kalerkantho

সোমবার । ২৬ শ্রাবণ ১৪২৭। ১০ আগস্ট ২০২০ । ১৯ জিলহজ ১৪৪১

সুস্থতার হারে আশা

► আক্রান্ত বাড়লেও লাখ ছাড়াল সুস্থ হওয়ার সংখ্যা
► মোট আক্রান্তের ৫৪.৩১ শতাংশ সুস্থ, ১.২৭ শতাংশের মৃত্যু
► ২৪ ঘণ্টায় ৩৩ মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৩১৬৩, সুস্থ ৪৯১০

তৌফিক মারুফ   

১৫ জুলাই, ২০২০ ০২:১১ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



সুস্থতার হারে আশা

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতি অনুসারে পরীক্ষা, শনাক্ত ও মৃত্যু—সব সূচককে ছাপিয়ে বেড়েছে সুস্থতার হার। গত চার মাস সাত দিনে সুস্থ হয়ে উঠেছে এক লাখ তিন হাজার ২২৭ জন। শনাক্তের তুলনায় এই সুস্থতার হার ৫৪.৩১ শতাংশ। অন্যদিকে মৃত্যুহার দুই সপ্তাহ ধরে প্রায় ১.২৭ শতাংশের মধ্যে রয়েছে; মাত্র ০.০১ শতাংশ হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটেছে। তবে এই দুই সূচকের ‘স্বস্তিকে’ কিছুটা নড়বড়ে করে দিয়েছে শেষ এক সপ্তাহের তুলনামূলক শনাক্তের হার। গত এক সপ্তাহে পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের গড় হার উঠেছে ২৩.০৪ শতাংশে। অর্থাৎ যারা পরীক্ষা করেছে তাদের প্রায় প্রতি চারজনের একজনই করোনায় আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পরীক্ষা ও শনাক্ত নিয়ে নানা ধরনের প্রশ্ন আছে। পরীক্ষার ওপর মানুষের আস্থা থাকছে না। মানুষ আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে পরীক্ষা করানোর ক্ষেত্রে। এত কিছুর পরও অবশ্যই সুস্থতার ক্ষেত্রে আমাদের একটা ভরসা তৈরি হয়েছে। সেটা যেকোনো কারণেই হোক কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে মানুষকে। ভয় দূর করছে মানুষের। তার পরও সবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। নয়তো এখন সুস্থ হয়ে গেলেও সামনে আবারও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি হতে পারে আবার ভাইরাসের ধরনটিও তুলনামূলক দুর্বল হতে পারে, যে কারণে মৃত্যু কম হচ্ছে। এমনকি উপসর্গও বেশিদিন থাকছে না বেশির ভাগের। হাসপাতালেও যেতে হচ্ছে না বড় অংশের।’

মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও ইউজিসির অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রথম দিকে মানুষের সতর্কতা ছিল কম; কিন্তু প্রচার-প্রচারণার কারণে মানুষ উপসর্গ দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নানা ধরনের থেরাপি নিতে শুরু করে। এ ছাড়া উপসর্গভিত্তিক ওষুধও নেয় সময়মতো। আবার হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনারও আগের তুলনায় অনেকটা উন্নতি ঘটেছে। সেই সঙ্গে ভাইরাসের দুর্বলতাও একটা কারণ হতে পারে। সব মিলিয়ে আক্রান্ত হলেও মানুষ অনেকটা সহজেই এখন সুস্থ হয়ে উঠছে বলে মনে হচ্ছে।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ড. মুশতাক হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের দেশে মৃত্যুহার কম হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই সুস্থতার হার বেশি থাকবে। অন্য দেশগুলোতেও তা-ই হচ্ছে। যেখানে মৃত্যুহার কমছে সেখানে আক্রান্ত বেশি থাকলেও সুস্থতার হারও বেশি থাকছে। এই সূচকটিতে আমরা ভালো অবস্থানেই আছি।’ তিনি বলেন, পরীক্ষা কম হওয়ায় শনাক্ত যেমন কম হচ্ছে, তেমনি শনাক্ত বেশি হলে অফিশিয়ালভাবে সুস্থতাও আরো বেশি পাওয়া যেত। এখন যেমন হাসপাতালে করোনা রোগী ভর্তির সংখ্যা কমে গেছে। বেশির ভাগই বাসায় থাকছে। তাই তাদের তথ্যগুলো বিচ্ছিন্নভাবে রয়ে যাচ্ছে। এ জন্য ফোন করে তথ্য সংগ্রহ করতে হয়। এর মাধ্যমে সব সুস্থ হওয়ার সংখ্যা হয়তো ঠিকমতো আসেও না। এ ক্ষেত্রে আক্রান্ত এখন বেশি হলেও দ্রুত সুস্থ হওয়ায় মানুষের ভয় অনেকটাই কমে গেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গত দুই সপ্তাহের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, দেশে গতকাল সকাল পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছিল ৯ লাখ ৬৬ হাজার ৪০০টি। এর মধ্যে করোনাভাইরাস শনাক্তের সংখ্যা এক লাখ ৯০ হাজার ৫৭ আর সুস্থ হয়েছে এক লাখ তিন হাজার ২২৭ জন। মৃত্যু হয়েছে দুই হাজার ২২৪ জনের। অর্থাৎ মোট পরীক্ষার তুলনায় গড়ে শনাক্ত হার ১৯.৬৬ শতাংশ, যা গত ৭ জুলাই পর্যন্ত ছিল ১৯.৩২ শতাংশ। শনাক্ত তুলনায় মৃত্যুহার ছিল ১.২৭ শতাংশ এবং সুস্থতার হার ছিল ৪৬.৩১ শতাংশ। তবে ৮ জুলাই থেকে গতকাল পর্যন্ত ওই হার পরিবর্তিত হয়ে পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ওঠে ১৯.৬৬ শতাংশ এবং সুস্থতার হার ৫৪.৩১ শতাংশ। তবে মৃত্যুহারে পরিবর্তন ঘটেনি।

এদিকে এই তথ্যের আরেক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জুলাইয়ের প্রথম সাত দিনে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা হয় এক লাখ সাত হাজার ২০টি, পরের সপ্তাহে অর্থাৎ ৮ জুলাই থেকে গতকাল পর্যন্ত সাত দিনে পরীক্ষা কমে হয় ৯২ হাজার ৯২০টি। তবে জুলাইয়ের প্রথম সাত দিনে শনাক্ত হয় ২৩ হাজার ১৬২ জন আর দ্বিতীয় সাত দিনে শনাক্ত আরো কমে হয় ২১ হাজার ৪১১ জন। আর জুলাইয়ের প্রথম সাত দিনে সুস্থ হয় ১৮ হাজার ৪৭৮ জন এবং পরের সাত দিনে সুস্থ হয় ২৫ হাজার ১২৫ জন। তবে প্রথম সাত দিনে মৃত্যু হয় ৩০৭ জনের, পরের সাত দিনে মৃত্যু কমে দাঁড়ায় ২৭৩। এ ক্ষেত্রে প্রথম সাত দিনে পরীক্ষার তুলনায় শনাক্ত ছিল ২১.৫২ শতাংশ আর পরের সাত দিনে তা বেড়ে হয় ২৩.০৪ শতাংশ।

এদিকে গতকাল মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় নতুন শনাক্ত তিন হাজার ১৬৩। ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছে চার হাজার ৯১০ জন।

বুলেটিনে ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে ২৩ জন পুরুষ ও ১০ জন নারী। তাদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৩ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে তিনজন, রাজশাহী বিভাগে চারজন, রংপুর বিভাগে দুজন, সিলেট বিভাগে পাঁচজন, খুলনা বিভাগে পাঁচজন এবং বরিশাল বিভাগে একজন রয়েছে। ২৯ জন মারা গেছে হাসপাতালে এবং চারজন বাসায়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা