিজেন্ট গ্রুপের প্রজেক্ট অ্যাডমিন রাকিবুল ইসলাম (৩৯), রিজেন্ট গ্রুপের এইচআর অ্যাডমিন অমিত অনিক (৩৩), গাড়িচালক আব্দুস সালাম (২৫), এক্সিকিউটিভ অফিসার আব্দুর রশীদ খান জুয়েল (২৮), হাসপাতাল কর্মচারী তরিকুল ইসলাম (৩৩), স্টাফ আব্দুর রশিদ খান (২৯), স্টাফ শিমুল পারভেজ (২৫), কর্মচারী দীপায়ন বসু (৩২) এবং মাহবুব (৩৮)। অপর দু'জনের নাম জানা যায়নি।

১৭ জন আসামির মধ্যে এমডি মাসুদ পারভেজসহ আট জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে রিজেন্ট চেয়ারম্যান শাহেদসহ ৯ জন পলাতক। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে র‍্যাব।

মঙ্গলবার রোগী স্থানান্তরের পর উত্তরা ও মিরপুরের দুটি হাসপাতালই সিলগালা করে দেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এদিন সিলগালা করা হয় রিজেন্ট গ্রুপের প্রধান কার্যালয়ও।

আগের দিন সোমবার রাতে চালানো অভিযানে অননুমোদিত র‌্যাপিড টেস্টিং কিট ও সাহেদের গাড়ি জব্দ করা হয়। র‌্যাবের অভিযানে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের ১৭ নম্বর সড়কে অবস্থিত রিজেন্ট হাসপাতাল লিমিটেডের বিরুদ্ধে বহু অপকর্মের তথ্য-প্রমাণ মিলেছে। মূলত এর পরই দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন সাহেদ। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা