kalerkantho

শুক্রবার। ২৬ আষাঢ় ১৪২৭। ১০ জুলাই ২০২০। ১৮ জিলকদ ১৪৪১

ইউনাইটেডে অগ্নিকাণ্ড: ফায়ার সর্ভিসকে অসহযোগিতার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৮ মে, ২০২০ ০৩:২৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইউনাইটেডে অগ্নিকাণ্ড: ফায়ার সর্ভিসকে অসহযোগিতার অভিযোগ

গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের পর তাৎক্ষণিকভাবে কেউ আগুন নেভানোর চেষ্টা করেনি। অগ্নিনির্বাপণে তাৎক্ষণিকভাবে কেউ তাদের সহযোগিতাও করেনি বলে ফায়ার সার্ভিস সূত্র দাবি করেছে। তাদের দাবি, হাসপাতালের আশপাশের লোকজন আগুন না নিভিয়ে ভিডিও করতে ব্যস্ত ছিলেন। আর তাদের এই কাণ্ডজ্ঞানহীনতা ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের বিস্মৃত করে।

ফায়ার সার্ভিসের হাতে আসা ভিডিওর বরাত দিয়ে সূত্র জানায়, ফায়ার ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগে থেকেই সেখানে উৎসুক জনতার ভিড় লেগেছিল। তবে সেই জনতা আগুন নেভাতে এগিয়ে না এসে বরং ভিডিও ধারণ করা নিয়েই ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরাই হতবাক হয়েছেন।

এমন ‘ভিডিওবাজ’ জনতার কাণ্ডজ্ঞান ঘিরে সমালোচনার ঝড় উঠেছে সংশ্লিষ্ট মহলে। ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বুধবার (২৭ মে) রাত ৯টা ৫৫মিনিটে আগুন লাগলে খবর পেয়ে তাদের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ করে তা নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন মাত্র ১০ মিনিট স্থায়ী হলেও এতে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা গেছেন পাঁচজন। 

এছাড়া প্রত্যক্ষদর্শী অনেকেই বলেন, চোখের সামনে আগুন জ্বলছে, সেটা নেভাতে এগিয়ে না গিয়ে ভিডিও ধারণ করতেই ব্যস্ত সবাই। এটা কিভাবে সম্ভব। এমনকি ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের তিনটি ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলেও কেউ তাদের সাহায্য করতে যাননি। বরং ফায়ার কর্মীদের অগ্নিনির্বাপণ কাজে বিঘ্ন ঘটে এসব ‘ভিডিওবাজ’ জনতার কারণে। 

ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, এর আগেও রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় আগুন লাগার ঘটনায় উৎসুক জনতার এমন কাণ্ড দেখা যায়। আগুন নেভাতে এগিয়ে না এসে ভিডিও ধারণে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তারা। এসব ভিডিও দিয়ে তারা কী করবে, এমনই প্রশ্ন জাগে মনে। অনেকে তো এমন অতি উৎসাহী যে ভিডিও ধারণ করার জন্য একেবারে আগুনের কাছাকাছি চলে আসে, এতে করে কাজেও বাধা সৃষ্টি হয়।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের ডিউটি অফিসার কামরুল আহসান বলেন, প্রাথমিকভাবে এসির বিস্ফোরণের কারণেই আগুন লেগেছে বলে জানা গেছে। আগুনে পাঁচজন মারা গেছেন। আগুন হাসপাতালের মূল ভবনের বাইরে তাঁবু গেড়ে স্থাপিত আইসোলেশন ইউনিটে লেগেছিল।

তবে হাসপাতালের কমিউনিকেশন অ্যান্ড বিজনেস ডেভলপমেন্ট বিভাগের প্রধান ডা. সাগুফা আনোয়ার সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, বৈদ্যুতিক শট-সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তিনি বলেন, আগুন লেগেছে হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন সেন্টারে। করোনা রোগীদের জন্য পাঁচ শয্যার একটি আইসোলেশন সেন্টার খোলা হয়েছে মূল ভবনের বাইরে একটি একতলা ভবনে। সেখানে চারজন রোগী ভর্তি ছিলেন। রাতে হঠাৎ সেখানে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা