kalerkantho

শনিবার । ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৫ আগস্ট ২০২০ । ২৪ জিলহজ ১৪৪১

ইজি বাইক আর রিকশা চালাচ্ছেন ফুটবলার

ভেবেছিলেন আত্মহত্যার কথাও

সনৎ বাবলা    

৪ জুলাই, ২০২০ ০২:১৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইজি বাইক আর রিকশা চালাচ্ছেন ফুটবলার

গল্পে গল্পে এক ফুটবল কোচই বলেছিলেন ভয়ংকর কথাটা। অভাবের তাড়নায় আত্মাহুতি দিতে চেয়েছিলেন এক ফুটবলার! এটা-সেটা বলে জীবনের মানে বর্ণনা করে কোচ কামাল বাবু তাঁকে ঠেকিয়েছেন!

জীবনের মায়া ভুলে যাওয়া সেই ফুটবলার হলেন হাসান আল মামুন। আত্মহননের পথ ছেড়ে তিনি এখন ইজি বাইক কিংবা কাপড়ে মুখ ঢেকে রিকশা চালিয়ে জীবন নির্বাহ করছেন। এটা তাঁর জীবনের স্বাভাবিক ধারা নয়। ফুটবল খেলে জীবনটা উপভোগ করেন এবং তাঁর আয়েই চলে সংসার। ‘আমার খুব বেশি চাহিদা ছিল না কখনো। করোনার আগে মাসে ১০-১২ হাজার টাকা আয় করতে পারতাম। ঢাকায় প্রথম বিভাগে লিগ খেলতাম। এর সঙ্গে বিভিন্ন জেলায় খেপ খেলে যা আয় হতো তা দিয়ে আমার ছোট সংসার চলে যেত। কিন্তু করোনার কারণে গত চার মাস ধরে কোনো আয় নেই, মানুষের সাহায্যে আর কত দিন চলা যায়’—ফুটবলহীনে অচল হয়ে পড়া সংসারের কথা বলছেন গত বছর বাসাবো তরুণ সংঘে খেলা এই ফুটবলার।

তাই বলে অমন আত্মহননের পাপ চিন্তা মনে আসে! খুলনার খালিশপুরের এই ফুটবলার অভাবের যন্ত্রণায় আত্মঘাতী হওয়ার কথা বলে খুদে বার্তা পাঠান তাঁর ফুটবল কোচের কাছে। মামুন ভেবেছিলেন, ‘অভাব এমন পর্যায়ে গিয়েছিল বউ-বাচ্চাকে দুবেলা খাবার দিতে পারি না, তখন আর বেঁচে থেকে লাভ কী। মনে হয়েছিল জীবন শেষ করে দিই। বউ-বাচ্চসহ তিনজন একসঙ্গে চলে গেলে আর কোনো দুঃখ থাকে না!’ কী ভয়ংকর ভাবনা! করোনায় মানুষ মরছে। যারা বেঁচে আছে তাদেরও মৃত্যুর কাছাকাছি নিয়ে যাচ্ছে জীবন ও জীবিকার পথ রুদ্ধ করে। খুলনার ২৬ বছর বয়সী ফুটবলারও তার শিকার হয়েছেন।

তবে সেই ফ্যান্টাসি বাদ দিয়ে তিনি ফিরেছেন জীবন বাঁচানোর লড়াইয়ে। আগে যে মামুনকে এলাকার সবাই ফুটবলার বলে চিনত, এখন তাঁকে চিনছে অন্যভাবে, ‘অভাবের জ্বালায় এখন ইজি বাইক চালাচ্ছি। কাল হয়তো দিনমজুরের কাজ করব, পরশু মুখ ঢেকে রিকশা চালাব। যেদিন যেটা পাব সেই কাজ করে যাচ্ছি, এখন কাজও সেভাবে নেই। আমাকে দেখে লোকজন বিস্মিত হচ্ছে, তাতে কিছু যায়-আসে না। জীবন বাঁচাতে হলে এসবই করতে হবে। নিজের কাছে সান্ত্বনা যে চুরি তো আর করছি না।’ ফুটবলার হয়ে গেছেন ইজি বাইক চালক। অনেকে অন্যান্য পেশায়ও চলে যাচ্ছেন। ফুটবলের জন্য এটা মোটেও সুখবর নয়। ফেডারেশন হয় তাঁদের পাশে দাঁড়াবে নইলে ফুটবল মাঠে গড়ানোর তৎপরতা শুরু করবে। ফুটবল ফেডারেশনের প্রসঙ্গ তুলতেই মামুনের হতাশা আরো বেড়ে যায়, ‘ফেডারেশনের লোকজনের কথা বলে লাভ নেই। তারা আছে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের নিয়ে। দেশের হাজার দুয়েক ফুটবলার যে না খেয়ে আছে সেই খবর তারা রাখতেও চায় না।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা