kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৪ আগস্ট ২০২০ । ২৩ জিলহজ ১৪৪১

আফ্রিকার বুরকিনা ফাসোতেও করোনা টেস্ট হয় বিনামূল্যে : রিজভী

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৪ জুলাই, ২০২০ ১৫:১৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আফ্রিকার বুরকিনা ফাসোতেও করোনা টেস্ট হয় বিনামূল্যে : রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, করোনা মহামারির ভাইরাস পরীক্ষার ওপর ২০০ টাকা ফি আরোপ করার সরকারের সিদ্ধান্ত বিস্ময়কর। এমনিতেই অর্থনৈতিক সংকট চরমে। মানুষের ঘরে খাবার নেই। হাসপাতালের দ্বারে দ্বারে ঘুরে অসহায়ভাবে পথে-ঘাটে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে মানুষ। প্রয়োজনের তুলনায় পরীক্ষাও হচ্ছে নামেমাত্র। এরমধ্যে এই গণবিরোধী সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। মহামারির চিকিৎসা কখনও ব্যক্তিগত উদ্যোগে হয় না। করোনা মহামারির চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব রাষ্ট্রের। বিশ্বের কোথাও সরকারিভাবে কভিড টেস্টে অর্থ নেওয়া হয় না।

আজ শনিবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক ভিডিও কনফারেন্সে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, বিশ্বে সবচেয়ে বেশি কভিড টেস্টের রেকর্ড দক্ষিণ কোরিয়ার। তারা দিনে ১ লাখের ওপর মানুষের কভিড টেস্টও করেছে। এমনকি এন্টিবডি টেস্টও করেছে। তাদের সমস্ত টেস্টই বিনামূল্যে করা হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে গরিব দেশ আফগানিস্তানে কভিড টেস্ট বিনামূল্যে করা হচ্ছে। এমনকি বিশ্বের সবচয়ে গরিব দেশ পশ্চিম আফ্রিকার বুরকিনা ফাসোতেও কভিড টেস্ট হচ্ছে বিনামূল্যে।

আমাদের প্রতিবেশী কোনো দেশেই টেস্ট করাতে ফি নেয় না উল্লেখ করে রিজভী বলেন, উপরন্তু প্রায় প্রতিটা দেশের সরকার স্বেচ্ছাসেবীদের ঘরে ঘরে পাঠাচ্ছে নমুনা সংগ্রহে। টেস্ট করাতে জনগণকে উৎসাহিত করতে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আর আমাদের দেশের শাসকগোষ্ঠী এই মহামারিকেও বানিয়েছে মুনাফা অর্জনের উপলক্ষ। এরা কতটা অমানবিক তার নিকৃষ্টতম প্রমাণ এই ফি ধার্য। যেখানে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা এবং সব বিশেষজ্ঞ করোনা সংক্রমণ রোধে টেস্ট বৃদ্ধি করাকেই প্রধান অবলম্বন বলছেন, সেখানে টেস্ট করাতে ফি ধার্যের সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এতে নিম্নআয়ের মানুষেরা উপসর্গ থাকার পরও করোনা পরীক্ষা করাতে পারবেন না।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী এবং তার দলের নেতা মন্ত্রীরা প্রায়শই দাবি করে বলেন, বিশ্বে বাংলাদেশ নাকি রোল মডেল। কীসের জন্য বাংলাদেশ মডেল? স্বীকার করতেই হবে, বাংলাদেশ এখন দুর্নীতির জন্য সারা বিশ্বের কাছে মডেল। কারণ সরকার যেমন ‘স্বর্ণের মেডেল’ থেকে স্বর্ণ চুরি করে আবার করোনায় বিপর্যস্ত মানুষের জন্য বরাদ্দ করা ত্রাণের চাল চুরি ও নকল মাস্কের ব্যবসা করতেও ‘রোল মডেল’ হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এই সরকার নিজেরাও পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছে না। বিরোধী দল কিংবা বিশেষজ্ঞদের মতামতকেও তোয়াক্কা করছে না। জনগণের দল বিএনপির পক্ষ থেকে আমরা করোনা পেন্ডামিক ইস্যুতে সরকারকে বরাবরই সহযোগিতা করতে চেয়েছি। সঠিক পরামর্শ দেয়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু সরকার সেগুলো কানে নেয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা