kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৩ আষাঢ় ১৪২৭। ৭ জুলাই ২০২০। ১৫ জিলকদ  ১৪৪১

পুরান ঢাকার অলিগলিতে মানুষের স্বাভাবিক চলাফেরা

করোনার ভয় নেই নিম্নআয়ের মানুষের

জহিরুল ইসলাম   

৩ জুন, ২০২০ ১৭:৩৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



করোনার ভয় নেই নিম্নআয়ের মানুষের

বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারীতে বিপর্যস্ত মানুষের জীবন। এর মধ্যেই দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে বিভিন্ন দেশ তুলে নিচ্ছে লকডাউন। বাংলাদেশে গত মার্চের ২৬ তারিখ থেকে কয়েক দফায় চলা অঘোষিত লকডাউনের ৬৬ দিন পর গত ৩১ মে তা তুলে নেওয়া হয়েছে। সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটি তথা লকডাউনের সময় স্তব্ধ হয়ে আসে দেশ। তবে পুরান ঢাকার চিত্র ছিল ভিন্ন। সব সময় অলিগলিতে ছিল মানুষের উপস্থিতি। গত সোমবার থেকে সেই উপস্থিতি বেড়েছে কয়েকগুণ। প্রতিদিনই বাড়ছে রাজধানীতে ফেরা মানুষের সংখ্যা। সেই সঙ্গে বাড়ছে করোনা রোগী বাড়ার আশঙ্কা।

এ সম্পর্কে লালবাগ থানার ওসি কে এম আশরাফ উদ্দিন বলেন, 'ঈদের পরে রাজধানীতে কর্মজীবী মানুষের উপস্থিতি বেড়েছে। অপ্রয়োজনে যাতে কেউ বের না হয় সে বিষয়ে আমরা নজর রাখছি। সন্ধ্যার পর বিভিন্ন অলিগলিতে থানা পুলিশ টহল দিচ্ছে। তিনটার পর থেকে বিভিন্ন জায়গায় মাইকিং করা হচ্ছে। যাতে চারটার পরে সবাই দোকানপাট বন্ধ রাখে এবং মাস্ক ছাড়া কেউ রাস্তায় বের না হয়।'

তিনি আরো বলেন, 'আজিমপুর থেকে ছেড়ে যাওয়া বিভিন্ন রুটে চলা পরিবহন (বাসগুলো) সরকারের নির্দেশনা মানছে কি না সে বিষয়েও আমরা নজর রাখছি।'

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বুধবার দুপুর দুইটার দিকে শহীদ নগর দুই নম্বর গলিতে মানুষের সরব উপস্থিতি। একই অবস্থা শহীদ নগর এক নম্বর গলি থেকে ৯ নম্বর গলির। অনেকের মুখেই মাস্ক নেই।

একই এলাকায় সোমবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে গিয়ে দেখা যায়, একটু পর পর লালবাগ থানা পুলিশের টহলরত সদস্যরা মোটরসাইকেলে করে টহল দিচ্ছেন। মোটরসাইকেলের সাইরেনের শব্দ শুনেই এদিক-সেদিক দৌড়ঝাঁপ দিতে থাকেন সড়কে থাকা মানুষ। যাদের মধ্যে বেশিরভাগই কিশোর। কেন এই দৌড়ঝাঁপ? জানতে চাইলে, সরাফত আলী নামে এক কিশোর বলেন, আমাদের এলাকায় করোনা রোগী নাই। তাই আমাদের ভয়ের কারণ নাই। সবাই রাস্তায় বের হয় এজন্য আমরাও বের হই। কিন্তু পুলিশ এসে একটু পরপর দৌড়ানি দেয়, এজন্য পালাই।

আজ পুরান ঢাকার চকবাজার, মৌলভীবাজার, বেড়িবাঁধ সড়ক, বউবাজার, ইমামগঞ্জ, লালবাগ, আজিমপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় মানুষদের স্বাভাবিক চলাফেরা করতে দেখা গেছে। আজিমপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে দেওয়ান, ভিআইপি, বিকাশসহ কিছু পরিবহনের গাড়ি চলতে দেখা যায়। গাড়িগুলো সরকারি নির্দেশনা তথা পরিষ্কার পরিছন্নতা যাত্রী নেওয়াসহ বিভিন্ন দিক ঠিকমতো মানছে কিনা সেটা নিশ্চিত করতে উপস্থিত ছিল স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন।

ভিআইপি পরিবহনের চালক ইসমাইল হোসেন বলেন, 'বেশি গাড়ি ছাড়তেছে না। আমরা যারা রাস্তায় নামছি সরকার যা যা কইছে সব মানার চেষ্টা করতেছি। মালিক আমাগোরে জন্য চলতে কইব আমরাতো তেমনই চলতে হইব। পুলিশ আইয়া দেখতাছে সব ঠিক আছে কিনা।'

তবে নিম্নআয়ের মানুষের মধ্যে আগের মতো করোনা আতঙ্ক দেখা যায়নি। চকবাজার এলাকায় ভ্যান চালক ইমদাদ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আমার বাসা শহিদনগর, 'আল্লাহর রহমতে আমাগো কারো করোনা হয় নাই। হইবও না! গরিবগো আল্লাহ বাঁচাইবো। অনেকদিন কাম কাজ করি নাই আর কতদিন বইসা থাকমু? মাইনসের ভিক্ষার জন্য চাইয়া থাকমু।'

দেখা যায় সরকার নির্ধারিত সময় বিকেল ৪টা পর্যন্তই খোলা থাকছে অলিগলির দোকান। তবে হোটেল ও ছোট রেস্টুরেন্ট মালিকরা বলছেন এভাবে দোকানদারি করে প্রতি দিন প্রতি মাসে লস দেয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই।

জে এন শাহ রোডের মদিনা হোটেলের মালিক জানাযন, স্বাভাবিকভাবে হোটেল বা রেস্টুরেন্টগুলোতে বিক্রি শুরু হয় সন্ধ্যার পর। কিন্তু সরকার এমন একটি সময় নির্ধারণ করেছে যেখানে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে হোটেল ও রেস্টুরেন্ট মালিকরা। না চাইলেও অনেক কর্মচারী ছাঁটাই করা লাগছে। যেখানে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা, হোটেল চালিয়ে ভাড়া আর লোকদের বেতন যোগাড় করতে পারছেন না। সেখানে ব্যবসা ছেড়ে দেয়া ছাড়া কোন পথ নেই। ইতিমধ্যেই অনেকে দোকান ছেড়ে দিয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা