kalerkantho

বুধবার । ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭। ১২ আগস্ট ২০২০ । ২১ জিলহজ ১৪৪১

মারাই গেলেন সিরাজগঞ্জে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত ছাত্রলীগ নেতা বিজয়

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৫ জুলাই, ২০২০ ১১:৫৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মারাই গেলেন সিরাজগঞ্জে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত ছাত্রলীগ নেতা বিজয়

সিরাজগঞ্জ বাজার স্টেশন এলাকায় সন্ত্রাসী হামলার শিকার ছাত্রলীগ নেতা এনামুল হক বিজয় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। আজ রবিবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর জাতীয় নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে মারা যান। গত ২৬ জুন বিকেলে সিরাজগঞ্জে মোহাম্মদ নাসিমের স্মরণে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে জেলা ছাত্রলীগ। ওই অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে তাকে কোপানো হয়। নিহত বিজয় জেলা ছাত্রলীগের সহসম্পাদক ও জামতৈল সরকারি হাজি কোরপ আলী ডিগ্রি কলেজ শাখার সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন।

স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মনোয়ারুল ইসলাম বিপুল কালের কণ্ঠকে বলেন, আজ বেলা ৩টার কিছু আগে নিহত ছাত্রলীগ নেতা বিজয়ের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল করেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীরা সিরাগঞ্জের উদ্দেশে রওনা দেবেন।

 

গত সপ্তাহে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকার জাতীয় নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে আনা হয়। সেখানে তিনি আইসিইউতে কোমায় ছিলেন। তিনি ক্লিনিক্যালি ডেড বলে জানিয়েছিল হাসপাতালের একটি সূত্র। 

সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সূত্রগুলো জানায়, প্রভাবশালী নেতা মোহাম্মদ নাসিম মারা যাওয়ার পর তার অনুসারীদের মধ্যে এক ধরনের অভিভাবকশূন্যতা তৈরি হয়েছে। মোহাম্মদ নাসিম সিরাজগঞ্জ জেলার প্রতিটি উপজেলার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতেন। তার সন্তান ও সাবেক সংসদ সদস্য তানভীর শাকিল জয় কেন্দ্র কিংবা জেলার রাজনীতিতে এখনো তেমন প্রভাব গড়ে তুলতে পারেননি। এই সুযোগে নাসিমের অনুসারীদের কোণঠাসা করতে মরিয়া হয়ে পড়েছে তাদের বিরোধীপক্ষ।

এ ঘটনায় জেলা ছাত্রলীগের দুজন সাংগঠনিক সম্পাদক শিহাব আহমেদ জিহাদ ও আল-আমিন (২০) এবং ছাত্রলীগ নেতা আশিকুর রহমান বিজয়, জাহিদুল ইসলাম ও সাগরকে আসামি করে মামলা হয়। আসামিরা সবাই সিরাজগঞ্জ সদর ও কামারখন্দ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হাবিবে মিল্লাত মুন্নার অনুসারী বলে দাবি করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। 

এ বিষয়ে মোহাম্মদ নাসিমের ছেলে ও সাবেক সংসদ সদস্য তানভীর শাকিল জয় কালের কণ্ঠকে বলেন, আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিজয় মারা গেছে। এটি আমাদের জন্য খুবই হৃদয়বিদারক ঘটনা। গতকাল শনিবার তিনি কালের কণ্ঠকে বলেছিলেন, ‘আব্বা চলে যাওয়ার পরে সিরাজগঞ্জে যা ঘটছে তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। ছাত্রলীগের ছেলেটা ক্লিনিক্যালি ডেড, এখন শুধু তার হার্টবিট চলছে। আমাদের জন্য বিষয়টি খুবই দুঃখের, বেদনার। আব্বার পুরনো একজন সহকর্মী যিনি দুইবার ইউপি চেয়ারম্যান, তাঁকেও কোপানো হলো। বিষয়গুলো আমি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদেরও জানিয়েছি। আমরা চাই সবাই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিয়ে সংগঠন করুক।’

সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ বিন আহমেদ বলেন, আমরা এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ করছি। জেলা শহরে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। আমরা হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা