kalerkantho

শুক্রবার । ২৩ শ্রাবণ ১৪২৭। ৭ আগস্ট  ২০২০। ১৬ জিলহজ ১৪৪১

দুঃসময়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টিই হবে বাবার প্রতি শ্রদ্ধা

মানোয়ার হোসেন

মাসুদ রুমী   

১২ জুলাই, ২০২০ ০২:৩৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দুঃসময়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টিই হবে বাবার প্রতি শ্রদ্ধা

দেশে-বিদেশে যেখানেই থাকেন, কারখানা ঘুরে দেখা তাঁর নেশা। কিন্তু করোনার এই সময়ে কারখানায় যেতে পারছেন না, কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করতে পারছেন না। করোনাকালে স্বেচ্ছায় ঘরবন্দি আনোয়ার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মানোয়ার হোসেন প্রবলভাবে মিস করছেন কারখানা পরিদর্শন। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করা অফিসের সহকর্মী এবং উৎপাদন অব্যাহত রাখা কারখানার কর্মীদের সঙ্গে দেখা করে ধন্যবাদ জানাবেন এই বিশিষ্ট শিল্পোদোক্তা।

দেশের অন্যতম প্রাচীন শিল্পগোষ্ঠীর আনোয়ার গ্রুপের হাল ধরেছে পরবর্তী প্রজন্ম। আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে তাঁর সন্তানদের মধ্যে চারজন মানোয়ার হোসেন, হোসেন মেহমুদ, হোসেন খালেদ ও সেলিনা তারেক। মানোয়ার হোসেন বর্তমানে গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে আনোয়ার গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। গ্রুপটি বর্তমানে বস্ত্র, পাট, সিমেন্ট, ইস্পাত, ব্যাংক, বীমা, গাড়ি, আবাসন, অবকাঠামো, আসবাবসহ ৩৬টি পণ্য ও সেবা খাতের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। 

করোনায় সবচেয়ে বেশি কী মিস করছেন—এমন প্রসঙ্গে মানোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমি ফ্যাক্টরিতে যেতে খুব পছন্দ করি। বলতে পারেন ফ্যাক্টরিতে যেতে না পারলে রাতে ভালো ঘুম হয় না।’

করোনার এই সময়টায় অসুস্থ বাবাকে দূর থেকে দেখতে হচ্ছে, বিষয়টি তাঁর জন্য অনেক কষ্টের। তবে অনেক দিন পর মায়ের সঙ্গে বসে বিকেলের রোদে চা খাওয়া, স্ত্রীর সঙ্গে বৃষ্টি উপভোগ করছেন। আর এই সময়টায় মেয়ে ফাতিমা দারুণ পিয়ানো বাজায়, গান করে। এই প্রথম নিবিড়ভাবে শ্রোতা হওয়ার সুযোগ হয়েছে তাঁর।

ছেলে ফুরকান এবং ওয়াইজের সঙ্গে খেলছেন রুম ক্রিকেট। কাজের চাপে বই পড়ার অভ্যাস প্রায় ছুটেই গিয়েছিল। সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির মধ্যে ২৬ মার্চ শুরু হয় তাঁর ফের বই পড়া। বিপুল কাজের চাপে বহুদিন যেসব আত্মীয়স্বজনের খোঁজখবর নেওয়া যায়নি, করোনার এই সময়টায় রুটিন করে প্রতিদিন কারো না কারো খোঁজ নিচ্ছেন।

কথা বলতে বলতে এ উদ্যোক্তা আরো জানালেন, ঘরে কখনো এতটা সময় থাকা হয়নি। পরিবারকে দেওয়া যায়নি এতটা সময়। এই বিরূপ সময়েও ইতিবাচক দিক খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন তিনি। মহামারির এই সময়টা সবার জন্যই কষ্টের। তার পরও মনে হচ্ছে এর পেছনে বিধাতার রহমত লুকিয়ে আছে। পৃথিবীর হয়তো দূষণমুক্ত হওয়ার সময়ের প্রয়োজন ছিল।

করোনাকালে নতুন কী কাজে হাত দিয়েছেন জানতে চাইলে মানোয়ার হোসেন বলেন, ‘সামনের দিনগুলোয় ব্যবসা-বাণিজ্য ধীরই থাকবে। বেকারত্ব বাড়ার ভয়ও রয়েছে। আমরা অত্যন্ত শ্রমনির্ভর দুটি কারখানা স্থাপন করছি। যাতে এই দুর্দিনে কিছুটা হলেও কর্মসংস্থান হয়। আমাদের তিন ভাইয়ের মনে হয়েছে, এই দুঃসময়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই হবে বাবার সারা জীবনের কর্মযজ্ঞ ও জীবন দর্শনের প্রতি সর্বোত্তম শ্রদ্ধা প্রদর্শন।’

তিনি আরো বলেন, ‘দুই ভাই মেহমুদ ও খালেদকে নিয়ে আগামী পাঁচ বছরের ব্যাবসায়িক পরিকল্পনা তৈরি করছি। রাতের পর যেমন দিন আসে, এই দুর্দিনের পর নিশ্চয়ই সুদিন আসবে। এমন কোনো বছর যায়নি, আনোয়ার গ্রুপ উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ করেনি। এই কঠিন সময়েও আমাদের বিনিয়োগ অব্যাহত আছে।

করোনাকাল কেটে গেলে কী করবেন জানতে চাইলে মানোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমার বাবা ডিমেনশিয়া রোগে ভুগছেন। এই রোগের কোনো চিকিৎসা নেই। ডিমেনশিয়া বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ করতে চাই। আর আমি শহরে বড় হয়েছি, যদি কখনো সুযোগ পাই কোনো একটা গ্রামের স্কুলে কিছুদিন পড়াতে চাই।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা