kalerkantho

শনিবার । ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭। ৮ আগস্ট  ২০২০। ১৭ জিলহজ ১৪৪১

সিরাজগঞ্জ আ. লীগে রোষানলে নাসিমের অনুসারীরা

দুই দিনের ব্যবধানে কোপানো হয়েছে দুই নেতাকে

তৈমুর ফারুক তুষার   

৪ জুলাই, ২০২০ ০২:২৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সিরাজগঞ্জ আ. লীগে রোষানলে নাসিমের অনুসারীরা

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যুর পর সিরাজগঞ্জ আওয়ামী লীগে বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছে। রোষানলে পড়েছেন সাবেক মন্ত্রী নাসিমের অনুসারী নেতাকর্মীরা। গত এক সপ্তাহে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের দুই নেতাকে কোপানো হয়েছে। ভেঙে দেওয়া হয়েছে একটি উপজেলা যুবলীগের কমিটি। জেলা সদরে নাসিম অনুসারী ও তাদের বিরোধীপক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে আছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কায় আতঙ্ক বিরাজ করছে নেতাকর্মীদের মাঝে।

সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সূত্রগুলো জানায়, প্রভাবশালী নেতা মোহাম্মদ নাসিম মারা যাওয়ার পর তাঁর অনুসারীদের মধ্যে এক ধরনের অভিভাবকশূন্যতা তৈরি হয়েছে। মোহাম্মদ নাসিম সিরাজগঞ্জ জেলার প্রতিটি উপজেলার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতেন। তাঁর সন্তান ও সাবেক সংসদ সদস্য তানভীর শাকিল জয় কেন্দ্র কিংবা জেলার রাজনীতিতে এখনো তেমন প্রভাব গড়ে তুলতে পারেননি। এই সুযোগে নাসিমের অনুসারীদের কোণঠাসা করতে মরিয়া হয়ে পড়েছে তাদের বিরোধীপক্ষ।

গত ২৬ জুন বিকেলে মোহাম্মদ নাসিমের স্মরণে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে জেলা ছাত্রলীগ। ওই অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে সিরাজগঞ্জ বাজার স্টেশন এলাকায় সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন ছাত্রলীগ নেতা এনামুল হক বিজয়। তিনি জেলা ছাত্রলীগের সহসম্পাদক ও জামতৈল সরকারি হাজি কোরপ আলী ডিগ্রি কলেজ শাখার সভাপতির দায়িত্বে আছেন। বিজয় বর্তমানে ঢাকার জাতীয় নিউরোসায়েন্স হাসপাতালের আইসিইউতে কোমায় আছেন। তিনি ক্লিনিক্যালি ডেড বলে জানিয়েছে হাসপাতালের একটি সূত্র।

এ ঘটনায় জেলা ছাত্রলীগের দুজন সাংগঠনিক সম্পাদক শিহাব আহমেদ জিহাদ ও আল-আমিন (২০) এবং ছাত্রলীগ নেতা আশিকুর রহমান বিজয়, জাহিদুল ইসলাম ও সাগরকে আসামি করে মামলা হয়েছে। আসামিরা সবাই সিরাজগঞ্জ সদর ও কামারখন্দ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হাবিবে মিল্লাত মুন্নার অনুসারী বলে দাবি করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

ছাত্রলীগ নেতাকে কোপানোর দুই দিনের মাথায় ২৮ জুন ভোরে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান খানকে নিজ বাসায় কুপিয়ে জখম করে এক দল সন্ত্রাসী। ভুক্তভোগী হান্নান জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। মোহাম্মদ নাসিমের এই অনুসারী বর্তমানে বগুড়ায় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

গত ২৬ জুন বেলকুচি উপজেলা যুবলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি। যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল স্বাক্ষরিত কমিটি বিলুপ্তির চিঠিতে বলা হয়, সম্প্রতি একটি সালিস বৈঠককে কেন্দ্র করে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির সঙ্গে বেলকুচি উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক সাজ্জাদুল হক রেজা বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। গণমাধ্যমে প্রচারের পর বিষয়টি কেন্দ্রীয় যুবলীগের নজরে এসেছে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য সাজ্জাদুল হক রেজার নেতৃত্বাধীন আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলো।

জানতে চাইলে মোহাম্মদ নাসিমের ছেলে ও সাবেক সংসদ সদস্য তানভীর শাকিল জয় কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আব্বা চলে যাওয়ার পরে সিরাজগঞ্জে যা ঘটছে তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। ছাত্রলীগের ছেলেটা ক্লিনিক্যালি ডেড, এখন শুধু তার হার্টবিট চলছে। আমাদের জন্য বিষয়টি খুবই দুঃখের, বেদনার। আব্বার পুরনো একজন সহকর্মী যিনি দুইবার ইউপি চেয়ারম্যান, তাঁকেও কোপানো হলো। বিষয়গুলো আমি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদেরও জানিয়েছি। আমরা চাই সবাই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিয়ে সংগঠন করুক।’

সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও মোহাম্মদ নাসিমের অনুসারী হিসেবে পরিচিত সামচুজ্জামান আলো বলেন, ‘জেলা আওয়ামী লীগের অনুপ্রবেশকারীরা নানাভাবে পুরনো, ত্যাগী নেতাকর্মীদের কোণঠাসা করানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, তারা সফল হবে না।’

সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ বিন আহমেদ বলেন, ‘জেলা ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ একজন নেতাকে কোপানো হয়েছে। সে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছে। এ ধরনের নৃশংস ঘটনার মধ্য দিয়ে মোহাম্মদ নাসিমের অনুসারীদের মনোবল ভেঙে দেওয়ার বার্তা দিতে চাইছে বিরোধীপক্ষ।’

নাসিম অনুসারীদের কোণঠাসা করার অভিযোগ অস্বীকার করে সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল লতিফ বিশ্বাস বলেন, ‘যে ঘটনাগুলো ঘটেছে সেগুলোতে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে বলা হয়েছে। রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকবে। কিন্তু তা যেন সহিংসতার পর্যায়ে না পৌঁছে সে বিষয়ে সব নেতাকর্মীর প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে।’

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমি নাসিম গ্রুপেরও না, মুন্না গ্রুপেরও না। জেলার সব নেতাকর্মীর প্রতি আমার দায়িত্ব সমান। কেউ যদি মনে করে জেলার সভাপতি কারো পকেটে আছে, সেটা তার ভুল ধারণা।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা