kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৫ আষাঢ় ১৪২৭। ৯ জুলাই ২০২০। ১৭ জিলকদ ১৪৪১

অভিবাসীদের প্রতি আরও মানবিক ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান বাংলাদেশের

বিশেষ প্রতিনিধি, নিউ ইয়র্ক   

৬ জুন, ২০২০ ০৮:০৩ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



অভিবাসীদের প্রতি আরও মানবিক ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান বাংলাদেশের

কোভিড-১৯ মহামারি শুরুর আগে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অভিবাসীদের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় "বৈশ্বিক সংহতি ও সহযোগিতা" ও "সুদৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা" দেখানোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা। শুক্রবার "কোভিড-১৯ এর আগে অভিবাসন: অভিবাসীদের স্বাস্থ্য ও রেমিটেন্স" বিষয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের ভার্চুয়াল আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই আহ্বান জানান।

অভিবাসন সংক্রান্ত সমমনা দেশগুলো এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ব্যাপকভাবে কোভিড-১৯ এর প্রভাবজনিত ভয়াবহতার শিকার হওয়ার পাশাপাশি অভিবাসীরা বিশ্বের অনেক জায়গাতেই তাদের অধিকার, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা; এমনকি চাকরির সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন উল্লেখ করে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, "অভিবাসীরা তাদেরকে নেয়া দেশগুলোর উন্নয়নে অবদান রাখা প্রথম সারির কর্মী। এমনকি এই করোনাকালেও একথা সত্য। ফলে দেশগুলোর উচিত হবে কোভিড-১৯ মোকাবিলা ও উত্তরণে যে পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে, তাতে অবশ্যই অভিবাসীদেরকেও অন্তর্ভুক্ত রাখা।"  

অনেক দেশ থেকে অভিবাসীদেরকে জোরপূর্বক নিজ দেশে ফিরে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে উল্লেখ করে এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রদূত ফাতিমা। তিনি বলেন, "প্রত্যাবর্তনকারীদের ব্যবস্থাপনা অনেক উন্নয়নশীল দেশের জন্য একটি বিরাট চ্যালেঞ্জ; এক্ষেত্রে উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রচেষ্টায় অবশ্যই জাতিসংঘসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদার ও অংশীজনদেরকে সহযোগিতার হাত বাড়াতে হবে।"

বাংলাদেশ, আয়ারল্যান্ড, মেক্সিকো ও বেনিন যৌথভাবে ‘অভিবাসন সংক্রান্ত সমমনা দেশসমূহের গ্রুপের সহ-আহ্বায়ক। আয়ারল্যান্ডের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ও প্রবাসী মন্ত্রী সিয়ারান ক্যানন টিডিসহ অভিবাসী প্রেরণকারী ও গ্রহণকারী দেশের উল্লেখ্যযোগ্য সংখ্যক রাষ্ট্রদূত উচ্চ পর্যায়ের এই আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া এসডিজি অর্থায়ন বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত ড. মাহমুদ মোহাইয়েলদিন, আইএফএডি, ডব্লিউএইচও এবং অন্যান্য জাতিসংঘ সংস্থাগুলোর উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিগণ সভাটিতে অংশ নেন। 

সভায় এ বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। বক্তারা উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন এবং নারীর ক্ষমতায়নে অভিবাসন ও রেমিটেন্সের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা স্বীকার করে এর ওপর কোভিড-১৯ এর প্রভাব উন্নয়নশীল দেশগুলোকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে বলে মতামত দেন। 

নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলোয় রেমিট্যান্স প্রবাহ ২০ শতাংশেরও বেশি হ্রাস পাবে সংক্রান্ত বিশ্বব্যাংকের প্রক্ষেপণের কথা তুলে ধরে স্থায়ী প্রতিনিধি সতর্কতা উচ্চারণ করে বলেন, "এর পরিণতি হতে পারে খুবই ভয়াবহ যা উন্নয়নশীল বিশ্বের রেমিট্যান্স-নির্ভরশীল পরিবারগুলোকে দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দিতে পারে।"

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা