kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২২ শ্রাবণ ১৪২৭। ৬ আগস্ট  ২০২০। ১৫ জিলহজ ১৪৪১

করোনায় মারাত্মক সংকটে এইডসের ওষুধ

আফ্রিকায় এ বছরে মৃত্যু দ্বিগুণ হওয়ার আশঙ্কা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৭ জুলাই, ২০২০ ০৩:১৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনায় মারাত্মক সংকটে এইডসের ওষুধ

করোনা মহামারি পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাপী এইডসের ওষুধপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে মারাত্মক সংকট দেখা দিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) বলেছে, ৭৩টি দেশ এরই মধ্যে সতর্ক করেছে যে তাদের এইডসের ওষুধ অ্যান্টিরেট্রোভাইরালের (এআরভি) মজুদ ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। ওষুধটির মজুদ শেষের পথে অথবা সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটার কারণে সমস্যায় পড়েছে ২৪টি দেশ।

করোনা পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে লকডাউন চলছে, বিভিন্ন দেশে সীমান্ত ও বিমান যোগাযোগ বন্ধ থাকায় এর প্রভাব ওষুধ পরিবহনেও পড়েছে। এ অবস্থায় এইডস রোগীরা ওষুধটি ছয় মাস ঠিকমতো না পেলে এতে মৃত্যুর হার ব্যাপক বেড়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শুধু সাবসাহারান আফ্রিকায়ই ২০২০ সালে এইডসে মৃত্যুর সংখ্যা দ্বিগুণ হতে পারে। 

ইন্টারন্যাশনাল এইডস সোসাইটির অর্ধবার্ষিক সম্মেলনের আগে আগে মে মাসে ডাব্লিউএইচও এবং ইউএনএইডস যৌথভাবে একটি জরিপ চালায়। গতকাল সোমবার যুক্তরাষ্ট্রে ওই সম্মেলন শুরু হওয়ার কথা। জরিপের ফল তুলে ধরে ডাব্লিউএইচও গতকাল এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ২৪টি দেশে এআরভি ওষুধের মারাত্মক ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ২০১৯ সালে ওই দেশগুলোতে ৮৩ লাখ এইডস রোগী ওষুধটি গ্রহণের মধ্য দিয়ে সুফল পেয়েছিল।

এই সংখ্যা বিশ্বে ওই ওষুধ সেবনকারী এইডস রোগীদের ৩৩ শতাংশ। এইডস থেকে চিরমুক্তির ওষুধ এখনো আবিষ্কার হয়নি। এআরভি ওষুধটি মারণঘাতী এইচআইভি ভাইরাসটিকে নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি অন্যদের মধ্যে সেক্সুয়াল ট্রান্সমিশন বন্ধে ভূমিকা রাখে। 

এর আগে কিছু কিছু দেশ করোনাভাইরাসের চিকিত্সায় এইডস ও ম্যালেরিয়া রোগের ওষুধ ব্যবহার করছে বলে খবর বের হয়। এই বিষয়টি এইডসের ওষুধের সরবরাহে ঘাটতি সৃষ্টি করেছে কি না, সে বিষয়ে অবশ্য ডাব্লিউএইচও কিছু বলেনি।  

জরিপে বলা হয়, করোনা মহামারির কারণে বিভিন্ন দেশে সীমান্ত ও বিমান যোগাযোগ বন্ধ থাকার প্রভাব পড়েছে ওষুধ সরবরাহব্যবস্থায়। সরবরাহকারীরা সময়মতো ওষুধটি সরবরাহ করতে না পারায় এর মারাত্মক ফল ভুগতে হচ্ছে এইডস রোগীদের। 

ডাব্লিউএইচওর মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস বলেন, ‘জরিপের এই তথ্য অত্যন্ত  উদ্বেগজনক।’ এইচআইভির চিকিত্সা গ্রহণকারী মানুষগুলো যাতে এর ওষুধ অতি সহজে পেতে পারে তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দেশ ও উন্নয়ন সহযোগীদের জোর তাগিদ দিয়েছেন তিনি। তেদ্রোস বলেন, ‘এই রোগটি মোকাবেলার ক্ষেত্রে এত দিন ধরে যে বৈশ্বিক সাফল্য পাওয়া গেছে, তা কভিড-১৯-এর কারণে ফের আগের অবস্থায় ফিরুক আমরা তা চাই না।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা