kalerkantho

সোমবার । ২৬ শ্রাবণ ১৪২৭। ১০ আগস্ট ২০২০ । ১৯ জিলহজ ১৪৪১

ভিপি নুরের বিরুদ্ধে প্রবাসীদের উসকানি দেওয়ার অভিযোগ

নুর বললেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য দুঃখজনক

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

৭ জুলাই, ২০২০ ০২:১৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভিপি নুরের বিরুদ্ধে প্রবাসীদের উসকানি দেওয়ার অভিযোগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ ডাকসুর সদ্যোবিদায়ি ভিপি নুরুল হক নুরের সংগঠন প্রবাসী অধিকার পরিষদের বিরুদ্ধে প্রবাসে বাংলাদেশিদের উসকানি দেওয়ার অভিযোগ করেছে সরকার। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন গতকাল সোমবার এক ভিডিও বার্তায় বলেছেন, মানবপাচারী চক্রের সহযোগিতায় ভিয়েতনামে যাওয়া পাসপোর্ট ও পরিচয়পত্রবিহীন এক দল বাংলাদেশি সরকারি খরচে তাঁদের দেশে ফেরানোর দাবি তুলেছেন। তাঁরা গত সপ্তাহে হ্যানয়ে বাংলাদেশ মিশন দখল করে নিয়েছিলেন। এখন তাঁরা ভিডিওর মাধ্যমে হুমকি দিচ্ছেন, দাবি পূরণ না হলে বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতে তাঁরা আক্রমণ করবেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এর পেছনে ভিপি নুরকে দায়ী করেছেন।

এমন অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় নুর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ব্যর্থতা ঢাকতে বা নিজের দোষ এড়াতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী যদি বলেন যে অন্যরা উসকাচ্ছে, তবে সেটা দুঃখজনক। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রপ্রতিনিধি, ছাত্রনেতা। আমি একটা সংগঠন করি বা সংগঠনের সঙ্গে আছি। আমার এত পাওয়ার (ক্ষমতা) যে আমার কথায় বা আমি উসকানি দিলেই বাংলাদেশ নড়াচড়া শুরু করবে, বিশ্বের প্রবাসীরা নড়াচড়া শুরু করবে? তাহলে উনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ছেড়ে আমাকে দিন। কারা কারা উসকানি দিচ্ছে, সেটা আমি দেখি।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী গতকাল এক ভিডিও বার্তায় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আলাদাভাবে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ভিয়েতনামে গত সপ্তাহে বাংলাদেশ দূতাবাসে এক দল বাংলাদেশির অনুপ্রবেশের বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ভিয়েতনামে বিদেশি কর্মীদের জন্য খুব একটা কাজের সুযোগ নেই। দালালরা ওই ২৭ জনকে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় সম্পদশালী দেশগুলোতে নিয়ে যাওয়ার আশা দেখিয়েছিল। হ্যানয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস ও ভিয়েতনাম সরকারের নিবিড় সহযোগিতায় গত ২ জুলাই হ্যানয়-ঢাকা-হ্যানয় রুটে একটি বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়। ওই ফ্লাইটে করে ১১ জন বাংলাদেশি ভিয়েতনাম থেকে ঢাকায় ফেরেন। ওই ২৭ জনও প্রত্যাবাসনের তালিকায় ছিলেন। কিন্তু ফ্লাইটে উঠতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তাঁরা বলেন, তাঁদের ফিরিয়ে আনার খরচ সরকারকে দিতে হবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, অবৈধ কর্মীদের ফেরাতে রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে ফ্লাইট ভাড়া দেওয়ার কোনো বিধান বাংলাদেশে নেই। প্রত্যাবাসন ফ্লাইটগুলোর যাত্রীরা ফেরার খরচ নিজেরাই বহন করে। অন্যদিকে শ্রমিকদের বহনকারী ফ্লাইটের ভাড়া দেয় তাদের নিয়োগকারী সরকার। ভিয়েতনামে ‘ভিজিটর’ হিসেবে ঘুরতে যাওয়া ওই ২৭ জন দুই ক্যাটাগরির কোনোটাতেই পড়েন না।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘তারা (২৭ বাংলাদেশি) ভিডিও মারফত আন্দোলন শুরু করেছে যে তারা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের মিশনগুলো আক্রমণ করবে। এদের নেতৃত্ব দিচ্ছে একটা নতুন প্রতিষ্ঠান। এটার নাম হচ্ছে প্রবাসী অধিকার পরিষদ। এর প্রধান সম্ভবত ঢাকা ইউনিভার্সিটির সাবেক ভিপি নুর সাহেব।’ ডাকসুর সদ্যোবিদায়ি ভিপি নুরুল হক নুর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রী একজন সম্মানীয় লোক, একটি দেশের অন্যতম প্রতিনিধি। বিভিন্ন সময় তাঁর কাছ থেকে আমরা যে ধরনের স্টেটমেন্ট শুনেছি, সেটা দেশের ও দেশের মানুষের জন্য বিভ্রান্তিকর। যেমন, তিনি ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বিষয়ে মন্তব্য করেছেন যে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক। প্রবাসীদের বলেছেন নবাবজাদা। আরেক জায়গায় বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেছেন, প্রবাসীরা দেশে এলে চুরি-চামারি বেড়ে যেতে পারে। তিনি তাঁর বক্তব্যের কারণেই প্রবাসীসহ দেশের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা হারাচ্ছেন।’ পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রসঙ্গে নুর আরো বলেন, ‘নিজের দায়িত্ব পালন না করে অন্যের ঘাড়ে দায় চাপিয়ে এ ধরনের বক্তব্য খুবই দুঃখজনক।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা