kalerkantho

মঙ্গলবার । ৩০ আষাঢ় ১৪২৭। ১৪ জুলাই ২০২০। ২২ জিলকদ ১৪৪১

মেস ভাড়া নিয়ে সুষ্ঠু সমাধান চান জবি শিক্ষার্থীরা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি    

৩ জুন, ২০২০ ১৫:৪২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মেস ভাড়া নিয়ে সুষ্ঠু সমাধান চান জবি শিক্ষার্থীরা

করোনাভাইরাস মহামারীতে মেস ভাড়া নিয়ে বিপাকে পড়েছেন সম্পূর্ণ অনাবাসিক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘদিন ধরে আয়ের পথ টিউশনি ও পার্টটাইম জব বন্ধ থাকায় বাসা ভাড়া জোগাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। এদিকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা শিক্ষার্থীদের বাসা ভাড়া দেয়ার জন্য রীতিমত হুমকি-ধমকিও দিচ্ছেন বাসা বাড়ির মালিকরা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে পার্শ্ববর্তী থানার সহযোগিতা নেয়ার কথা বলা হলেও, থানা থেকে আশানুরূপ সাড়া দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ করছেন শিক্ষার্থীরা। এতে করে উভয় সংকটে আছেন তারা। তাই দ্রুত এই সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান চান শিক্ষার্থীরা।

পুরান ঢাকার কলতাবাজারে বিশ্ববিদ্যালয় লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী ফজলে রাব্বির তত্ত্বাবধানে ৮-১০ জন শিক্ষার্থী মিলে একটি মেস বাসা ভাড়া করেন। তিনি বলেন, লকডাউনের দ্বিতীয় মাস থেকেই বাসার মালিক ফোন দিয়ে বাসা ভাড়া চাচ্ছে। কিন্তু মেসের অন্য সদস্যরা দীর্ঘদিন বাড়িতে থাকায় মেস ভাড়া দেয়ার অবস্থায় নেই। তারা ভাড়া দিতে অপারগ। এদিকে বাড়িওয়ালা বাসা থেকে মালপত্র বাহিরে ফেলে দেয়ার হুমকি দিচ্ছেন। এই মুহুর্তে ঢাকায় গিয়ে মালপত্র সরানো সম্ভব না, ভাড়া দেয়াও সম্ভব না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পরামর্শ মতে, নিকটস্থ থানায় সাহায্যের জন্য যোগাযোগ করলে, বাড়িওয়ালার ফোন না ধরার পরামর্শ দেন পুলিশ।

এদিকে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী নাদিয়া সুলতানা বলেন, মেস ভাড়া নিয়ে খুবই বাজে অবস্থায় আছি। গতকাল (মঙ্গলবার) কল দিয়ে হঠাৎ বলছে, আজকের মধ্যেই যেন গ্যাস ও বিদ্যুৎ  বিলসহ দুমাসের ভাড়া পরিশোধ দিই। কিন্তু এই পরিস্থিতি কিভাবে টাকা দেব। অথচ বারবার ফোন দিয়ে পীড়াপীড়ি করছে।

পুরান ঢাকার দক্ষিণ মুহসুন্দি এলাকার এক বাড়ির মালিক বলেন, করোনাভাইরাস এসে সবার জন্যই ক্ষতির কারণ হয়েছে। আমরা ঘর ভাড়া থেকে যেই টাকা আয় করি সেই টাকা দিয়েই সংসার চালানোসহ যাবতীয় কাজ করি। তাছাড়া নিয়মিত গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানির বিল তো দিতেই হয়। এখন যদি ঘরভাড়ার টাকা না পায় তাহলে আমার সংসার চলবে কি করে?

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মোস্তফা কামাল বলেন, আমাদের শিক্ষার্থী বেশি। তাদের হল সুবিধা না থাকায় সমস্যাও বেশি। যার কারনে স্থানীয়ভাবে আমরা ব্যবস্থা নিতে পারছি না। তবে ক্যাম্পাস খুললেই এই ব্যাপারে আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিবো। বেশি পরিমাণ শিক্ষার্থীর সমস্যার সমাধান রাষ্ট্রীয়ভাবেই করতে হবে। এর মধ্যেও যদি কোনো শিক্ষার্থী বাড়ি ভাড়া নিয়ে সমস্যা দেখা দেয়, আমাদের জানালে আমরা ব্যবস্থা নিবো। পার্শ্ববর্তী থানায় জানালে তারাও সহযোগিতা করবে।

উপাচার্য ড. মীজানুর রহমান বলেন, ক্যাম্পাস খুললেই আমরা বাসা ভাড়া সমস্যা নিয়ে কাজ করবো। এখন কোনো সমস্যা হলে প্রক্টরকে জানালে তিনি ব্যবস্থা নেবেন। আমরা এখন শিক্ষার্থীদের খাবার ও চিকিৎসা সংকট নিয়ে কাজ করছি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা