kalerkantho

শনিবার । ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭। ৮ আগস্ট  ২০২০। ১৭ জিলহজ ১৪৪১

মাদক নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে দায় নিতে হবে ওসিদের

রেজোয়ান বিশ্বাস   

১৩ জুলাই, ২০২০ ০৩:৩২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মাদক নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে দায় নিতে হবে ওসিদের

মাদক নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সংশ্লিষ্ট থানার ওসিদের তার দায় নিতে হবে। এমনকি তাকে থানা থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে। পাশাপাশি মাদক নিয়ন্ত্রণে সফল হলে তাকে পুরস্কৃত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিএমপি কমিশনার।

অতি সম্প্রতি রাজধানীতে মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণে আনতে এমন আরো কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম। সেই সঙ্গে মাদক বিরোধি অভিযান আরো জোরদার করতে নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি।

এরই মধ্যে ঢাকার আটটি ক্রাইম বিভাগের উপকমিশনারদের (ডিসি) কাছে চিঠির মাধ্যমে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে থানার ওসিদেরকে এই নিয়ে আরো কঠোর হতে বলা হয়েছে। 

গত ৬ জুলাই ডিএমপি কমিশনার আটটি ক্রাইম বিভাগের ডিসি, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের সব ডিসিদের কাছে মাদক নিয়ন্ত্রণ নির্মূল করতে দিকনির্দেশনামূলক চিঠি পাঠান। ওই চিঠিতে বলা হয়, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে সমাজ থেকে মাদক নির্মূল ও নিয়ন্ত্রণ গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে সেই অনুযায়ী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করতে হবে। সেই সঙ্গে মাদক মামলা পেশাদারিত্বের সঙ্গে তদন্ত করতে হবে থানা পুলিশকে।

বিশেষ করে ওসিরা তৎপর হলে থানা এলাকায় মাদকের বিস্তার বাড়বে না। তাই মাদকবিরোধী অভিযানে গড়িমসিকারী থানা পুলিশের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। এই নির্দশনার পর গত শুক্রবার সকাল ছয়টা রাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযান আরো জোরদার করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডিএমপি’র অভিযানে মাদক সেবন ও বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত ৬৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। 

অভিযানকালে গ্রেপ্তারকৃতদের হেফাজত থেকে ১৩,৩৯৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ২২৫ গ্রাম হেরোইন, ৪ কেজি ৮৫০ গ্রাম ১০ পুরিয়া গাঁজা ও ৩১ ক্যান বিয়ার উদ্ধার করা হয়।

ডিএমপি সূত্র মতে, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। অনেক আগে থেকেই মাদকের সঙ্গে জড়িত পুলিশ সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি। এরই মধ্যে মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত অনেক পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে মাদকবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান তীব্র করার নিদের্শনা জারি করেছেন। অভিযানের ক্ষেত্রে গড়িমসি করার সঙ্গে জড়িতদের হুঁশিয়ার করে কঠিন শাস্তির নির্দেশ দিয়েছেন।

গোয়েন্দা সূত্র বলছে, বস্তির মাদক নিয়ন্ত্রণ করছে বস্তি, বিহারি ক্যাম্পে মাদক নিয়ন্ত্রণে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে বেশি মাদক বিশেষ করে ইয়াবার রমরমা বাণিজ্য এখন মোহাম্মদপুরের বিহারি ক্যাম্পগুলোতে। পাকিস্তানি রাজু ও গাঁজা শাকিলের নেতৃত্বে পারভেজ ও মৃত বিহারি জিয়ার ছেলে পাগলা মনু মোহাম্মদপুরের বিহারি ক্যাম্পে ইয়াবা ব্যবসার সিংহভাগ নিয়ন্ত্রণ করছে। এদের সঙ্গে রয়েছে নারী সিন্ডিকেট। মোবাইল ফোনের হোয়াটসঅ্যাপ, ভাইবার, মেসেঞ্জার ও ইমুতে কথা বলার পর ইয়াবা নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছে দিচ্ছে চক্রের সদস্যরা। এদের নানাভাবে সহায়তা করার অভিযোগ ওঠেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক পদের একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপকমিশনার প্রকৌশলী মো. ওয়ালিদ হোসেন জানান, সারা দেশের মতো ঢাকায় চলছে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান। প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাদকের কারবার চলায় মাদক ব্যবসায়ীদের ধরতে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে।

সূত্র জানায়, বর্তমানে মোবাইলের মাধ্যমে মাদক বিক্রি হচ্ছে। আর মোবাইল নম্বরগুলোর নম্বর বা সিমকার্ড অধিকাংশই বেনামে বা অন্যের নামে কেনা। দেখা যায় যার মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে মাদকের ব্যবসা হচ্ছে, তিনি অনেক সময় নিজেও জানেন না।

করোনা পরিস্থিতি আর ঈদের সুযোগ নিয়ে মাদক কারবারিরা চালকদের ম্যানেজ করে কোরবানির পশুবাহী যানবাহন ও পণ্যবাহী যানবাহনসহ নানাভাবে মাদকের চালান আনার পরিকল্পনা করছে বলে গোয়েন্দাদের কাছে তথ্য আছে। সীসান্ত এলাকা থেকে এনে এসব মাদক মজুদ করা হচ্ছে, বস্তি, বিহারি ক্যাম্প থেকে শুরু করে ঢাকার অভিজাত এলাকায়ও।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম বলেন, বর্তমানে অনেক অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে মাদক কারবার এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রনে আসেনি। তাই মাদক নিয়ন্ত্রণে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। আমরা গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের কাজ করছি। তথ্য প্রমাণ পাওয়া মাত্রই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতির মধ্যেও দেশে মাদক ঢুকছে জানিয়ে অপর এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, দেশে করোনা সংক্রমণও মাদকের বিস্তার রোধ করতে পারেনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা