kalerkantho

শনিবার । ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭। ৮ আগস্ট  ২০২০। ১৭ জিলহজ ১৪৪১

ভ্যাট নিবন্ধন সনদ প্রতিষ্ঠানের দৃশ্যমান স্থানে রাখতে হবে

ফারজানা লাবনী   

৫ জুলাই, ২০২০ ২৩:১২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভ্যাট নিবন্ধন সনদ প্রতিষ্ঠানের দৃশ্যমান স্থানে রাখতে হবে

অনলাইনে ভ্যাট নিবন্ধন নম্বর গ্রহণ বাধ্যতামূলক গ্রহণ করতে হবে। অনলাইনে গ্রহণ করা ১৩ ডিজিটের ভ্যাট (ভেলু এডেড ট্যাক্স) বা মূল্য সংযোজন কর (মূসক) নিবন্ধন নম্বর প্রতিষ্ঠানের দৃশ্যমান স্থানে রাখতে হবে। আজ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে এমন নির্দেশ দিয়ে নোটিশ করা হয়েছে। ভ্যাট প্রদানে সক্ষম কিন্তু ভ্যাট নিবন্ধন নম্বর গ্রহণ করেনি এমন প্রতিষ্ঠানের খোঁজ পেলে এনবিআর কর্মকর্তারা জরিমানা করবে এবং তাৎক্ষণিক নিবন্ধন নম্বর দেওয়া হবে।

এনবিআর থেকে ভ্যাট আদায়ে স্বচ্ছতা আনতে বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানে ইএফডি (ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস) যন্ত্র প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ যন্ত্রের সাহায্যে অনলাইনে ভ্যাট নিবন্ধন গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট পরিশোধের সকল তথ্য এনবিআর কর্মকর্তারা অফিসে বসেই জানতে পারবেন।
    
ক্রেতা পণ্যের মূল্যের সঙ্গে হিসাব কষে ভ্যাট প্রদান করে থাকে। অথচ অনেক সময় বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান আদায়কৃত ভ্যাট সঠিক হিসাবে সরকারি কোষাগারে জমা দেয় না। এভাবে বছরের পর বছর ভ্যাট ফাঁকির মহোৎসব চলছে। এনবিআর এ পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে আসতে অনলাইনভিত্তিক ভ্যাট ব্যবস্থায় জোর দিয়েছে। 

সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতার বলেন, সারা দেশে ভ্যাট প্রদানে সক্ষম প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৫০ লাখ ছাড়িয়ে যাবে। এনবিআরের হিসাব বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এনবিআরে নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা গড়ে সাড়ে ৭ লাখ। এর মধ্যে প্রতিবছর রিটার্ণ দাখিল করে গড়ে ৩২ হাজার। মোট ভ্যাটের ৫৬ শতাংশ পরিশোধ করছে মাত্র ১৫৭ প্রতিষ্ঠান। দেশব্যাপী ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য প্রতিষ্ঠান ভ্যাট প্রদানে সক্ষম হলেও ভ্যাট জালের বাইরে রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাটের আওতায় আনতে এনবিআর থেকে ভ্যাট নিবন্ধন সনদ গ্রহণ বাধ্যতামূলক করে এ নির্দেশ দিয়েছে।

এনবিআর সাবেক চেয়ারম্যান মো. আবদুল মজিদ কালের কণ্ঠকে বলেন, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ভ্যাট নিয়েও অনেক প্রতিষ্ঠান সরকারি কোষাগারে ভ্যাট জমা দেয় না। এসব ভ্যাট ফাঁকিবাজ প্রতিষ্ঠানকে অনলাইনে ভ্যাট নিবন্ধন নম্বর গ্রহণে বাধ্য করা হলে ভ্যাট ফাঁকি দিল কিনা তা এনবিআর নজরদারি করতে পারবে। এতে ভ্যাট আদায় বাড়বে।

তিনি বলেন, এনবিআর বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানে ইএফডি যন্ত্র সরবরাহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অনলাইনে ভ্যাট নিবন্ধন থাকলেই কেবল ইএফডি যন্ত্রের সাহায্যে এনবিআর কর্মকর্তারা নজরদারি করতে পারবে। 
   
অনলাইনে ভ্যাট নিবন্ধন গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান এক মাসের ভ্যাট পরের মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে পরিশোধ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ভ্যাট পরিশোধ না করলে এনবিআর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রয়োজনে ওই প্রতিষ্ঠানের অনলাইনের পরিচালিত আমদানি রপ্তানি, বেচা-কেনাসহ সকল কার্যক্রম বন্ধ (ব্লক) করে দিতে পারবে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা