kalerkantho

বুধবার । ১১ কার্তিক ১৪২৮। ২৭ অক্টোবর ২০২১। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

সোনারগাঁওয়ের ইউএনওর আবেগঘন স্ট্যাটাস ফেসবুকে ভাইরাল

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৫ এপ্রিল, ২০২০ ১১:৪৪ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সোনারগাঁওয়ের ইউএনওর আবেগঘন স্ট্যাটাস ফেসবুকে ভাইরাল

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার বৈদ্যেরবাজার হাড়িয়া চৌধুরীপাড়া গ্রামে গত মঙ্গলবার বিকালে আবুবকর সিদ্দিক নামে ১৪ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রের শরীরে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়।

এ ঘটনার পর সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা পলাশ কুমার সাহা এবং হাসপাতালের একদল স্বাস্থ্যকর্মী ও চিকিৎসক ওই মাদ্রাসাছাত্রের বাড়ি যায়।

সেখানে তারা করোনায় আক্রান্ত হওয়ার বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ ও আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করেন। পরে ওই মাদ্রাসাছাত্রকে চিকিৎসার জন্য অ্যাম্বুলেন্সে করে রাজধানীর একটি হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

এ ঘটনার পর রাত ১১টা ১৮ মিনিটে উপজেলা প্রশাসন, সোনারগাঁও উপজেলার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইদুল ইসলাম একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস দেন।

স্ট্যাটাসটি ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়। ফেসবুকে দেয়া স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

আজ আমাদের বৈদ্যেরবাজারের আবুবকর নামে ১৪ বছর বয়সের এক কিশোরকে দিয়ে আমাদের নভেল করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ হলো। জানি না এর শেষ কোথায়!

আবুবকরের বাবার বুকের ভেতর থেকে ফুপিয়ে ওঠা কান্নার শব্দ এখনও কানে বাজছে। ছেলেকে বাঁচানোর জন্য তার মায়ের সকরুণ আহাজারি, বুক ভাসানো অশ্রুজল কোনো কিছুরই কোনো উত্তর দিতে পারিনি আমরা।

'আমার ছেলেটাকে বাঁচান স্যার' একজন মায়ের এমন আকুতির কী উত্তর হয়, সেটি সত্যি আমার জানা নেই। কী করে বুঝাই এ এক এমনি ভয়ঙ্কর মহাব্যাধি– জল, স্থল আর মহাকাশকে পদাবনত করা আমেরিকা-ইউরোপও যে এর কাছে মাথা নত করে।

মাত্র ১৪ বছরের এই দুরন্ত ছেলেটি যে কিনা কখনও একা থাকেনি, আজ তাকে একা একটি অ্যাম্বুলেন্সে পাঠিয়ে দেয়া হলো কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে।

বুক ফেটে যাচ্ছিল তার মায়ের, বাবার মাথায় যেন পুরো আকাশ ভেঙে পড়ছিল!

আর কী কখনও এই লক্ষ্মী ছেলেটা ফিরবে ঘরে? মায়ের কাছে ধরবে বায়না? আরকি কোনো দিন দেখা হবে আবুবকরের সঙ্গে তার বাবা-মায়ের? হয়তো হতেও পরে... আবার নাও হতে পারে।

হাত জোড় করে অনুরোধ করছি– প্রিয় সোনারগাঁওবাসী, ঘরে থাকুন। সৃষ্টিকর্তাকে ডাকুন, আপনার প্রিয়জনের জন্য হলেও সরকার ঘোষিত নির্দেশনা মেনে চলুন।



সাতদিনের সেরা