kalerkantho

শনিবার । ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৬ জুন ২০২০। ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

নিম্নআয়ের মানুষের ওপর করোনার প্রভাব নিয়ে ব্র্যাকের জরিপ

১৪ ভাগ মানুষের ঘরে খাবার নেই

আগের তুলনায় চরম দারিদ্র্য বেড়েছে ৬০ শতাংশ মানুষের

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১০ এপ্রিল, ২০২০ ১৮:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



১৪ ভাগ মানুষের ঘরে খাবার নেই

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও ঘরে থাকার পরামর্শ মানতে গিয়ে নিম্নআয়ের মানুষের আয় অনেক কমে গেছে। এই পরিস্থিতিতে চরম দারিদ্র্যের হার আগের তুলনায় বেড়ে গেছে ৬০ শতাংশ। ১৪ ভাগ মানুষের ঘরে কোনো খাবারই নেই। নিম্নআয়ের মানুষের ওপর করোনাভাইরাসের প্রভাব নিয়ে ব্র্যাকের পরিচালিত এক জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে। গত ৩১ মার্চ থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের ৬৪ জেলায় ২৬৭৫ জন নিম্নআয়ের মানুষের ওপর এই জরিপ চালানো হয়।

ব্র্যাকের অ্যাডভোকেসি ফর সোশ্যাল চেইঞ্জ প্রোগ্রাম পরিচালিত এই জরিপে দেখা যায়, অংশগ্রহণকারী ২৬৭৫ জনের মধ্যে ৩৬ শতাংশ মানুষের মধ্যে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে কী ধরণের ব্যবস্থা অবলম্বন করতে হবে তার পরিষ্কার ধারণা নেই। এমন কী করোনা সংক্রমণের লক্ষণ (জ্বর কাশি শ্বাসকষ্ট) দেখা দিলে হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সরাসরি চলে না আসার যে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে সে বিষয়েও ধারণা নেই অধিকাংশের। প্রতিবেশীর করোনাভাইরাসের লক্ষণ দেখা দিলে তাঁকে শহরের হাসপাতাল বা সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ দেবেন বলে জানিয়েছেন ৫৩ শতাংশ উত্তরদাতা। আর করোনাভাইরাসের হেলপলাইনে ফোন করার কথা বলেছেন মাত্র ২৯ শতাংশ মানুষ। 

জরিপে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের প্রেক্ষিতে সুনির্দিষ্ট কিছু সুপারিশ করা হয় প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে। ব্র্যাকের সুপারিশে বলা হয়, টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর মাধ্যমে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে এর ব্যবস্থাপনার জন্য করণীয় সম্পর্কে পৃথক, বৃহৎ মাত্রার প্রচারাভিযান চালাতে হবে। সামাজিক দূরত্বের পদক্ষেপ সঠিক বাস্তবায়নের জন্য দেশব্যাপী খাদ্য সংকটে পড়া মানুষের কাছে অতি শীঘ্র খাদ্য পৌঁছাতে না পারলে তাঁদের ঘরে রাখা সম্ভব হবে না বলে জানানো হয়। জীবিকা অর্জনে তাঁরা বাইরে বের হতে বাধ্য হবেন। শহর থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ গ্রামে ফিরে গেছেন যাঁরা গ্রামকেন্দ্রিক সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতাভুক্ত নন। তাঁদের কাছে জরুরি খাদ্যসামগ্রী পৌঁছানোর আশু ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। 

এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি বোরো ধান কাটা শুরু হবে যা চলবে মে মাসের শেষ পর্যন্ত। এ সময় কৃষক যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন এবং সঠিক দাম পান সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে আগাম ধান ক্রয় অভিযান পরিচালনা করা যেতে পারে। গ্রাম থেকে শহরে সবজি, দুধ-ডিম-মাছসহ বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য পরিবহন তিগ্রস্ত হওয়ার ফলে গ্রামে এসবের দাম কমে গেছে। খাদ্যসরবরাহ চেইন যাতে স্বাভাবিক থাকে সেজন্য বিশেষ ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। এছাড়া সংকটপরবর্তী সময়ে গ্রামাঞ্চলের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ক্ষতি পুষিয়ে পুনরায় ব্যবসা চালু করার জন্য অর্থায়নসহ অন্যান্য সহযোগিতা পৌঁছানোর পদ্ধতি-প্রক্রিয়াও আগাম পরিকল্পনা করা উচিত।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা