kalerkantho

শনিবার । ২৭ আষাঢ় ১৪২৭। ১১ জুলাই ২০২০। ১৯ জিলকদ ১৪৪১

সংসদ সদস্যদের হ্যান্ড রাব উপহার দিল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ জুন, ২০২০ ১৬:৫৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সংসদ সদস্যদের হ্যান্ড রাব উপহার দিল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়

আগামী ১০ জুন থেকে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে অংশগ্রহণকারী সংসদ সদস্যদের জন্য উপহার হিসেবে বিসিএসআইআরের ডিআরআইসিএম কর্তৃক প্রস্তুতকৃত হ্যান্ড রাব প্রদান করেছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান।

আজ বুধবার বিসিএসআইআরের ডিআরআইসিএম অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত একটি অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে সংসদে সরকার দলীয় হুইপ সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনের নিকট বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ উপহার তুলে দেয়া হয়।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আনোয়ার হোসেন, বিসিএসআইআরের চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ ও ডিআরআইসিএমের পরিচালক ড. মালা খান।

উল্লেখ্য, দেশে সমপ্রতি উদ্ভুত করোনা ভাইরাসজনিত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মোকাবেলায় প্রতিরোধ কৌশল হিসেবে জনসাধারণের হাত জীবাণুমুক্ত করার উপাদান- হ্যান্ডরাব প্রস্তুত করেছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনাধীন বিসিএসআইআরের আন্তর্জাতিক মানের রেফারেন্স ল্যাবরেটরি ডিআরআইসিএম। করোনা ভাইরাসজনিত রোগের ঝুঁকি ক্রমশ প্রবল হতে থাকার প্রেক্ষাপটে বাজারে হ্যান্ডরাব স্যানিটাইজারের দুষপ্রাপ্যতা সৃষ্টি হওয়ায় ডিআরআইসিএম এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। WHO সুপারিশকৃত ফর্মুলায় প্রস্তুতকৃত বি ক্লিন নামের এই হ্যান্ডরাব ইতোমধ্যে কেবিনেট ডিভিশনসহ বিভিন্ন সংস্থায় বিতরণ করা হয়েছে। এই হ্যান্ডরাব প্রধানত বিনামূল্যে সাধারণ জনগণের হাত জীবাণুমুক্ত করার কাজে ব্যবহারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। IEDCR সহ দেশের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞগণের পরামর্শ অনুযায়ী করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সকলের হাত সময়ান্তরে জীবাণুমাক্ত করা একটি অন্যতম প্রধান উপায়। সে লক্ষ্যেই ডিআরআইসিএমের এই মহতী উদ্যোগ।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান হ্যান্ডরাব উত্পাদনের এই কার্যক্রম গত ১৯ মার্চ সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। বিসিএসআইআরের চেয়ারম্যান মো. ফারুক আহমেদসহ বিভিন্ন বিজ্ঞানী কর্মকর্তার উপস্থিতিতে ডিআরআইসিএমের পরিচালক ড. মালা খানের নেতৃত্বে ডিআরআইসিএমের বিজ্ঞানীদের গ্রহণ করা এ উদ্যোগের প্রশংসা করেন মন্ত্রী।

গণমানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গৃহীত এ জাতীয় উদ্যোগকে তিনি দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের সামিল বলে উল্লেখ করেন। প্রাথমিক পর্যায়ে ঢাকা মহানগরীর ছয়টি হাসপাতাল - বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ও শিশু হাসপাতালে দায়িত্বরত ডাক্তার, আগত রোগী ও জনসাধারণের হাত জীবাণুমুক্ত করতে প্রতিদিন প্রয়োজনীয় পরিমাণ স্যানিটাইজার সরবরাহ করার কর্মসূচি শুরু করার নির্দেশ দেন তিনি।

এ ছাড়া ডিআরআইসিএম কর্তৃক প্রস্তুতকৃত বি ক্লিন নামে হ্যান্ডরাব, স্যানিটাইজার ও ডিজইনফেকটেন্ট মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ, ধর্ম মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়, নির্বাচন কমিশনসহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, সংস্থা, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনাধীন বিভিন্ন সংস্থা, রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ নির্মাণ প্রকল্প, বাংলাদেশ পুলিশ ও বিভিন্ন ব্যক্তি পর্যায়ে সরবরাহ করা হয়েছে এবং হচ্ছে।

দেশের মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গৃহীত এ উদ্যোগকে মুজিববর্ষের উপহার হিসেবে নিবেদন করছে উদ্যোক্তারা। এই কর্মসূচির মাধ্যমে হয়তো দেশের সকল মানুষের হাত জীবাণুমুক্ত করা সম্ভব হবে না, কিন্তু মানুষের মধ্যে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টি হবে বলে উদ্যোক্তাদের আশা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা