kalerkantho

বুধবার । ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৩ জুন ২০২০। ১০ শাওয়াল ১৪৪১

সুজনের অনলাইন গোলটেবিল বৈঠক

সরকারের মধ্যে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সংকট দেখতে পাচ্ছি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৩ মে, ২০২০ ১৮:৩০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



সরকারের মধ্যে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সংকট দেখতে পাচ্ছি

নাগরিক সংগঠন সুজন-এর নির্বাহী সদস্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেছেন, সাধারণ মানুষের জীবনের বিনিময়ে এলিটদের রক্ষা করতে চাচ্ছি। অথচ দরকার ছিল, সবাই যাতে ঘরে থাকতে পারে এজন্য পর্যাপ্ত সহায়ত দেওয়া। সরকার এই দায়িত্ব এড়াতে চাচ্ছে বলে হার্ড ইমিউনিটির মতো নিষ্ঠুর জায়গায় চলে যাচ্ছি। সরকারের মধ্যে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার একটা সংকট দেখতে পাচ্ছি।

আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় করোনাভাইরাস মহামারিতে উদ্ভূত বর্তমান পরিস্থিতির পর্যালোচনা ও করণীয় বিষয়ে সুজন-এর উদ্যোগে অনলাইনে একটি গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। করোনাভাইরাসের মহামারি: বিরাজমান বাস্তবতা ও করণীয় শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে অধ্যাপক ফেরদৌস এসব কথা বলেন।

সুজন এর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকটিতে আলোচনার সূত্রপাত করেন সুজন-এর নির্বাহী সদস্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস। বিশেষজ্ঞ আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন আইডিসিআর-এর উপদেষ্টা ডাঃ মুশতাক আহমেদ ও ডাঃ এম এইচ লেনিন চৌধুরী। বৈঠকটিতে সুজন-সভাপতি এম হাফিজউদ্দিন খান, সহ-সভাপতি ড. হামিদা হোসেন, সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, কোষাধ্যক্ষ সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ, নির্বাহী সদস্য অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ, বিশিষ্ট সাংবাদিক  অজয় দাশগুপ্ত ও গোলাম মোর্তজা, ড. আসিফ নজরুল, বিশিষ্ট আইনজীবি ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়াসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিত্ব উপস্থিত ছিলেন।  

অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, সততাই হচ্ছে সংকট মোকাবিলায় প্রধান জায়গা। সততা, তথ্যের স্বাধীনতার উপর দুর্ভিক্ষের  একটা সম্পর্ক আছে। সংকটের সময় তথ্যের স্বাধীনতা বেশি থাকা দরকার, সেখানে আমাদের এখানে উল্টোটা ঘটছে। কার জীবনের বিনিময়ে কার জীবন আমরা রক্ষা করতে চাই সেটার প্রকটভাবে বাংলাদেশে আমরা দেখতে পাচ্ছি। সাধারণ মানুষের জীবনের বিনিময়ে এলিটদের রক্ষা করতে চাচ্ছি। অথচ দরকার ছিল, সবাই যাতে ঘরে থাকতে পারে এজন্য পর্যাপ্ত সহায়ত দেওয়া। সরকার এই দায়িত্ব এড়াতে চাচ্ছে বলে হার্ড ইমিউনিটির মতো নিষ্ঠুর জায়গায় চলে যাচ্ছি। সরকারের মধ্যে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার একটা সংকট দেখতে পাচ্ছি। আমাদের আশঙ্কা যে করোনাকালীন তথ্যের উপর নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম স্বাভাবিক সময়েও ব্যবহার করা হতে পারে, তাই এ ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। আমার মনে হয়, করোনা পরবর্তীতে পৃথিবীর দেশগুলো উন্নয়ন নিয়ে আরো বেশি আগ্রাসী হয়ে উঠবে। আরো বেশি পরিবেশ বিধ্বংসী হয়ে উঠবে। উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের তর্কে উন্নয়নের পক্ষে আরো বেশি সাফাই গাওয়া হবে।  আগামি দিনে এই বিষয়গুলোর ব্যাপারেও আমাদের নজর রাখতে হবে।     
   
ডা. মুশতাক আহমেদ বলেন, মহামারি মোকাবিলার প্রথম শর্ত হচ্ছে রোগ প্রতিরোধ করার স্বাস্থ্য কাঠামো আছে কিনা, স্বাস্থ্য সেবার  দেয়ার মতো যথেষ্ট স্বাস্থ্যকর্মী আছে কিনা সেটা নিশ্চিত করা। সারাদেশে জালের মতো বিস্তৃত স্বাস্থ্য কাঠামোই মহামারী থেকে আমাদের রক্ষা করতে পারে। বাংলাদেশের মানুষ ধুলাবালি খেয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করেছে, এমন কথার কোনো ভিত্তি নেই। সেটা হলে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এতো বাংলাদেশি মারা যেত না, বাংলাদেশিদের স্বাস্থ্যের অবস্থা খুব খারাপ। তাই ঘনবসতিপূর্ণ  এলাকাগুলোতে মহামারী ছড়িয়ে পড়ার আগেই স্বেচ্ছাসেবক তৈরি করে গণকমিটির মাধ্যমে ঘরে ঘরে স্বাস্থ্য সহায়তা পৌঁছে দিতে হবে।  

ডা. এম এইচ লেনিন চৌধুরী বলেন, আমরা সরকারের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়য়হীনতা লক্ষ করছি, বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা থেকে সেটা আমরা দেখতে পাচ্ছি। যখন নিয়ন্ত্রণ করা সময় তখন সবাইকে বাড়িতে যেতে দেওয়া হচ্ছে, আবার সেখানেও যাদের গাড়ি আছে তাদের জন্য সুবিধা করে দেওয়া। একটা সমন্বয়ের জায়গায় আসতে হবে অন্যথায় আমরা এই ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না।    
  
ড. আসিফ নজরুল বলেন, পরিকল্পনা হতে হয় তথ্যভিত্তিক। আমাদের এখানে তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা ও স¤পূর্ণতা নিয়ে বিরাট প্রশ্ন আছে। দ্বিতীয়ত আমাদের সুচিন্তিত কোনো পরিকল্পনা নেই। পরিস্থিতির চাপে পড়ে সরকার হুটহাট করে সিধান্ত নিচ্ছে, যা খুবই চিন্তার বিষয়।  
     
অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ বলেন, আমরা ত্রাণের কথা যত শুনি, চিকিৎসার কথা ততো শুনতে পাই না। গণস্বাস্থ্যের কীটের কী অবস্থা আমরা সেটা জানতে চাই।    

মানবাধিকারকর্মী রেজাউর রহমান লেনিন বলেন, পাঁচটা প্রতিষ্ঠানের উপর আমাদের নজরদারি রাখতে হবে। সেগুলো হলো: ওষুধ প্রশাসন, দুদক, তথ্য কমিশন, আদালত এবং মানবাধিকার কমিশন। সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার নিয়ে যদি আমরা টিকে থাকতে চাই তাহলে এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর ভ’মিকা রাখতে হবে।
    
নগর পরিকল্পনাবিদ রিয়াজ উদ্দীন বলেন, সরকার করোনা মোকাবিলায় কী নীতি গ্রহণ করেছে সেটা আমরা জানি না। সরকারের উচিত এটা প্রকাশ করা। সামনে শীত আসলে সংকরমণ সংক্রমণ আরো ভয়াবহ পর্যায়ে চলে যেতে পারে সেটি বিবেচনায় রাখতে হবে।  

সাংবাদিক গোলাম মোর্তোজা বলেন, সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে অপরিপক্ষতা, অদূরদর্শিতা  ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার কোনো আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। সরকার তথ্য প্রকাশ না হওয়ার জন্য অঘোষিত একটা নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে বলে মনে হচ্ছে। আমি মনে করি, আমাদের বাঁচার একমাত্র উপায় হচ্ছে গণস্বাস্থ্যের কীট অনুমোদন দিয়ে  লক্ষ লক্ষ টেস্ট করে আলাদা করে ফেলা।      

ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় ও পুলিশ প্রশাসনের মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই। সরকার তথ্য নিয়ন্ত্রণে গ্রেপ্তার, হয়রানী করছে, যার ফলে মানবাধিকারের অবস্থা অন্ত্যন্ত শোচনীয় হয়ে উঠেছে।   

সাংবাদিক অজয় দাশগুপ্ত বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে বেসরকারি স্বাস্থ্যখাতকে প্রমোট করে এসেছি, আমাদের এই পলিসি থেকে বের হয়ে আসতে হবে।  

ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, সচেতনা হচ্ছে এই ধরনের ভাইরাস মোকাবিলার একটা বড় জায়গা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, আমাদেরকে দীর্ঘদিন এই ভাইরাসের সাথে বসবাস করতে হতে পারে। তাই এই ভাইরাস সহিঞ্চু হিসাবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। 

এম হাফিজউদ্দিন খান বলেন, আশা করি আজকের আলোচনায় তুলে ধরার বিষয়গুলির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্ণপাত করবেন।  

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা