kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২২ শ্রাবণ ১৪২৭। ৬ আগস্ট  ২০২০। ১৫ জিলহজ ১৪৪১

রেড ক্রিসেন্টের উদ্যোগে বন্যা কবলিত ৩৮০০ পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ শুরু

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২ জুলাই, ২০২০ ১৮:০৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রেড ক্রিসেন্টের উদ্যোগে বন্যা কবলিত ৩৮০০ পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ শুরু

দেশের বন্যা কবলিত জেলা গুলোতে কাজ করছে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (বিডিআরসিএস)। এ বন্যা মোকাবেলায় সব ধরনের আগাম প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানান রেড ক্রিসেন্ট কর্তৃপক্ষ। বিডিআরসিএস পরিচালিত পূর্বাভাস ভিত্তিক ফিনান্সিং (এফবিএফ) প্রকল্পের আওতায় পূর্বাভাস অনুযায়ী বন্যা কবলিত কুড়িগ্রাম, জামালপুর ও গাইবান্ধা জেলার ৩৮০০ পরিবারের মাঝে পরিবার প্রতি ৪৫০০ টাকা করে সর্বমোট ১,৭১,০০০০০ (১ কোটি ৭১ লাখ) টাকা বিতরণ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা ইতিমধ্যে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এই অর্থ বাংলাদেশ ডাক বিভাগের সহযোগিতায় মোবাইলের মাধ্যমে সরাসরি সুবিধাভোগীর নিকট প্রেরণ করা হচ্ছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের মাঝে এই অর্থ বিতরণ কার্যক্রম আগামী ৪ জুলাই ২০২০ তারিখ পর্যন্ত চলমান থাকবে বলে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান। 

আজ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

এছাড়াও বন্যার পানি প্রবেশের পরপরই বন্যার পানিতে আটকে পড়া পরিবারের সদস্যেদের (শিশু,বৃদ্ধসহ পরিবারের সকল সদস্য) নিরাপদ আশ্রয়স্থলে সরিয়ে নিতে পূর্বাভাস ভিত্তিক ফিনান্সিং (এফবিএফ) প্রকল্পের আওতায় লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যেতে সহায়তা করে যাচ্ছে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবকরা। 

বন্যা মোকাবেলার আগাম প্রস্তুতি হিসেবে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি দেশের ১১ টি বন্যাপ্রবণ জেলায় পূর্বাভাস ভিত্তিক ফিনান্সিং (এফবিএফ) নামে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ণ করছে। এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হল দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চলে দুর্যোগ আঘাত করার পূর্বেই সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ লোকদের পূর্বাভাসের ভিত্তিতে সহায়তা দেয়া। উল্লেখ্য, যমুনা নদী অববাহিকা এলাকায় অধিকতর বন্যা প্রবণ জেলা-কুড়িগ্রাম, রংপুর, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, টাঙ্গাইল, জামালপুর, শেরপুর ও মানিকগঞ্জে এ প্রকল্প তার কার্যক্রম বাস্তবায়ণ করে আসছে। সোসাইটির ডিআরএম বিভাগের পূর্বাভাস ভিত্তিক ফিনান্সিং (এফবিএফ) প্রকল্পের আওতায় এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সোসাইটির ডিজাস্টার রেসপন্স বিভাগ জানায়, বন্যায় সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি’র তথ্য সংগ্রহ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা তৈরী ও বনার্তদের সহায়তায় কাজ করছে সোসাইটির ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স টিমের সদস্যরা। ইতিমধ্যে, সোসাইটির জাতীয় সদর দপ্তর থেকে বন্যা কবলিত জামালপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলায় ১২ জন স্বেচ্ছাসেবক পাঠানো হয়েছে, যারা প্রত্যেকেই প্রশিক্ষিত ডিজাস্টার রেসপন্স টিমের সদস্য। এছাড়াও বন্যা কবিলত সবকয়টি জেলার জেলা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের পক্ষ থেকে স্বেচ্ছাসেবকরা বন্যা কবলিত মানুষের সহায়তায় কাজ করছে।

সোসাইটির ডিআরএম বিভাগ জানায়, পূর্বাভাস ভিত্তিক ফিনান্সিং (এফবিএফ) প্রকল্পের আওতায় অধিক ক্ষতিগ্রস্ত কুড়িগ্রাম জেলায় চিলমারি উপজেলায় চিলমারি,রমনা ইউনিয়নে ও উলিপুর উপজেলায় হাতিয়া ইউনিয়নে সর্বমোট ১৪০০ পরিবার, গাইবান্ধা জেলায় সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়ন, গাইবান্ধা সদর উপজেলার মোল্লারচর ও কামারজানি ইউনিয়ন এবং ফুলছরি উপজেলার এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের সর্বমোট ১০০০ পরিবার এবং জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চুকাইবাড়ী ইউনিয়ন, ইসলামপুর উপজেলার কুলকান্দি ও বেলগাছা ইউনিয়নের ১৪০০ পরিবারসহ সর্বমোট ৩৮০০ পরিবারের মাঝে বিনাশর্তে ১,৭১,০০,০০০ টাকা নগদ অর্থ সহায়তা বিতরণ করা হচ্ছে। উপকারভোগি নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী, বৃদ্ধ, বিধবা ইত্যাদি বিপদাপন্ন জনগোষ্ঠীকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। 

আজ বৃহস্পতিবার সকালে গাইবান্ধা ও জামালপুর জেলার ৩টি ইউনিয়নে বসবাসরত ১০০০ পরিবারের মাঝে পরিবার প্রতি ৪,৫০০ টাকা করে নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে বন্যা কবলিত গাইবান্ধা জেলার সদর উপজেলার কামারজানি ও কাপাসিয় ইউনিয়নের ৫০০ পরিবার ও জামালপুর জেলার চুকাইবাড়ী ইউনিয়নের পরিবার রয়েছে। গাইবান্ধা জেলার কামারজানি বিলিকা উচিয়া বিদ্যালয় মাঠে ও জামালপুরে এ কে এম মেমোরিয়াল কলেজ মাঠে স্ব স্ব জেলা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের পক্ষ থেকে এই অর্থ বিতরণ করা হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা