kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৫ আষাঢ় ১৪২৭। ৯ জুলাই ২০২০। ১৭ জিলকদ ১৪৪১

আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষাবাহিনী

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ জুন, ২০২০ ২২:০১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষাবাহিনী

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের মধ্যেই সম্প্রতি বাংলাদেশে মহাপ্রলয়ঙ্কারী ঘূর্ণিঝড় আম্ফান আঘাত হানে। ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলা করার লক্ষ্যে বিভিন্ন জেলার উপকূলীয় অঞ্চলের জনজীবন স্বাভাবিক করতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর কর্মকর্তা-কর্মচারী, ব্যাটালিয়ন আনসার, সাধারণ আনসার এবং ভিডিপি সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। 

ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের আঘাতে দুঃস্থ, হতদরিদ্র এবং অসহায় মানুষের ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও পুল, সাঁকো মেরামতের পাশাপাশি রাস্তার ওপর উপড়ে পড়া গাছপালা তাৎক্ষণিকভাবে সরানোর ব্যবস্থা করেছেন এ বাহিনীর সদস্যরা। বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষাবাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল কাজী শরীফ কায়কোবাদ মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে মানবিক মূল্যবোধের এক অনন্য দৃষ্টান্ত বলে উল্লেখ করেছেন। এই সকল মহৎ উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য তিনি বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও মাঠ পর্যায়ের সকল সদস্যকে অভিনন্দন জানান।

ঘূর্ণিঝড় পরবর্তীতে যশোরের মনিরামপুর ও শার্শা উপজেলার জনজীবন স্বাভাবিক করতে আনসার-ভিডিপি সদস্যবৃন্দ ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি মেরামত এবং রাস্তার ওপর উপড়ে পড়া গাছপালা সরিয়ে রাস্তা চলাচলের উপযুক্ত করে তোলেন। একই ধরনের কাজে অংশ নেন বাগেরহাট, সাতক্ষিরা, বরিশাল, ভোলা, চাঁদপুর, নড়াইল, বরগুনা, ঝালকাঠিসহ আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্ত অন্যান্য জেলার আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা ও সদস্যরা।

ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী জনজীবন স্বাভাবিক করতে উপকূলীয় জেলাসহ সমগ্র ক্ষতিগ্রস্ত জেলায় বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষাবাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট দুঃস্থ ও অসহায় পরিবারের নিকট আর্থিক উপহার বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। পটিয়া চট্টগ্রামে অবস্থানরত ১৫ আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্যরা আম্ফানে ৩০টি ক্ষতিগ্রস্ত গরিব পরিবারের ঘরের চালা মেরামত করে দিয়েছেন। এ ছাড়া ১৫ আনসার ব্যাটালিয়ন আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্ত একশটি পরিবারকে খাদ্য সহায়তা প্রদান করেছে। 

রাজশাহীর নওহাটায় ৪ আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্যরা আম্ফান মোকাবেলা মানবিক সহায়তার কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। ৪ আনসার ব্যটালিয়নের পরিচালক ফজলে রাব্বি আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহায়তার জন্য উপকূলীয় এলাকার প্রত্যন্ত অঞ্চলে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা গরিব, দুঃস্থ ও হতদরিদ্র মানুষের মাঝে বিতরণ করেছেন।

ব্যাটালিয়নের সদস্যরা তাদের ইফতারের জন্য বরাদ্দকৃত ৬০ হাজার টাকা, ব্যাটালিয়ন রেইজিং-ডের বরাদ্দকৃত ৬০ হাজার টাকা এবং নিজস্ব তহবিল হতে আরো ৩০ হাজার টাকা একত্রিত করে সর্বমোট ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় অঞ্চলের ৩০টি গরিব ও দুঃস্থ পরিবারের মাঝে বিতরণ করেছেন। 

ঘূর্ণিঝড় আম্ফান আঘাত হানার আগেই বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষাবাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল কাজী শরীফ কায়কোবাদ বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ মাঠপর্যায়ের সকল কর্মকর্তা ও সদস্যদের আম্ফান মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এছাড়া মহাপরিচালক উপকূলীয় এলাকার জনসাধারণের জান-মাল রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সকল কর্যক্রম গ্রহণেরও নির্দেশ দিয়েছিলেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা