kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৪ আগস্ট ২০২০ । ২৩ জিলহজ ১৪৪১

৪৭ হাজার গ্রাম পুলিশের চাকরি জাতীয়করণের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২ জুলাই, ২০২০ ১৫:৩৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



৪৭ হাজার গ্রাম পুলিশের চাকরি জাতীয়করণের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

সারা দেশে দায়িত্বরত ৪৭ হাজার গ্রাম পুলিশের চাকরি জাতীয়করণ করতে হাইকোর্টের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের বেতন-ভাতা ২০০৯ সালে ঘোষিত জাতীয় বেতন স্কেলের (বর্তমানে জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫) ১৯তম ও ২০তম গ্রেড অনুযায়ী দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায়ে গ্রাম পুলিশের মধ্যে দফাদার পদধারীদের ১৯তম গ্রেড এবং মহল্লাদারদের ২০তম গ্রেডে বেতন-ভাতা ও সুযোগ সুবিধা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

১৮ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ে ওই গ্রাম পুলিশদের ২০১১ সালের ২ জুন থেকে সুবিধা দিতে বলা হয়েছে। রায়ে ২০১১ সালের ২ জুনের পর স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) কর্মচারী চাকরি বিধিমালা-২০১১ বহিভর্‚তভাবে গ্রাম পুলিশ পদে যেকোনো নিয়োগ অবৈধ ও বাতিল হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চের গতবছর ১৫ ও ১৭ ডিসেম্বর প্রকাশ্য আদালতে এ রায় ঘোষণা করেছিলেন। যার লিখিত কপি সুপ্রিম কোর্টের নিজস্ব ওয়েবসাইটে এ সপ্তাহে প্রকাশ করা হয় বলে আজ বৃহস্পতিবার জানান ব্যারিস্টার হুমায়ুন কবির পল্লব। 

ধামরাইয়ের কুশুরা ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম পুলিশ কমান্ডার হিসেবে দায়িত্বরত লাল মিয়া, মাদারিপুরের কালকিনি উপজেলার রমজানপুর ইউনিয়ন পরিষদে মহল্লাদার হিসেবে দায়িত্বরত মো. সাইদুর দেওয়ানসহ দেশের বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে দফাদার ও মহল্লাদার হিসেবে দায়িত্বরত ৩৫৫ জন গ্রাম পুলিশের করা এক রিট আবেদনে জারি করা রুলের ওপর চ‚ড়ান্ত শুনানি শেষে এ রায় দেন আদালত। রিট আবেদনকারীপক্ষে আইনজীবী ছিলেন ব্যারিষ্টার হুমায়ুন কবির পল্লব ও অ্যাডভোকেট নূর আলম সিদ্দিক। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ওয়ায়েস আল হারুনী ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মাহফুজুর রহমান।

রায়ে বলা হয়েছে, ২০১১ সালের ২ জুন হতে মহল্লাদারগণকে জাতীয় বেতন স্কেল-২০০৯ (বর্তমানে জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫) এর ২০তম গ্রেডে বেতন ভাতাদি প্রদান করতে এবং দফাদারগণকে জাতীয় বেতন স্কেল ২০০৯ (জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫)-এর ১৯তম গ্রেডে বেতন ভাতাদি প্রদান করতে প্রতিপক্ষগণকে নির্দেশ প্রদান করা হলো।

হুমায়ুন কবির পল্লব জানান, সারাদেশে প্রায় ৪৭ হাজার গ্রাম পুলিশ রয়েছে। এদের মধ্যে একজন দফাদার পান সাত হাজার টাকা এবং একজন মহল্লাদার পান সাড়ে ৬ হাজার টাকা। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় তাদের চাকরি চতুর্থ শ্রেণিভুক্ত করতে ২০০৮ সালে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রস্তাব পাঠায়। সর্বশেষ ২০০৯ সালে তাদের স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন-২০০৯ ভুক্ত করা হয়। এ আইনের অধীণে ২০১৫ সালে এ বাহিনীর গঠন, প্রশিক্ষণ, শৃংখলা ও চাকরির শর্তাবলী সংক্রান্ত বিধিমালা করা হয়। কিন্তু এ বিধিমালায় তাদের চাকরি কোন শ্রেণিভুক্ত হবে তা নির্ধারণ করা হয়নি। এনিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে দফায় দফায় অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হলেও কোনো সাড়া মেলেনি। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্টদের ২০১৭ সালের ১৪ নভেম্বর লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় রিট আবেদন করা হয়। হাইকোর্ট ২০১৭ সালের ৩ ডিসেম্বর রুল জারি করেন। এই রুলের ওপর চ‚ড়ান্ত শুনানি শেষে রায় ঘোষনা করা হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা