kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৯ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৩ আগস্ট ২০২০ । ২২ জিলহজ ১৪৪১

ফেসবুকে প্রতারণা : অর্থ হাতিয়ে অবশেষে তিন বিদেশি ধরা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ জুলাই, ২০২০ ০২:০৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ফেসবুকে প্রতারণা : অর্থ হাতিয়ে অবশেষে তিন বিদেশি ধরা

ফেসবুকে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নিয়ে ধরা খেয়েছেন তিন বিদেশি নাগরিক। গত বৃহস্পতিবার রাতে সিআইডির একটি টিম রাজধানীর বিমানবন্দর ও ভাটারা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে। তাঁরা সংঘবদ্ধ প্রতারকচক্রের সদস্য বলে সূত্র জানায়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন ক্যামেরুনের নাগরিক সোলেমান এনজুগাং টেগোমো বার্টেইন (৪৭), এনজুনাং টউসার্জ ক্রিশ্চিয়ান (৩৮) ও কেনিয়ার নাগরিক ওয়াই কোঙ্গো আর্নাস্ট ইব্রাহিম (৪২)।

গ্রেপ্তারকৃতরা বাংলাদেশে অবস্থান করে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন লোকের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরে তাঁরা ওই ব্যক্তিদের টার্গেট করে বিভিন্ন উপহার দেওয়ার কথা বলে টাকা হাতিয়ে নেন। ‘জেনিটরি’ নামের নারীর ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে বরিশালের আরিফুল ইসলামের সঙ্গে সম্পর্ক গড়েন তাঁরা।

জেনিটরি নিজেকে একজন আমেরিকান পরিচয় দিয়ে আরিফুলের জন্য ডিপ্লোমেটিক কুরিয়ার এজেন্টের মাধ্যমে উপহার পাঠাবেন বলে জানান। পরে উপহারসামগ্রী পাঠানোর কথা বলে এই চক্র বিভিন্ন সময়ে আট লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে ১৩ লাখ ৯৮ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে আরিফুলের কাছ থেকে। এ বিষয়ে রাজধানীর বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।

সিআইডি ঢাকা মেট্রোর অ্যাডিশনাল ডিআইজি শেখ মোহাম্মদ রেজাউল হায়দার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যে চক্রটি ধরা পড়েছে তারা ২০১৮ সাল থেকে এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে আসছিল। তারা খুবই চালাক এবং ধূর্ত প্রকৃতির। ধারণা করছি, সংঘবদ্ধ হয়ে দুজন, তিনজন মিলে এসব করছে। এমন হতে পারে সারা দেশে তারা নিজেদের নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে। এদের সঙ্গে দেশের যারা জড়িত তাদের ধরার জন্য চেষ্টা চলছে।’

এই কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে একটু পড়শোনা জানে, ফেসবুক ব্যবহারকারী কিন্তু সহজ-সরল—এ ধরনের মানুষকে টার্গেট করে। আর্থিক সমস্যার কারণে অনেক সময় অনেকেই লোভে পড়ে যায়। ফেসবুকে প্রথমে বিপরীত লিঙ্গের মানুষ দিয়ে বন্ধুত্ব পাতায়। পরে বিভিন্নভাবে বিদেশ থেকে গিফট পাঠানোর কথা বলে। এভাবে কিছুুদিন চালিয়ে পরে মামলার ভয় দেখিয়ে বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়।’

রেজাউল হায়দার বলেন, ‘একজন অপরিচিত মানুষ ফেসবুকে পরিচিত হয়ে যখন দামি গিফট পাঠায় তখন সচেতন নাগরিকদের ভাবা উচিত কেন গিফট পাঠাচ্ছে। তার কোনো উদ্দেশ্য আছে কি না। কোনো কিছু না ভেবে তাদের ফাঁদে পা দিলেই বিপদ।’

সিআইডি সূত্র জানায়, ছেলে হলে মেয়ের আইডি আর মেয়ে হলে ছেলের আইডি থেকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠায়। পরে বন্ধুত্ব পাতিয়ে ফোন করে বলে, ‘আমি বিদেশ থেকে বলছি। আমি একটা গিফট পাঠাচ্ছি।’ এরপর গিফট আনতে বিমানবন্দরে গেলে টাকা দাবি করা হয়।

ডিপ্লোমেটিক কুরিয়ার বা অন্য কোনো পরিচয় দিয়ে ফোন করে টাকা চায়। এগুলো করতে করতেই আরেকটা গিফটের কথা বলে। এভাবে ব্যক্তিকে একটা ঘোরের মধ্যে রাখে। টাকা না দিলে মামলার ভয় দেখায়। বলে, ‘আপনাকে যে গিফট দেওয়া হয়েছে, সেখানে মাদক ছিল।’ আরো বিভিন্ন ধরনের কথা বলা হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা