kalerkantho

শনিবার । ১৫ মাঘ ১৪২৮। ২৯ জানুয়ারি ২০২২। ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

রমনা বটমূলে বোমা হামলা মামলা : ছয় বছর ধরে ঝুলছে হাইকোর্টে

এম বদি-উজ-জামান   

১৩ এপ্রিল, ২০২০ ২২:১০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রমনা বটমূলে বোমা হামলা মামলা : ছয় বছর ধরে ঝুলছে হাইকোর্টে

উনিশ বছর আগে ২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখে রমনার বটমূলে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার চূড়ান্ত বিচার এখনও সম্পন্ন হয়নি। কবে নাগাদ এই বিচার সম্পন্ন হবে তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। ওই ঘটনায় করা দুটি মামলার মধ্যে হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতে রায় ঘোষিত হলেও হাইকোর্টে এখনও বিচার সম্পন্ন হয়নি। মামলাটি বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ ও বিচারপতি মুহাম্মদ মাহবুব উল ইসলামের হাইকোর্টে বিচারাধীন।

বিজ্ঞাপন

এ আদালতে এখনও শুনানি শুরু হয়নি। তবে তিনবছর আগে অন্য একটি আদালতে শুনানি শুরু হলেও তা আর সম্পন্ন হয়নি। এ অবস্থায় আদালত বদল হওয়ায় শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে মামলাটি।  

বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের নেতৃত্বাধীন আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে দায়িত্বরত ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. বশির উল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, মামলাটি এ আদালতে বিচারের জন্য রয়েছে। এখনও শুনানি শুরু হয়নি। করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে আদালত বন্ধ। তাই আশা করি আদালত খোলার পর অচিরেই শুনানি শুরু হবে। আর বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলা এখনও ঢাকার নিম্ন আদালতে বিচারাধীন।  

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, হত্যা মামলায় প্রায় ছয়বছর আগে ২০১৪ সালের ২৩ জুন ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত মুফতি হান্নানসহ আটজনকে মৃত্যুদণ্ড ও ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়ে রায় ঘোষণা করে। যদিও সিলেটে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা মামলায় মুফতি হান্নানের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে।

এ মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর আসামিরা হলো-আকবর হোসেন, আরিফ হাসান সুমন, সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুর ভাই মো. তাজউদ্দিন, হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম বদর, আবু বকর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার, আবদুল হাই ও শফিকুর রহমান। তাদের মধ্যে তাজউদ্দিন, জাহাঙ্গীর আলম বদর, আবু বকর, শফিকুর রহমান ও আবদুল হাই পলাতক। আর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলো-শাহাদাত উল্লাহ জুয়েল, সাব্বির, শেখ ফরিদ, আব্দুর রউফ, ইয়াহিয়া ও আবু তাহের। এরা সবাই নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের নেতা-কর্মী। এ মামলার আসামি মুফতি হান্নানের ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় তাঁর নাম মামলা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

নিম্ন আদালতে রায়ের পর আসামিদের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য হাইকোর্টে পাঠানো হয় ডেথ রেফারেন্স। একইসঙ্গে মুফতি হান্নানসহ কারাবন্দি আসামিরা আপিল করে। উভয় আবেদনের ওপর ২০১৭ সালের ৮ জানুয়ারি বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানি শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষ এ মামলায় তৈরি পেপারবুক থেকে শুনানি শুরু করে। কিন্তু ওই আদালতের বিচারিক এখতিয়ার বদল হওয়ায় মামলার বিচার থমকে গেছে।

২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল রমনা বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলায় ১০ জন নিহত হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তদন্ত শেষে ২০০৮ সালের ৩০ নভেম্বর মুফতি হান্নানসহ ১৪ জনকে আসামি করে হত্যা সংক্রান্ত দন্ডবিধি ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে পৃথক দুটি অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এরমধ্যে নিম্ন আদালতে হত্যা মামলার বিচার শেষ হয়েছে। আর বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলা এখনও নিম্ন আদালতে বিচারাধীন।  



সাতদিনের সেরা