kalerkantho

শুক্রবার । ২৩ শ্রাবণ ১৪২৭। ৭ আগস্ট  ২০২০। ১৬ জিলহজ ১৪৪১

ধামরাইয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শন

বেইজ পেপারস মিলে নানা অনিয়ম, বর্জ্যের গন্ধে দুর্ভোগ

ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি    

৭ জুলাই, ২০২০ ১৮:৩৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বেইজ পেপারস মিলে নানা অনিয়ম, বর্জ্যের গন্ধে দুর্ভোগ

ঢাকার ধামরাইয়ে বেইজ পেপারস লিমিটেড কারখানায় আজ মঙ্গলবার পরিবেশ অধিদপ্তরের মনিটরিং এন্ড এনফোর্সমেন্ট বিভাগ পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শনকালে কারখানার বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম পেয়েছেন পরিদর্শন টিম। মিলের বর্জ্যের গন্ধে এলাকাবাসীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

অনিয়মের মধ্যে ইটিপি স্লাজ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পরিবেশসম্মত ব্যবস্থা নেই। নিয়ম বহির্ভূতভাবে একটি বাইপাস লাইন তৈরি, কারখানার দূষিত বর্জ্য পাশের কৃষিজমিতে ফেলে পরিবেশের ক্ষতি। ইটিপির ইনলেট ও আউটলেট ফ্লু মিটার নেই, পরিদর্শন টিমকে কারখানার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ ও পরিবেশের ছাড়পত্রের মেয়াদোত্তীর্ণসহ বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম পেয়েছেন পরিদর্শন টিম। 

মূলত সরকারের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নিজেদের মনগড়াভাবে পরিচালিত হচ্ছে এ কারখানাটি। এ টিমের নেতৃত্বে ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের ঢাকার সহকারী পরিচালক একেএম হাসানুর রহমান পলাশ। সাথে ছিলেন পরিদর্শক মির্জা আসাদুল কিবরিয়া ও নমুনা সংগ্রহকারী কামাল উদ্দিন। 

পরিদর্শন টিমের কাছ থেকে জানা গেছে, পরিদর্শনকালে ইটিপি বন্ধ পান তারা। টিমের উপস্থিতি টের পেয়ে কারখানার ইটিপির অপারেটর আবু সাইদ দৌড়ে ইটিপি চালু করেন। পরিদর্শনকালে তারা দেখতে পান অতিরিক্ত একটি বাইসপাস পাইপ লাইন দিয়ে কারখানার দক্ষিণপাশে খোলা জায়গার একটি পুকুরে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। এ বর্জ্য ফসলি জমিতে গিয়ে জমির উর্বরা শক্তি বিনষ্ট করছে। এ বর্জ্যের দূষিত পানি বিলের পানির সাথে মিশে পরিবেশের বেশ ক্ষতি করছে। এছাড়া পরিদর্শন টিমের কাছে কারখানার জিএম নজরুল ইসলাম স্বীকার করেছেন তাদের বর্জ্য ফেলা হয় গাজীখালীর নদীর শাখা নদীতে। 

সহকারী পরিচালক একেএম হাসানুর রহমান বলেন, পরিদর্শনকালে বিভিন্ন অনিয়মের মধ্যে বাইপাস লাইন তৈরি করেছে কর্তৃপক্ষ। এ বাইপাস লাইন দিয়ে ইটিপির তরল বর্জ্য পাশ্ববর্তী কৃষিজমিতে ফেলে পরিবেশের ক্ষতি করছে। ইটিপির ইনলেট ও আউটলেট ফ্লু মিটার নেই। প্রকৃতপক্ষে বেইজ পেপারস মিলের ইটিপি অকার্যকর। 

এ ছাড়া তিনি বলেন, পরিদর্শনকালে কারখানার সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কারখানার কর্তৃপক্ষ উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তরল বর্জ্যের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরবর্তীতে কারখানার কর্তৃপক্ষকে শুনানীর জন্য ডাকা হবে। তাদের ব্যাখা নেওয়ার পর জরিমানা ধার্য করা হবে। 

এদিকে স্থানীয়রা জানান, বেইজ পেপারস মিলের বর্জ্যের দূষিত পানির উৎকট গন্ধে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের থাকতে ভীষণ অসুবিধা হয়। এছাড়া শুষ্ক মৌসুমে নদীপাড়ে গোপালকৃষ্ণপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ কয়েকটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা নাক চেপে ক্লাস করেন বলে জানান শিক্ষক শিক্ষার্থীরা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা