kalerkantho

রবিবার । ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৩১  মে ২০২০। ৭ শাওয়াল ১৪৪১

'অস্তিত্ব রক্ষার প্রয়োজনেই জীববৈচিত্র্য রক্ষা করতে হবে'

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ মে, ২০২০ ২০:১৩ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



'অস্তিত্ব রক্ষার প্রয়োজনেই জীববৈচিত্র্য রক্ষা করতে হবে'

মানুষকে তাঁর নিজের অস্তিত্ব রক্ষার প্রয়োজনেই জীববৈচিত্র্যকে সংরক্ষণ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন। তিনি বলেন, বন ও জীববৈচিত্র্য প্রতিবেশ ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বন ও বন্যপ্রাণী ক্ষতিগ্রস্ত হলে পরিবেশ, প্রতিবেশ ব্যবস্থা ও জীববৈচিত্র্যের ওপর নেমে আসে বিপর্যয়। আর জীববৈচিত্র্যের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হলে মানুষের অস্তিত্বের ওপরই আঘাত আসে। 

আজ শুক্রবার বন অধিদপ্তরের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবস-২০২০ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনলাইন আলোচনা সভায় তাঁর সরকারি বাসভবন থেকে যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন। এবারের আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘প্রকৃতিতেই রয়েছে আমাদের সমাধান’।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, জীববৈচিত্র্যের টেকসই উন্নয়ন মানবকল্যাণের জন্য অপরহার্য। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার প্রয়োজনে ধ্বংস হচ্ছে বন। সেসঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে প্রাচুর্যময় স্থলজ ও জলজ জীববৈচিত্র্যের ভাণ্ডার। তাই এখনই উপযুক্ত সময় এই প্রাচুর্য হারিয়ে ফেলার আগে তা রক্ষায় একযোগে কাজ করার। 

পরিবেশমন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশে প্রাণীবৈচিত্র্যের মধ্যে আছে ১৩০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী, ৭১১ প্রজাতির পাখি, ১৬৪ প্রজাতির সরীসৃপ, ৫৬ প্রজাতির উভচর, ৬৫৩ প্রজাতির মাছ। উদ্ভিদ প্রজাতির মধ্যে ১৯৮৮ প্রজাতির শৈবাল, ২৭৫ প্রজাতির ছত্রাক। কিন্তু জনসংখ্যার চাপ, প্রাকৃতিক সম্পদের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার, বন উজাড়, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস, দূষণ, বন্যপ্রাণী শিকার ও হত্যার ফলে পরিবেশ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য হুমকির মুখে পড়েছে। এক সময় বাংলাদেশে ১৭টি জেলায় বাঘ ছিল। কিন্তু বর্তমানে শুধুমাত্র সুন্দরবনে বাঘ সীমাবদ্ধ রয়েছে। ইতিমধ্যে হারিয়ে গেছে এক শিংওয়ালা গন্ডার, ময়ূর, বুনো গরু, বুনো মহিষ মিঠা পানির কুমিরসহ ৩১ প্রজাতির প্রাণী।

প্রধান বন সংরক্ষক আমির হোসাইন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনলাইন আলোচনায় অন্যদের মধ্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব জিয়াউল হাসান, অতিরিক্ত সচিব ড. মোঃ বিল্লাল হোসেন; পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. এ, কে, এম, রফিক আহাম্মদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. জসীম উদ্দিন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মনিরুল এইচ খান এবং প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু বক্তব্য দেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা