kalerkantho

রবিবার। ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭। ৯ আগস্ট ২০২০ । ১৮ জিলহজ ১৪৪১

স্বাস্থ্যবিধি মানা আসনেরও ৪০ শতাংশ ফাঁকা ট্রেনে

► ঈদে ট্রেন বাড়ানোর সম্ভাবনা কম
► এবার ঈদে ট্রেনে চড়বে কোরবানির পশু
► লোকসানেও যোগাযোগ সচল রাখছে রেল

রফিকুল ইসলাম    

৮ জুলাই, ২০২০ ০২:১২ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



স্বাস্থ্যবিধি মানা আসনেরও ৪০ শতাংশ ফাঁকা ট্রেনে

যোগাযোগব্যবস্থা সচল রাখতে করোনাকালেও সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছে ট্রেন। স্বাভাবিক সময়ে একটি ট্রেন যত সংখ্যক যাত্রী নিয়ে গন্তব্যে আসা-যাওয়া করত, করোনাকালে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মানতে তা অর্ধেক করা হয়েছে। কিন্তু এই অর্ধেক আসনেরও প্রায় ৪০ শতাংশ ফাঁকা থাকছে। আবার স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বর্তমানে এক-চতুর্থাংশ যাত্রী ট্রেনে আসা-যাওয়া করছে। এভাবে যাত্রী কমে যাওয়ায় আশানুরূপ আয়ও করতে পারছে না রেল। এ পরিস্থিতিতে আসছে কোরবানির ঈদে নতুন করে আরো ট্রেন যোগ করার কথা এখনো ভাবেনি রেল বিভাগ।

রেল বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, ট্রেন চালু হলেও যাত্রী কমে যাওয়ায় এই করোনাকালে রেলের প্রায় ৩০০ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। তাঁদের মতে, করোনার এই সংকটকালে যোগাযোগ লাইন ঠিক রাখতে ট্রেন চালু রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ট্রেন চালু রাখতে একটি ট্রেনের মোট আসনের ৫০ শতাংশ টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। তার পরও এই টিকিটের ৩০-৪০ শতাংশ অবিক্রীত থেকে যাচ্ছে। কিন্তু ট্রেন গন্তব্যে পৌঁছাতে আগের মতোই খরচ হচ্ছে।

গত ৮ মার্চ দেশে করোনা রোগী চিহ্নিত হওয়ার পর ২৬ মার্চ থেকে শুরু হয় সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটি। টানা ৬৬ দিন ছুটির পর গত ৩১ মে সীমিত পরিসরে অফিস খুলেছে। ওই দিন থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ট্রেন চলাচল শুরু হয়। প্রথম দফায় আট জোড়া ট্রেন চালুর পর গত ৩ জুন আরো ১১ জোড়া ট্রেন চালু করা হয়। তবে যাত্রী সংকটে ১৭ দিনের মাথায় ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের আন্ত নগর সোনার বাংলা এবং ঢাকা-নোয়াখালী রুটের উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল সাময়িক স্থগিত করা হয়।

সূত্র মতে, রেলওয়ের ৩৬২টি ট্রেনের মধ্যে স্বাভাবিক সময়ে ১০২টি আন্ত নগর ট্রেন এবং বাকি ২৬০টির মতো লোকাল, কমিউটার ও মালবাহী ট্রেন চলাচল করে।

স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন দুই লাখের বেশি যাত্রী আসা-যাওয়া করত। যাত্রীর কাছে টিকিট বিক্রি থেকে প্রতি মাসে রেলের আয় হতো ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকা। এখন সে আয় একদম কম।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন পথে যে ১৭ জোড়া ট্রেন চালু রয়েছে, করোনায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে ট্রেনগুলোর আসনের অর্ধেক বা ৫০ শতাংশ যাত্রী নিয়ে চলাচল করছে। বিজোড় সংখ্যার টিকিট বিক্রি করে একটি করে আসন ফাঁকা রাখা হচ্ছে।

সেই অনুযায়ী অর্ধেক হিসাবে বর্তমানে সুবর্ণ এক্সপ্রেসের আসনসংখ্যা ৪৫৪টি, কালনী এক্সপ্রেসে ২৭৩টি, পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ৪৪৮টি, বনলতা এক্সপ্রেস ৪৯৭টি, লালমণি এক্সপ্রেস ৩৩০টি, পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ৩১৬টি, চিত্রা এক্সপ্রেস ৪৪৪টি, তিস্তা এক্সপ্রেস ৪১৭টি, কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ৪৪৮টি, নীলসাগর এক্সপ্রেস ৪৪২টি, কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ৪৬৩টি, মেঘনা এক্সপ্রেস ৪৬৪টি, কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস ৩২৮টি, ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ৪৪০টি, রূপসা এক্সপ্রেস ৪৮৩টি, মধুমতি এক্সপ্রেস ৩২৯টি ও উদয়ন এক্সপ্রেস ৩১৮টি।

রেলওয়ের কর্মকর্তা বলছেন, দুই মাস বন্ধ থাকায় ট্রেন থেকে কোনো আয় হয়নি। টিকিট বিক্রি থেকে বেশির ভাগ আয় হলেও ট্রেনের আসনের বাইরে স্ট্যান্ডিং টিকিট বিক্রি থেকেও রেলের ভালো আয় হয়। এ ছাড়া বিনা টিকিটে ভ্রমণের জরিমানা থেকেও আয় আসে। করোনার মধ্যে সীমিত পরিসরে জুন মাসে ট্রেন চলাচল শুরু করে। তবে সীমিত যাত্রী পরিবহনে রেলের কী পরিমাণ আয় হয়েছে তার হিসাব দিতে পারেননি কর্মকর্তারা।

কর্মকর্তারা বলছেন, বড় অঙ্কের লোকসান হলেও সংকটকালে যোগাযোগব্যবস্থা সচল রাখাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে যেন মানুষ দেশের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে যাতায়াত করতে পারেন সেটাকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

আসছে কোরবানির ঈদে নতুন করে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো হবে কি না জানতে চাইলে কর্মকর্তারা জানান, এখনো সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। যেসব ট্রেন চলছে, তাতেই যাত্রী নেই। ঈদের সময় ঘনিয়ে এলে সেটা বোঝা যাবে। সরকার ঈদে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর নির্দেশনা দিলে সে নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রস্তুত রয়েছে রেল বিভাগ।

রেলের মহাপরিচালক মো. শামছুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঈদে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে আপাতত কোনো সিদ্ধান্ত নেই। তবে সরকার যদি ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেয়, তাহলে সেটা করা হবে। এখন যে ট্রেন চলছে, তাতে কোথাও কোথাও যথেষ্ট যাত্রী কম।’

ট্রেনে চড়বে কোরবানির পশু : আসছে ঈদুল আজহায় বাংলাদেশ রেলওয়ে প্রচলিত ভাড়ায় উত্তরাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রামমুখী কোরবানির পশু পরিবহনের পরিকল্পনা গ্রহণ নিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রেলভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন। এ সময় রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব সেলিম রেজা, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. শামছুজ্জামান, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) মিয়া জাহান উপস্থিত ছিলেন।

রেলমন্ত্রী বলেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী মহলের সঙ্গে আলোচনা করে সম্ভাব্য দিন-তারিখ, রুট ও স্টেশন নির্ধারণ করা হবে। ব্যবসায়ীদের চাহিদার ভিত্তিতে যেকোনো দিন থেকেই এ ট্রেন চালু করা যাবে। গাইবান্ধা বা পাবনা/কুষ্টিয়া থেকে চট্টগ্রামে প্রতি গরুর ভাড়া সর্বোচ্চ দুই হাজার ৫০০ টাকা ও ঢাকায় এক হাজার ৫০০ টাকা থেকে দুই হাজার টাকা হতে পারে।

আগ্রহী ব্যবসায়ীদের রেলওয়ের কন্ট্রোল নম্বর ০১৭১১-৬৯১৫২০-এ যোগাযোগ করতে অনুরোধ করা হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা