kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২২ শ্রাবণ ১৪২৭। ৬ আগস্ট  ২০২০। ১৫ জিলহজ ১৪৪১

দেশের এক ইঞ্চি জমিও অনাবাদি থাকবে না

মোশতাক আহমদ   

১২ জুলাই, ২০২০ ০২:৩৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দেশের এক ইঞ্চি জমিও অনাবাদি থাকবে না

দেশের এক ইঞ্চি জায়গাও অনাবাদি অবস্থায় খালি পড়ে থাকবে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী সব জমিতেই কৃষি আবাদ করা হবে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক, এমপি। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার কৃষি খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমান করোনা পরিস্থিতির কারণে সম্ভাব্য খাদ্যসংকট মোকাবেলা করতে হলে খাদ্য উৎপাদন আরো অনেক বাড়াতে হবে। সে লক্ষ্যে কৃষি মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করছে। চেষ্টা চলছে যাতে দেশে খাদ্যের কোনো ঘাটতি না হয়, খাদ্য আমদানি করতে না হয়। বরং দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিশ্বের সম্ভাব্য খাদ্যসংকটে আর্তমানবতার সেবায় বাংলাদেশ যাতে তার উদ্বৃত্ত খাদ্যশস্য নিয়ে সহযোগিতা করতে পারে।

গতকাল শনিবার কালের কণ্ঠকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মো. আব্দুর রাজ্জাক এসব কথা বলেন। কৃষি উৎপাদনে সাফল্যের প্রসঙ্গ তুলে কৃষিমন্ত্রী আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ফলে করোনা দুর্যোগের মধ্যেও লক্ষ্যমাত্রার অধিক বোরো ফসল সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে। এরই মধ্যে মাঠ পর্যায়ে আউশ ধানবীজ, আমন ধানবীজ ও পাটবীজ কৃষকদের মাঝে সুষ্ঠুভাবে বিতরণ করা হয়েছে। আমন ও রবি মৌসুমে উৎপাদন বাড়াতে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এ বছর আউশ উৎপাদনে রেকর্ড হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে ১৩ লাখ ৩৬ হাজার ৫৬৬ হেক্টর জমিতে আউশের চাষ হচ্ছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৩ লাখ ২৯ হাজার ৬০০ হেক্টর। গত বছরের তুলনায় দুই লাখের বেশি হেক্টর জমি বেড়েছে এবার, যাতে সারা দেশে রেকর্ড পরিমাণ আউশের আবাদ হয়েছে।

কৃষি উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের উন্নত জাতের ধানের বীজ ব্যবহারের পরামর্শ দেন মো. আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, ভালো বীজ ব্যবহার করলে উৎপাদন বাড়বে। এতে দেশের চাহিদা মেটার পাশাপাশি কৃষকরাও লাভবান হবেন। তিনি জানান, সমুদ্র উপকূল এলাকায় স্যালাইনসহিষ্ণু ধানের জাত আবিষ্কার করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, করোনার দুর্যোগময় পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার কৃষি খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ভর্তুকিসহ নানা প্রণোদনা দিয়ে যাচ্ছে। কৃষি যন্ত্রপাতি কেনার জন্য কৃষকদের প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। সারের মূল্যও কমানো হয়েছে। ডিএপি সারের মূল্য আগে যেখানে ২৫ টাকা ছিল সেটি এখন ১৬ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। আউশ ও আমন ধানের বীজ ক্রয়ে ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে।

কৃষি খাত নিয়ে নতুন নতুন পরিকল্পনার কথা জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, কৃষিপণ্য পরিবহনে আধুনিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা হবে। সরকার কৃষিকে যান্ত্রিকীকরণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ধান রোপণ থেকে কাটা পর্যন্ত সব কিছুই যন্ত্রের মাধ্যমে করা হবে। এ জন্য সব যন্ত্র বিদেশ থেকে আনা হচ্ছে। কৃষির সব ক্ষেত্রকে বাণিজ্যিকীকরণ করা হবে।

কৃষকদের জন্য সরকারের নানা উদ্যোগ প্রসঙ্গে মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, করোনা দুর্যোগে কৃষকদের পাশে রয়েছে সরকার। করোনার কারণে শ্রমিক সংকটে থাকা কৃষকদের জমির পাকা ধান যাতে ঘরে তুলতে সমস্যা না হয় সে জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সারা বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ ও সব সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা স্বেচ্ছাশ্রমে ধান কেটে দেন। সরকারি উদ্যোগে ভর্তুকি মূল্যে কৃষকদের কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন দেওয়া হয়। করোনা দুর্যোগে লকডাউনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে তাঁদের সাহায্য-সহযোগিতা করা হচ্ছে। কৃষকরা যাতে ধানসহ উৎপাদিত সব ফসলের ন্যায্য মূল্য পান তারও ব্যবস্থা করছে সরকার।

তিনি বলেন, আমনের উৎপাদন বাড়াতে এবারই সরকার প্রথম বীজে ভর্তুকি দিচ্ছে। বিএডিসির ১৯ হাজার ৫০০ টন আমন ধানের বীজ চাষি পর্যায়ে বিক্রির জন্য ২০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। বিএডিসি তাদের ঘোষিত নির্ধারিত বিক্রয়মূল্যের চেয়ে কেজিপ্রতি ১০ টাকা কম দামে উফশী আমন ধানের বীজ ও হাইব্রিডের ক্ষেত্রে কেজিপ্রতি ৫০ টাকা কম দামে চাষি পর্যায়ে বীজ বিক্রি করেছে।

মন্ত্রী বলেন, দেশে সারের কোনো ঘাটতি যাতে না থাকে সে জন্য সার আমদানিতে পর্যাপ্ত এলসি করা হয়েছে। শিগগিরই সারের জাহাজ বাংলাদেশে পৌঁছে যাবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা