kalerkantho

বুধবার । ৩১ আষাঢ় ১৪২৭। ১৫ জুলাই ২০২০। ২৩ জিলকদ ১৪৪১

ডিএমপি কমিশনারকে 'ঘুষের প্রস্তাব' যুগ্ম কমিশনারের

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৬ জুন, ২০২০ ০২:২৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ডিএমপি কমিশনারকে 'ঘুষের প্রস্তাব' যুগ্ম কমিশনারের

প্রতীকী ছবি

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার (লজিস্টিকস) মো. ইমাম হোসেন একজন দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তা। তাকে রাখা ঠিক হবে না। ডিএমপির বিভিন্ন কেনাকাটায় তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। তদুপরি তিনি ডিএমপির কেনাকাটায় স্বয়ং পুলিশ কমিশনারের নিকট ‌'ঘুষ' গ্রহণের প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন। ফলে উক্ত কর্মকর্তাকে ডিএমপিতে কর্মরত রাখা সমীচীন নয় মর্মে প্রতীয়মান হয়েছে।

এমতাবস্থায় ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মো. ইমাম হোসেনকে জরুরীভিত্তিতে অন্যত্র বদলি করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হলো।

আইজিপিকে পাঠানো ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম এভাবে অভিযোগ করেছেন তারই অধীনস্থ যুগ্ম কমিশনার (লজিস্টিকস) মো. ইমাম হোসেনের বিরুদ্ধে। ওই চিঠিতে ডিএমপি কমিশনারের দাবি অনুযায়ী তাকে 'ঘুষ' (সুবিধা) গ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছেন। তার কাছ থেকে 'ঘুষ' গ্রহণের প্রস্তাব পাওয়ার অভিযোগ করে তাকে জরুরিভিত্তিতে অন্যত্র বদলি করতে পুলিশের মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) একটি চিঠির মাধ্যমে অনুরোধ জানিয়েছেন কমিশনার নিজেই।

তবে গত ৩০ মে চিঠিটি পুলিশ সদর দপ্তরে আইজিপির উদ্দেশ্য পাঠানো হলেও পুলিশ সদর দপ্তরে তা এখনো পৌঁছায়নি বলে দাবি করেছেন সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি মিডিয়া) সোহেল রানা। আজ শুক্রবার (৫ জুন) রাতে তিনি জানান, যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে বা শোনা যাচ্ছে তেমন কিছু পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে এখনো পৌঁছায়নি।

এমন কোনো চিঠি বা ইস্যু এলে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স যথাযথ পেশাদারি মনোভাবে দেখবে। বিশেষ করে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের কিছু প্রশাসনিক বিষয় থাকে। সেগুলোর ক্ষেত্রে যথাযথ প্রশাসনিক ও পেশাদারি ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এদিকে এরই মধ্যে ওই  চিঠির একটি কপি কালের কণ্ঠের এ প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। 
তবে অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে যুগ্ম কমিশনার ইমাম হোসেনের সরকারি ফোন নম্বরে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

সেই সঙ্গে আইজিপি বরাবর চিঠির ব্যাপারে জানতে ফোন দেওয়া হলে, ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলামের সরকারি ফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপ-কমিশনার মো. ওয়ালিদ হোসেন চিঠির বিষয়ে কিছু জানেন না বলে দাবি করে বলেছেন, তার কথায়, ‘গোপনীয় কিছু থাকলে তা মিডিয়া বিভাগে আসে না। কমিশনার মহোদয় এমন কোনো চিঠি পাঠিয়েছেন কিনা তা আমার জানা নেই।’

সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালে ডিএমপি’র তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার হিসেবে যোগ দেন ইমাম হোসেন। পরবর্তী সময়ে ডিএমপির উপ-কমিশনার (অর্থ) ও উপ-কমিশনার (লজিস্টিকস) পদে দায়িত্ব পালন করেন। পদোন্নতি পয়ে যুগ্ম কমিশনার হিসেবে লজিস্টিকস বিভাগে কর্মরত আছেন তিনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা