kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২২ শ্রাবণ ১৪২৭। ৬ আগস্ট  ২০২০। ১৫ জিলহজ ১৪৪১

নৌকায় করে ভারতে পালানোর চেষ্টা করছিলেন বহুমুখী প্রতারক সাহেদ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৫ জুলাই, ২০২০ ০৮:৪১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



 নৌকায় করে ভারতে পালানোর চেষ্টা করছিলেন বহুমুখী প্রতারক সাহেদ

সাতক্ষীরা সীমান্তের দেবহাটা থানার সাকড় বাজারের পাশে লবঙ্গবতি এলাকায় নৌকায় অবস্থান করছিলেন সাহেদ, চেষ্টা করছিলেন ভারতে পালিয়ে যাওয়ার। ঠিক করা ছিল দালালও। বুধবার ১৫ জুলাই ভোর ৫টা ১০ মিনিট। পলাতক সাহেদকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় র‍্যাব। তাঁকে সাতক্ষীরা স্টেডিয়াম থেকে হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় আনার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। 

জানা গেছে, সাতক্ষীরার সীমান্তবর্তী স্থানীয় একজন কালোবাজারির মাধ্যমে ডিঙি নৌকায় চেপে ভারতে পালানোর চেষ্টা করছিলেন সাহেদ। ঠিক সেই সময় র‍্যাবের বিশেষ টিম অভিযান চালিয়ে তাঁকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করে।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক আশিক  বিল্লাহ বহুল আলোচিত রিজেন্ট হাসপাতাল প্রতারণা মামলার প্রধান পলাতক আসামি ও রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান সহেদ করিমকে গ্রেপ্তার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এ সময় সাহেদের কাছ থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

আশিক বিল্লাহ  আরো জানান, সাহেদকে ঢাকায় আনার জন্য র‌্যাবের একটি বিশেষ টিম সাতক্ষীরা যাচ্ছে। সকাল ৯টার দিকে হেলিকপ্টারযোগে তাঁকে ঢাকায় আনার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি জানান, সাহেদ ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার কোমরপুর গ্রামের লবঙ্গবতি নদীতীরবর্তী সীমান্ত থেকে আনুমানিক ৫.০০ থেকে ৫.৩০-এর দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগেও একবার একই সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়েছিলেন সাহেদ।

এর আগে রিজেন্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ পারভেজকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। মঙ্গলবার বিকেলে গাজীপুরের কাপাসিয়া থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সরকারের সঙ্গে চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে টাকার বিনিময়ে করোনাভাইরাস শনাক্তের নমুনা সংগ্রহ করা এবং ভুয়া সনদ দেওয়ার অভিযোগে ৬ জুলাই রিজেন্ট হাসপাতালে অভিযান চালায় র‍্যাব। পরদিন উত্তরা পশ্চিম থানায় র‌্যাব বাদী হয়ে মো. সাহেদকে এক নম্বর আসামি করে মামলা করে। সেই মামলায় ৯ দিন পলাতক থাকার পর গ্রেপ্তার হলেন মো. সাহেদ।

ওই মামলায় সাহেদকে প্রধান আসামি করে মোট ১৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। সে সময় প্রধান আসামিসহ ৯ জন আসামিকে পলাতক দেখিয়ে এজাহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। আসামিরা হলেন-রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ পারভেজ, রিজেন্ট হাসপাতালের কর্মী তরিকুল ইসলাম, আবদুর রশিদ খান জুয়েল, মো. শিমুল পারভেজ, দীপায়ন বসু, আইটি কর্মকর্তা মাহবুব, সৈকত, পলাশ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা আহসান হাবীব (১), হেলথ টেকনিশিয়ান আহসান হাবীব (২), হেলথ টেকনোলজিস্ট হাতিম আলী, অভ্যর্থনাকারী কামরুল ইসলাম, রিজেন্ট গ্রুপের প্রকল্প প্রশাসক মো. রাকিবুল ইসলাম, রিজেন্ট গ্রুপের মানবসম্পদ কর্মকর্তা অমিত বণিক, রিজেন্ট গ্রুপের গাড়িচালক আবদুস সালাম ও নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুর রশিদ খান।

উল্লেখ্য, গত ৬ জুলাই র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলমের নেতৃত্বে রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। পরীক্ষা ছাড়াই করোনার সনদ দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা ও অর্থ হাতিয়ে নিয়ে আসছিল তারা। র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত অন্তত ছয় হাজার ভুয়া করোনা পরীক্ষার সনদ পাওয়ার প্রমাণ পায়। এক দিন পর গত ৭ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশে র‌্যাব রিজেন্ট হাসপাতাল ও তার মূল কার্যালয় সিলগালা করে দেয়। এর পর থেকে মো. সাহেদ পলাতক ছিলেন। সাহেদের খোঁজে সোমবার মৌলভীবাজারে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হলেও সেখানে তাঁকে পাওয়া যায়নি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা