kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৪ আগস্ট ২০২০ । ২৩ জিলহজ ১৪৪১

সামান্য লোভে মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকি, ইয়াবা বহনে সাবধান!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১১ জুলাই, ২০২০ ১৭:৩০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সামান্য লোভে মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকি, ইয়াবা বহনে সাবধান!

২২ বছরের তরুণ মোর্শেদুল ইসলাম মোর্শেদ। বাংলাদেশের এই সময়ের অন্যান্য তরুণের চেয়ে আলাদা কিছু নন। বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান হিসেবে মোর্শেদের উপর চাওয়াটা ছিল-একসময় পরিবারের হাল ধরবেন। শিখেও ছিলেন গাড়ি চালানোও। তবে বেকারই ছিলেন তিনি। ঠিক তখনই মাথায় চেপে বসে অল্প পরিশ্রমে বেশি আয়ের লোভ। আর সেই লোভই তাঁকে নিয়ে আসে অপরাধ জগতে। হয়ে যান ‘ইয়াবার বাহক’। একটা ইয়াবা বহন করলে পেতেন একটা টাকা। যতো বেশি ইয়াবার বড়ি জায়গা মতো পৌছে দেওয়া যাবে ঠিক ততোটাই পাওয়া যাবে অর্থ। আর সেই চিন্তা থেকেই এবার ১০ হাজার পিস ইয়াবা বহন করছিলেন মোর্শেদ। কিন্তু বিধি বাম, এবার ধরাই পরে গেলেন।    

গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর বংশাল এলাকা থেকে মোর্শেদকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) লালবাগ বিভাগ। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে বংশাল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে ডিবি। 

ডিবি কর্মকর্তারা বলছেন, মোর্শেদের কাছ থেকে যে পরিমাণ ইয়াবা পাওয়া গিয়েছে, তাতে আইন অনুযায়ী তাঁর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ডও হতে পারে।

মোর্শেদকে গ্রেপ্তার অভিযানে থাকা ডিবির লালবাগ বিভাগের সহকারী কমিশনার মধুসুদন দাস কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মোর্শেদের বাড়ি কুড়িগ্রামে। চট্টগ্রাম থেকে ইয়াবার চালান ঢাকায় পৌছানোই তাঁর কাজ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকার বংশালে তাঁকে ইয়াবার চালানসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। কক্সবাজার-চট্টগ্রামের ইয়াবা সিন্ডিকেটের বাহক হিসেবে কাজ করতো এই তরুণ। এই চালানের আড়ালে থাকা গ্র“পটিকেও চিহ্নিত করার জন্য তদন্ত চলছে।’

গ্রেপ্তারকৃত মোর্শেদুল ইসলাম জানিয়েছেন, ‘কিছু দিন আগে এক ব্যক্তি তাঁকে প্রস্তাব দেন, চট্টগ্রাম থেকে ব্যাগে করে কিছু মালামাল পৌঁছে দিলে তাঁকে অর্থ দেওয়া হবে। কাজ শুরুর পর বুঝতে পারেন, তাঁকে দিয়ে ইয়াবা বহন করানো হচ্ছে। কিন্তু লোভের কাছে শেষ পর্যন্ত হার মানেন। ঢাকায় একজনের কাছে চালান পৌঁছে দেন। কিন্তু দু’পক্ষের কাউকেই তিনি চেনেন না। প্রতি পিস ইয়াবায় এক টাকা করে পেতেন ১০ হাজার টাকা।’

ডিবির লালবাগ বিভাগের উপ-কমিশনার রাজীব আল মাসুদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মোর্শেদের মতো অনেকেই মনে করেন ইয়াবা মতো এতো ছোট বড়ি বহন করতে তাঁদের কোনো সমস্যাই হবে না? এর পেছনে কারণ হচ্ছে অনেকে সংশ্লিষ্ট আইন সর্ম্পকে জানেনই না। আমরা মানুষদের জানাতে চাই ইয়াবা বহন করার শাস্তি অনেক ভয়ংকর। বর্তমান আইজিপি স্যার এই বিষয়ে খুবই কঠিন অবস্থান নিয়েছেন। আমরা সেই মোতাবেক কাজ করে যাচ্ছি। এজন্য যিনি ইয়াবা বহন করুক বা যার কাছেই ইয়াবা পাওয়া যাক না কেন তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ইদানিং লক্ষ করা যাচ্ছে মোর্শেদের মতো কমবয়সী তরুণরা সহজে কিছু টাকার লোভে নিজেদের জীবন ধ্বংস করে দিচ্ছে। আমরা চাই এইসব তরুণদের বুঝিয়ে এ পথ থেকে সরিয়ে নিয়ে আসতে। কেউ যদি ইয়াবা বহন না করে তাহলে এই চক্রটিকে নির্মূল করাটা সহজে হবে এবং পাশাপাশি ইয়াবা সংগ্রহ করাটাও এতোটা সহজলোভ্য হবে না।’ 

এখানে উল্লেখ্য যে, ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮’-তে বলা হয়েছে, ইয়াবা বা অ্যামফিটামিনের উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বহন বা পরিবহন ও আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে কারো কাছে ১০০ গ্রাম পর্যন্ত ইয়াবা পাওয়া গেলে এক থেকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া যাবে। আর ইয়াবার পরিমাণ ১০০ থেকে ২০০ গ্রামের মধ্যে হলে পাঁচ থেকে থেকে দশ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া যাবে। ইয়াবার পরিমাণ ২০০ গ্রাম বা তার বেশি হলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া যাবে। আর মোর্শেদের কাছে পাওয়া সেই ১০ হাজার পিস ইয়াবার ওজন হবে ৯৫০ গ্রামের উপরে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা